খালেদাকে মতিয়া

কার সঙ্গে ইউনিটির জন্য ইউনাইটেডে যেতে চান

17

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চাওয়াকে ‘মামা বাড়ির আবদার’ বলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। ‘১৫ মার্চ কৃষক হত্যা দিবস’ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘মামা বাড়ির আবদার উনাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল পছন্দ হয় না? সারাজীবন কাটালেন ক্যান্টনমেন্টে, আর এখন সিএমএইচও ভালো লাগে না, কেন? কার সঙ্গে ইউনিটি করতে ইউনাইটেডে যেতে চান? লজ্জা করে না?’
বিএনপিকে ‘মাথাবিহীনের’ দল আখ্যায়িত করে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া বলেন, ‘বিএনপি মানে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি নয়, বিএনপি মানে বিহেডেড ন্যাশনালিস্ট পার্টি, মাথাবিহীন পার্টি। অর্থাৎ মাথা নেই, শুধু ধড় আছে’। খবর বিডিনিউজের
বিএনপি ‘নিশ্চল হওয়ার মুখে রয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ছেলে (তারেক রহমান) মুচলেকা দিয়ে বিদেশে, আর খালেদা জিয়া দু’দিন পরপর কোমর ব্যথায় ভোগে। এদিকে নেতারা দল করে বিপদে পড়ছে, কদিন পরপর নাড়াচাড়া দেয়। তাও আবার পার্টি অফিসের সামনে’।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘শুয়ে শুয়ে ‘কুইক’ করেন। এভাবে মার্চ হবে না। আপনাদের স্বপ্ন পূরণ হবে না। বিএনপির জন্ম হত্যার মধ্য দিয়ে। আর এদের নেশা হলো মানুষ খুন করা। এরা ধর্মের কথা বলে, কিন্তু মসজিদে গিয়ে মানুষ হত্যা করতে এদের হাত কাঁপে না’।
মতিয়া বলেন, ‘পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। ২১ আগস্ট এই বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলা করে আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। তার বিচার চলছে। কিন্তু এর আগেই এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার অপরাধে জেল খাটছেন’।
আলোচনা সভায় ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘সারের জন্য আন্দোলন করা কৃষকদের বুকে গুলি চালানো ছিল খালেদা জিয়ার দেশ পরিচালনার নমুনা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল।
বিএসএমএমইউ নয়, ইউনাইটেডে ‘যেতে চান’ খালেদা
‘তার ছেলে তারেক রহমান হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতির স্বর্গ বানিয়েছিল। তারা দেশকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী রাষ্ট্রহিসেবে চিহ্নিত করেছিল’- বলেন হানিফ। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা বলা থেকে বিএনপি নেতাদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘বিএনপি জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের আর কিছু করার নাই। তাদের সামনে কোনও ইস্যু নেই। তারা ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে। তাদের প্রার্থীদের লজ্জাজনক পরাজয় হয়েছে। তারা এখন এ নিয়ে সুঁড়সুঁড়ি দিচ্ছে। ডাকসুতে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করতে দিন। বাইরে থেকে সুঁড়সুঁড়ি দিয়ে লাভ হবে না’।
কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা, সহ-সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য দেন।