বাজেট : ২০১৯-২০

‘কালো টাকা সাদা’ করার সুযোগ

40

অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে নতুন অর্থবছরের বাজেটে। অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, সেখানেই এ ঘোষণা এসেছে।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে পণ্য বা সেবা উৎপাদন থেকে অর্জিত আয়কে দশ বছরের জন্য বিভিন্ন হারে কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে অপ্রদর্শিত আয় থেকে বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎসের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিলে ওই অর্থের উৎস সম্পর্কে আয়কর বিভাগ থেকে কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না। এ সংক্রান্ত একটি বিধান আয়কর অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে নির্দিষ্ট হারে কর দেওয়া হলে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় এবং দালান নির্মাণে বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস সম্পর্কেও কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না।
তবে এই হারটি অত্যধিক হওয়ায় করদাতারা খুব একটা সাড়া দিচ্ছেন না। ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় এবং দালান নির্মাণে বিনিয়োগ স্বপ্রণোদিতভাবে আয়কর নথিতে প্রদর্শনে করদাতাগণকে আরও আগ্রহী করার জন্য এ সংক্রান্ত বিদ্যমান কর হার হ্রাস করার প্রস্তাব করছি।
খবর বিডিনিউজের
করের ওই হার কমে কত হবে, তার উল্লেখ অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় না থাকলেও তিনি আশা করছেন, এ হ্রাসকৃত করহারের সুযোগ নিয়ে করদাতারা ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় এবং দালান নির্মাণে তাদের অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ অতি দ্রুত আয়কর নথিতে প্রদর্শন করবেন এবং স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিতভাবে করের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করবেন।
বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশে ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কোনও প্রশ্ন ছাড়া ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় এবং দালান নির্মাণে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া আছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা
বাড়বে ২ হাজার টাকা

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী (মাসিক ভাতা) ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের ২ লাখ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাদের উৎসব ভাতা (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) ১০ হাজার টাকা, নববর্ষ ভাতা (পয়লা বৈশাখ) ২ হাজার টাকা এবং বিজয় দিবস ভাতা (১৬ ডিসেম্বর) ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে, যা আগামী বাজেটেও অপরিবর্তিত থাকবে।-খবর বাংলা ট্রিবিউনের
২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ানো সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বেষ্টনীতে আরও ১৩ লাখ মানুষকে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বেষ্টনীর আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৭৪ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮৭ লাখে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার পর জাতীয় সংসদে উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট উপস্থাপন শেষ করেন।
‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক এ বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

সার্বজনীন পেনশন
শিগগিরই
ইউনিভার্সাল
পেনশন অথরিটি

সবার জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে চালু করতে একটি ‘ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি’ শিগগিরই গঠন করা হবে বলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি একথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি পেনশনারগণ দেশের সমগ্র জনগণের একটি ভগ্নাংশ মাত্র। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসহ দেশের সমগ্র জনগণের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে চালু করার লক্ষ্যে একটি ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি শিগগিরই গঠন করা হবে’।
আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত সবার জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ চলতি অর্থ বছরে শুরু করতে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতবারের বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় মুহিত বলেছিলেন, ‘সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত সকল কর্মজীবী মানুষের জন্য একটি টেকসই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ এ অর্থবছরেই শুরু করার আশা রাখি। অন্ততঃপক্ষে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করার ইচ্ছা আছে’। খবর বিডিনিউজে

বছরে ৫০ লাখ
টাকা পর্যন্ত
লেনদেন ভ্যাটমুক্ত

প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল নতুন ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইনের বাস্তবায়ন। এ আইন অনুযায়ী বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন ভ্যাটমুক্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে এ আইন কার্যকর করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বাজেট প্রস্তাবে তিনি জানান, ভ্যাট আইনের কিছু বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তি ছিল। এ কারণে ২০১২ সালে তৈরি করা ভ্যাট আইনে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তিত ভ্যাট আইনে যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করবে সেগুলো ভ্যাট আইনের আওতার বাইরে থাকবে। তবে যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত তারা ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দেবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নতুন আইন অনুযায়ী ভ্যাট নিবন্ধন সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের হার ছয়স্তর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো ২, ২.৪, ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ।
মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সম্পর্কে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আহরিত রাজস্বের মধ্যে মূসকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সরকারের নানামুখী সংস্কার কর্মসূচি, সম্মানিত করদাতা ও ভোক্তাদের কর দিতে ইতিবাচক মনোভাব এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় এ খাতে রাজস্ব বেড়েছে।
এতে বলা হয়, ১৫ শতাংশ মূসকের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে করভার কমাতে জন্য মূসক হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, পণ্যের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ওষুধ ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসকের হার আগের মতোই ২ দশমিক ৪ এবং ২ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পুরক শুল্ক আইন, ২০১২ আইনটিতে পরিবর্তন এনে নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি সনদ গ্রহণ, রিটার্ন দাখিল, কর পরিশোধ, রিফান্ড ও প্রত্যর্পণ সমন্বয় ইত্যাদি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদনের সুযোগ, পণ্য সরবরাহের আগে বিদ্যমান মূল্য ঘোষণা পদ্ধতির বদলে বিনিময় বা ন্যায্য বাজারমূল্যের ভিত্তিতে কর পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র
পাবে ১৮ বছরের
কম বয়সীরাও

নিবন্ধনের আওতায় আসছে দেশের ১৮ বছরের কম বয়সী নাগরিকরা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটার হওয়ার অযোগ্য এসব নাগরিককে নিবন্ধনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করবে। এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হলে দেশের সব নাগরিক নিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে। শূন্য থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী নাগরিকদের নিবন্ধন ও তাদের পরিচয়পত্র সরবরাহের জন্য আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাজেট বরাদ্দেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এতদিন ১৮ বছর এবং তদুর্ধ্ব ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হতো।
সব মিলিয়ে আসন্ন ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য ১৯২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এরমধ্যে পরিচালন খাতে ৭৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ও উন্নয়ন খাতে ১১৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে ইসির শূন্য হতে ১৮ বছর নাগরিকদের নিবন্ধন ও এনআইডি প্রদানসহ অন্তত ১১টি খাতে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। অন্য খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি, সংসদের উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকারের সাধারণ ও উপনির্বাচন, উন্নতমানের স্মার্ট জাতীয়পত্র প্রদান, ২ বছর মেয়াদী পেপার লেমিনেটেড পরিচয়পত্র প্রদান, ইভিএম প্রকল্পের আওতায় ৮২ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয়, কর্মকর্তাদের দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ, প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবাসেই নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান, এনআইডি তথ্য যাচাই এবং ইসির উন্নয়ন ও নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।
একাদশ সংসদ নির্বাচন থাকায় এবং বছরের মধ্যবর্তী সময়ে ইভিএম ক্রয় প্রকল্পসহ চলতি অর্থ বছরে পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে ইসির সংশোধিত বাজেট ছিল চার হাজার ৩৪৩ কোটি ১২ লাখ ২৩ হাজার টাকা। চলতি অর্থ বছরে ইসির জন্য বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল ২১০ কোটি টাকা আর পরিচালনা ব্যয় ছিল এক হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

২০৩০ সালের
মধ্যে ৩ কোটি
কর্মসংস্থান

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্বের অবসান ঘটানো হবে বলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, একদিকে শ্রমবাজারে বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তির আগমন, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে শ্রমিকের চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেছে এবং এর সমাধানে নানাবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকার শিল্পখাতে কর্মসৃজনের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ আধুনিকায়ন, শ্রমিকের সুরক্ষা জোরদার করা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিক হারে কর্ম প্রবেশ উপযোগী আইন-বিধি, নীতি-কৌশল সংস্কারের জন্য ৩ বছর মেয়াদে কার্যক্রম শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরে ১০টি আইন-বিধি, নীতি-কৌশল প্রণয়ন অথবা সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২ বছরে অবশিষ্ট সংস্কার কাজ সম্পাদন করে ক্রমবর্ধমান জনশক্তির জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটানো হবে’। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল মেয়াদি সরকারের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১ কোটি ৪০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি কথা বলা হলেও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা- আইএলওর হিসাবে, এই সময়ে বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। খবর বিডিনিউজের
গত নভেম্বরে তাদের ১টি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ২০১০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ২০১৭ সালে ১২ দশ১ি ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি ১০ দশমিক ৭ শতাংশ জানিয়ে আইএলও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে শুধু পাকিস্তান।