কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি চীনের

2

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কাশ্মির সংকট ও চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, তিনি কাশ্মির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সমর্থন করবে তার সরকার। কাশ্মির ইস্যুতে সমর্থন দেওয়ার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানায় ইসলামাবাদ। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মিরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল পাস হয়। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। জারি করা হয় বিধিনিষেধ। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শত শত নেতাকর্মীকে। সেখানে উন্নয়নের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এটা দেশটির ‘সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়’ ভারতের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও পাকিস্তান বলছে, সেখানে কাশ্মিরিদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই ইস্যুতে সব সময় ইসলামাবাদকে সমর্থন দিয়ে আসছে চীন। শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনের প্রেসিডেন্টের ভারত ও নেপাল সফরকে সামনে রেখে স¤প্রতি বেইজিং সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বেতার মাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইমরান খানের সঙ্গে পার্লামেন্টের সিনিয়র সদস্য ও সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। চীন সফর নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এতে জানানো হয়, পাকিস্তানের দুঃসময়ে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং কাশ্মির সংকটে তাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি ও তার সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইমরান খান।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, তিনি কাশ্মির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সমর্থন করবে তার সরকার। এ সময় কাশ্মির সংকটকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।