কাশিয়াইশ ইউনিয়নের প্রতিনিধি সভা পর্যটন ও শিল্পঞ্চলের মাধ্যমে আরো পরিবর্তন হবে : এমপি সামশুল হক

পটিয়া প্রতিনিধি

7

সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল খ্যাত পটিয়ার কাশিয়াই ও জিরির সেই গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের স্বপ্ন বদলে গেছে। এক সময় বাসিন্দাদের স্বপ্ন ছিলো সড়ক আর সেতু নির্মাণে মাধ্যমে পটিয়ার মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হবে গ্রামগুলো। গত ১০ বছরে পটিয়া সংসদীয় আসনের অধিকাংশ উন্নয়ন হয়েছে এ গ্রামগুলোকে ঘিরে। তৈরি হয়েছে বড় বড় রাস্তা, বেড়িবাঁধ, সেতু, কালভার্ট আর সংযোগ সড়ক। তাই এখন এ গ্রামের মানুষগুলোর মাঝে স্বপ্নের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন ঘটেছে। এসব গ্রামে শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে এবং গ্রামের লোকজনের বেকারত্ব দুর হবে এমন স্বপ্ন দেখেন গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামের লোকজন জানান, জিরির উত্তর দেয়াং, কৈগ্রাম, পশ্চিম মালিয়ারা, দক্ষিণ মালিয়ারা, নিশ্চিন্তাপুর, ভান্ডারগাঁও ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বাকখাইন এলাকায় সাত বছর আগেও তাদের গ্রামে কখনো গাড়ি চলাচল করতে দেখেননি। গত ২ বছর ধরে গাড়ি চলাচল করছে। সে পর্যন্ত লোকজনকে নির্ভর করতে হয়েছে বাঁশের সাকোঁ আর নৌকার উপর। অবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় লোকজনের মাঝে স্বপ্নেরও পরিবর্তন ঘটেছে। এ অঞ্চলের সার্বিক অবস্থার আরো উন্নয়ন হবে বলে জানিয়েছেন পটিয় আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরী। এলাকাটি হবে পর্যটন ও শিল্প এলাকা। গত সোমবার রাতে উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এ কথা বলেন। জানা গেছে, উপজেলার কাশিয়াইশ ইউপিভূক্ত বাকখাইন গ্রামে কোন সড়ক যোগযোগ ছিল না দীর্ঘদিন থেকে। ১৩ টি খালের উপর ছিলো ১২ টি বাঁশের তৈরি সাকোঁ। আনোয়ারা হয়ে সাত কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করে এ গ্রামের লোকজনকে যাতায়াত করতে হতো। লোকজন জানান, গ্রামটি পটিয়ায় হলেও যেতে হয় আনোয়ারা এলাকা হয়ে। পশ্চিম পটিয়ার দৌলতপুর থেকে বটতল নামক নৌঘাটে গিয়ে বোট বা নৌকা যোগে শিকলবাহা খাল দিয়ে আনোয়ারা হয়ে বাকখাইন ও জিরির কয়েকটি গ্রামে যাতায়াত করতে হতো। জিরি আর বাকখাইন গ্রামে রাস্তার অভাবে অসুস্থ ও বৃদ্ধরা জীবণের শেষ প্রহর হিসাব করতের ঘরের দরজায় বসে। ঘরের অসুস্থ ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব ছিলো না। প্রয়োজনের সময় নৌকা পর্যন্ত পাওয়া যেত না। রাস্তা না থাকায় বাকখাইনে কোন রিক্সা কিংবা সাইকেল পর্যন্ত ছিলো না। স্বাভাবিক জোয়ারে বাকখাইন ও জিরির অধিকাংশ এলাকার মেঠো পথগুলো পানিতে ডুবে যেত। অস্বাভাবিক জোয়ার হলে ঘরে বসবাস করা দুস্কর হয়ে উঠত। ঘরের লোকজন যাতায়াত করতেন জোয়ার ভাটার উপর হিসাব নিকাশ করে। প্রতি বছরে জোয়ার ভাটায় নতুন নতুন খালের সৃষ্টি হতো এসব গ্রামে। বাকখাইন আর জিরির এসব গ্রামে নেতাদের দেখা যেতো ভোটের সময়। নেতারা ভোটের সময় এলাকাবাসীকে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাতো। ভোটের পর আর কাউকে দেখা যেতো না। লোকজনের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে পটিয়া আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরী ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহারে সেতু নির্মাণসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা প্রদানের অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকার রক্ষা করতে তিনি পটিয়া আসনের জন্য বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ পিছিয়ে থাকা এসব গ্রামের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেছেন। নির্মাণ করেছেন সেতু, ব্রিজ, কালভার্ট, স্লুইচ গেট, বেড়িবাঁধ আর নতুন নতুন রাস্তা। এর ফলে পটিয়া আসনের এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দ্বীপাঞ্চলগুলো আজ পরিণত মডেল গ্রামে। জিরি ও বড়উঠান ইউনিয়নকে সংযুক্ত করে নতুনভাবে শুরু হওয়া সেতৃটি নির্মিত হলে এসব অঞ্চল শিল্প এলাকায় পরিণত হবে। গত সোমবার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের এক প্রতিনধি সভায় এমপি সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ১০ বছরের উন্নয়নের ছোঁয়ায় এখন সব বাঁশের সাকোঁ পাকা সেতুতে পরিণত হয়েছে। ইহা ছাড়াও ১০ কিলোমিটার বেড়িঁবাধ নির্মাণের ফলে জোয়ারের পানি থেকে এলাকাবাসী রক্ষা পেয়েছে। এলাকাটি এখন শহরে রূপান্তর হয়েছে। কাশিয়াইশ ইউনিয়নে ডিজিটাল ডাকঘর, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, সোলার স্থাপন, প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় গুলোতে নতুন ভবন, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কাশিয়াইশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জহির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফোরকান চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকম সামশুজ্জমান চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য দেবব্রত দাশ দেবু, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মেয়র হারুনুর রশিদ, কাশিয়াইশ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, আশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমএ হাশেম, চেয়ারম্যান আবদুল খালেক, আজিমুল হক, আবদুল্লাহ আল হারুন, ছগির আহমদ চৌধুরী, মোজাম্মেল হোসেন রাজধন, এম হোসাইন রানা, মৃনাল কান্তি বড়ুয়া, রবিউল আলী রবি, এম ইদ্রিস চৌধুরী অপু, শরৎ সিকদার পিন্টু, স্বপন শীল, মহিলা নেত্রী মাজেদা বেগম, গোলাম রাব্বানী, রক্তিম মজুমদার, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি নুর আলম ছিদ্দিকী, উপজেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক এম এ রহিম, ইউনিয়ন যুবলীগ আহবায়ক জহির উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম খান, কোরবান আলী, সাজ্জাতুল বশর, মোহাম্মদ এসকান্দর, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, কাশিয়াইশ ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শহিদুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম প্রমুখ।