কাউন্সিলর প্রার্থী কাদেরসহ ১১ জন তিন দিন রিমান্ডে

66

নগরীর পাঠানটুলিতে নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার বিকেলে আসামিদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আসামিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রিমান্ড মঞ্জুর করা আসামিরা হলেন, কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদের (৫০), এম কে কবির হেলাল উদ্দিন (৪০), ওবায়দুল কবির মিন্টু (৪০), আসাদুজ্জামান নূর রায়হান (২৯), ইমরান হোসেন ডলার (২৪), দিদার উল্লাহ দিদু (৪৮), মিনহাজ হোসেন ফরহাদ (২০), শহীদুল আলম সাহেদ (৩৭), জাহিদুল আলম জাহিদ (২৫), শহিদুল ইসলাম (৩৩) ও আব্দুর রহমান (৪৪)।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নগরীর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন মারা যান। এছাড়া মাহবুব নামে গুলিবিদ্ধ এক যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষ শুরুর পর আবদুল কাদের ও তার কয়েকজন অনুসারী মগপুকুর পাড়ে তাহের ভবনের দোতলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ডবলমুরিং থানা ও নগরগোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে ভবনটি ঘিরে কাদেরসহ তার অনুসারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে আবদুল কাদেরসহ ২৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বুধবার ভোরে আবদুল কাদেরকে মূল অভিযুক্ত করে মোট ১৩ জনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন নিহত আজগর আলী বাবুলের ছেলে সিজান মাহমুদ সেতু। মামলায় আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। নিহত আজগর আলী বাবুল নগর আওয়ামী লীগের সদস্য নজরুল ইসলাম বাহাদুরের অনুসারী হিসাবে পরিচিত।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ জানান, আটক ২৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন এজাহারভুক্ত এবং বাকি ৫ জন সন্ধিগ্ধ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাইয়ে বাকিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবদুল কাদেরকে আদালতে হাজির করা উপলক্ষে সকাল থেকে ভিড় করে সংবাদ কর্মীরা। কিন্তু তাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় একেবারে পড়ন্ত বিকেলে। তাকে আদালতে হাজির করা নিয়ে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে কাদেরসহ অন্য আসামিদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।