কিশোর আসক্তি, নজরদারি জরুরি

মুশফিক হোসাইন

19

আমার বন্ধু আবদুল হাই, মহল্লা সর্দার। বাবার খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে বিচার আচার নিয়ে প্রায়শ ব্যস্ত থাকে। কাজটি মহৎ কিন্তু এতে করে নিজের মূল্যবান সময় ও শ্রমের অপচয় যেমন হয় তেমনি সুনামের চেয়ে বদনাম কপালে জোটে বেশি। নিজের ব্যবসা কাজ কর্ম সিঁকে তুলেও সে এতে তৃপ্তি পায়। সমাজের, সংসারের উপকার হয়। হাই মাঝেমধ্যে আড্ডা দিতে এলে, আফসোস করে বলে; ‘জান না মুশফিক, সমাজের ঘর সংসার ব্যাকগুন ভাংগি যারগই। বিয়া শাদি ন টিকের। চারিমিক্কা খালী ঘর ভাঙ্গনের শব্দ। ডিভোর্স-ডিভোর্স।’ হায় হায় করে হাই বলে ’এর কারণ কি জান না-মোবাইল-স্মার্ট ফোন। পোয়া মাইয়া বেয়া¹ুন স্মার্ট ফোন লইএনে পরি থাকের। মাইয়া পোয়াক্কল ডিভোর্স দিয়েনে ট্যায়া হাতাই লইয়েনে আর একজনের ল সংসার করের।’ আবদুল হাই এর আকুতি দেখে এ নিয়ে লেখার চিন্তা করতে থাকি।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ২০৪১ সাল পর্যন্ত কিশোর-কিশোরী এবং যুব বয়সের জনসংখ্যার আধিখ্য বাড়তেই থাকবে। এদের যদি যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায় তবে কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠি দ্বারা দেশের উন্নয়ন দ্রæততার সাথে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আর অনেকটা উপেক্ষিত এই জনগোষ্ঠির প্রতি যথাযথ নজর না দিলে এরাই মাদক জঙ্গিবাদ এবং পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে অপরাধে জড়িয়ে যাবে। যার প্রভাব হবে খুবই ভয়াবহ।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর ম্যান অ্যান্ড ম্যাসকুলিনিটি স্ট্রাডিজের (সিএমএমএস) যৌথ উদ্যোগে ‘ব্রেভম্যান ক্যাম্পেইন’ এর অংশ হিসাবে স্কুল পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তি এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় বের করতে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় উঠে আসে যে, দেশের স্কুলগামী কিশোরদের ৬১ দশমিক ৬৫ শতাংশই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। (তথ্য দৈনিক পূর্বদেশ ৩০ জুলাই ২০১৮) সিএমএমএস ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত গবেষণা কর্মটি চলে। রংপুর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা,নাটোর ও কক্সবাজারের স্কুলগামী ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৯০০ ছেলের সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে গবেষণার ফলাফল স্থির করা হয়। তাঁদের গবেষণায় উঠে আসে যে, ‘১৮ বছরের নিচে স্কুলগামী ছেলেদের মধ্যে শতকরা ৮৬.৭০ ভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। আর ৬১.৬৫ ভাগ পর্নোগ্রাফি দেখে এবং ৫০.৭৫ ভাগ ছেলে ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি খোঁজে। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছাত্রদের শতকরা ৬৩.৬৫ ভাগ জানায় তারা মোবাইলেই প্রথম পর্নোগ্রাফি দেখে। স্কুলগামী এই কিশোররা মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখে তাদের শতকরা ৭০.৫৫ ভাগ মেয়েদের শারীরিকভাবে উত্ত্যক্ত করতে চায় বলে গবেষণায় উঠে আসে।
গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক সংলাপের আয়োজন করা হয় ২৯ জুলাই ২০১৮ তারিখে। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি তাঁর ভাষণে ‘সমাজ থেকে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে পুরুষদের কাউন্সিলিং করার আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই নারীদের পরামর্শ দেই, নারী তুমি সচেতন হও। কিন্তু পুরুষ সন্তানদের কাউন্সিলিং করিনা। লিঙ্গ বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পুরুষদের কাউন্সিলিং অবশ্যই করাতে হবে, পুরুষ সমাজকে সচেতন করতে হবে। সচেতন করতে হবে নারীর অধিকার বিষয়ে।’ সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় রোধে নারী-পুরুষকে একসাথে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইন্টারনেট এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটের সুবধিার কারণে আমরা ভালো-মন্দ সবকিছু দেখার সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু গণতন্ত্র, গণমাধ্যম এবং সাইবার জগতের সাথে আমাদের খাপ খাওয়ানোটা রপ্ত করতে হবে’। ছেলে মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালের শিক্ষা দেওয়ার উপরও জোর দেন তথ্যমন্ত্রী।
গবেষকরা জানান যে, একটি শিশুর শতকরা ৫০ ভাগ মানসিক গঠন হয় গর্ভাবস্থায়ই। তাই উন্নত শিশু এবং উন্নত জাতি গড়ে তুলতে নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবার আগে প্রয়োজন আমাদের মনস্তাত্তি¡ক অবস্থার পরিবর্তন। আর তা শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই। এই পরিবর্তনের জন্য পরিবার, কমিউনিটি ও রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়াতে হবে বিনিয়োগ।
কিশোর কিশোরীদের কথা শোনার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কিশোরদের জাগ্রত করা সম্ভব নয়। যার যা দায়িত্ব তা এড়িয়ে না গিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এখন প্রায়ই শোনা যায় যে, অভিভাবকরা বলেন, ছেলে মেয়েরা কথা শোনে না, অন্যদিকে ছেলে মেয়েরা বলছে, বাবা-মা তাদের দিকে নজর দিচ্ছে না। এই ধরনের বেøম গেমিং বা পিলোপাসিং চলতে থাকলে কি সমস্যার সমাধান হবে? একই কথা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উক্ত সংলাপে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেন বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, যৌন হয়রানি, অপুষ্টি, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় একটির সঙ্গে অন্যটি সম্পর্কযুক্ত। তাই মাঝখান থেকে একটি সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নিলে সমস্যার সমাধান হবে না।
উক্ত সংলাপে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজের মতে, কিশোর-কিশোরীদের প্রজণন ও যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না জানানো হলে তারা বিপদে পড়বে। এর প্রভাবে রাষ্ট্র আরও বেশি বিপদে পড়বে। কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। গ্রামীণ ফোন লিমিটেডের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন বলেন, সন্তানকে ইন্টারনেট থেকে দূরে রাখা সম্ভব না হলেও তারা কোন সাইটে যাচ্ছে তার নজরদারি করতে হবে অভিভাবকেই। বর্তমান যুগের স্মার্ট ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি অভিভাবকদের স্মার্ট প্যারেন্টিং শিখতে হবে। বক্তাদের মতে কৈশোরের সংজ্ঞা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই শিক্ষক, অভিভাবক তাঁদের নিজেদের কৈশোরের নৈতিকতা বা মানদÐ অনুযায়ী বর্তমানের কিশোর-কিশোরীদের বিচার করতে চাইলে ভুল করবেন।
ইউনিসেফের নেহা কপিল বলেন, এই জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নত করতে হলে পরিবারের পাশাপাশি ইমাম, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেন না এই প্রতিনিধিরাই পরিবার এবং কমিউনিটি টিকে সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করতে পারে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ঐ সংলাপে পাঁচজন কিশোর-কিশোরী বক্তব্য দেন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের সদস্য হৃদিতা হোসেন বলে ‘আমরা বড়দের কাছ থেকে মনযোগ চাই। নেতৃত্ব দিতে চাই এবং সিদ্ধান্ত নিতে চাই। অথচ বড়রা তাঁদের সুবিধা মতো একবার বলেন, তোমরা এখন অনেক বড়, আবার বলেন, তোমরা কিন্তু খুব বেশি বড় হওনি। ফলে আমরা বিভ্রান্তিতে থাকি।’ উক্ত ফাউন্ডেশনের সদস্য আরিফুল ইসলামের মতে বিভিন্ন কুসংস্কার কৈশোরের জয়গানের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা। ব্রাকের কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য স্মৃতি আক্তার জানায়, তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ব্রাকের কর্মী এবং নিজে এ বিয়ে ঠেকিয়েছে। মেয়েরাও যে পরিবারের হাল ধরতে পারে সে ধারনা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অন্যান্য কিশোর-কিশোরীরা সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করে। (তথ্য সূত্র, প্রথম আলো ৩০ জুলাই ১৮) কেন কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ সমাজের এই অবস্থা বিভিন্ন গবেষণায় তা উঠে এলেও আমাদের বিশেষ করে অভিভাবকদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ^ এখন অনেক এগিয়ে। উন্নতির এই ধারা আন্তর্জাতিকতার কারণে সারা বিশ^ময় ছড়িয়ে পড়ছে। এখন অজপাড়া গায়ের কোন মা গোয়ালঘরে কিংবা হেঁসেলে বসে তার সন্তান, স্বামী বা নিকট আত্মীয়দের সাথে অনায়াশে কথা বলতে পারেন। সেই সুযোগটা এনে দিয়েছে প্রযুক্তি। আর এই প্রযুক্তির মায়াজালে আটকা পড়ে আছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না হওয়ার কারণে অপসংস্কৃতি দিন দিন গ্রাস করে নিচ্ছে ভবিষ্যত প্রজন্মের মেধা ও মনন। যার ফলে জিপিএ প্রাপ্তি বাড়লেও প্রকৃত জ্ঞান ও মনন কী বাড়ছে? মানসিক ও শারিরীকভাবে কি যথাযথভাবে বেড়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম?
অথচ আমাদের সময় অসংখ্য খেলার মাঠ ছিল, দিঘি পুকুর ছিল। খেলাধুলা, সাঁতার কাটা ছিল প্রতিদিনের সূচি। পড়ালেখার পাশাপাশি শখ হিসাবে গড়ে উঠেছিল বইপড়া, ডাক টিকেট সংগ্রহ ও খেলাধূলা করা। আর এখন সে সুযোগও নাই, সে শখও নাই। সবাই ছুটছে জিপিএ এর পেছনে। যেমন ছাত্র তেমনি অভিভাবক। তাদের হাতে সময় নেই-তারা এখন ব্যস্ত ভিডিও গেম, মোবাইল বা ট্যাবে গেম, রাইম শোনা, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইভারসহ নানা ধরনের প্রযুক্তির নেশায়। অভিভাবকদের সময় নেই তদারকী করার। দেখা যায় অধিকাংশ অভিভাবক নিজেরাই টিভিতে সিরিয়াল, কিংবা স্মার্ট ফোনে ব্যস্ত। যার ফলে তাঁদের সন্তানরা এমনভাবে প্রযুক্তির নেশায় আসক্ত হয়ে বিভ্রান্তিকর পথে পা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা থেকে ফেরার সুযোগ নেই। ধূমপান, মদ্যপান ও ড্রাগস আসক্তির মতো স্মার্টফোনের আসক্তি আরও ভয়াবহ হিসাবে প্রতিভাত হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে নতুন প্রজন্মকে মানসিক বিকারগ্রস্ততার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের প্রজন্ম ফেবুকের ঘোরে ও মায়ায় আবদ্ধ। এতে করে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়ালেখায় মনোযোগও দিতে পারছে না। নোটিফিকেশনের শব্দ তাকে উতলা করে তুলছে। আর তাই ক্ষণে ক্ষণে ইনবক্স চেক করছে। রাতেও তারা ঘুমাতে পারে না। সারারাত জেগে চলে চ্যাটিং। এতে করে মানসিকভাবে এবং শারিরীকভাবে তারা ক্ষত্রিগ্রস্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগে তারা এতে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে যে, এখন তারা পুরোপুরি অসামাজিক। প্রায়শ সংবাদ পত্রে এনিয়ে দুঃখজনক সংবাদ ও মৃত্যুর সংবাদ আসে। আরও আসবে।
তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের একটি বড় অংশ নিজেদের মধ্যে একটি নেট কেন্দ্রিক আলাদা জগৎ সৃষ্টি করে সারাক্ষণ তার মাঝে ডুবে আছে। এভাবেই একটি প্রজন্ম হিম অন্ধকার জগতে চলে যাচ্ছে। এদের মেধা মনন ও সৃষ্টিশীলতা থেকে সমাজ কি আশা করতে পারে? রাষ্ট্রের এক অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের অজান্তেই ঘটে যাচ্ছে। রাষ্ট্র এবং অভিভাবকরা এখনই সচেতন হতে হবে। প্রশ্ন হলো এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী? পাহাড় প্রমাণ সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও আমি আশাবাদী। এর শতভাগ সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি যুগপৎ এগিয়ে যাচ্ছে। এর বিকাশের সাথে মানব সভ্যতার বিকাশের প্রসঙ্গটিও জড়িত। নেট নির্ভর প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও বিকশিত হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার দূষণীয় নয় তবে তাকে ব্যবহার করতে হবে সৃজনশীলতার মাঝে। এখন গুরু বুড়া সবাইর হাতে স্মার্ট ফোন। আমাদের ভাবতে হবে কার কতটুকু প্রয়োজন। এর ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জন্য অন্যমাত্রায়। অভিভাবকদের জন্য আর এক প্রেক্ষাপটে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার শুধুমাত্র তার জ্ঞান অর্জন ও বিনোদন কেন্দ্রিক করা বাঞ্চনীয়। রাতে ঘুমাবার সময় তাদের হাতে তা না দেয়া জরুরী। যেহেতু মোবাইল অপারেটররা রাতে কথা বলার জন্য বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছে। সেহেতু রাতের কাজকারবারই আলাদা। মোবাইল ও নেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ই ব্যাঘাত করছে তা নয়। বরঞ্চ তারা যৌনতা ও অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে যুগপৎ শিক্ষাঙ্গন ও সমাজে যৌন অপরাধ বাড়ছে। সমাজের শৃঙ্খলা হ্রাস পাচ্ছে।
সরকারের উচিত হবে শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ প্রযুক্তি সেবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। তারা যেন কোনভাবেই অন্ধকার জগতে প্রবেশ করে তাদের অনিন্দ্য সুন্দর জীবনটা ধ্বংস করে না দিতে পারে-সে দিকে প্রশাসনসহ অভিভাবকদের তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখা জরুরি। তারা যেন সুন্দর মন;মনন ও মানসিকতা নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে সে দিকে আমাদের তথা অগ্রজদের সহায়ক ভূমিকা ও পদক্ষেপ অতি জরুরি। আপন পর সন্তানটি কার সে কথা না ভেবে আসুন সোনার দেশে সোনার মানুষ গড়ে তুলি।

লেখক : কবি নিসর্গী ও ব্যাংক নির্বাহী (অব.)