কর্ণফুলী নিয়ে মহাপরিকল্পনা সময়োপযোগী উদ্যোগ

48

প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক সভ্যতার বিকাশ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূলপ্রবাহ নদী। পানির স্রোত যেমন নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে থাকে তেমনি যেকোন দেশের অর্থনীতির পরিবর্তনে নদী বড় ভূমিকা রেখে আসছে, যদি সে নদীর গন্তব্য অতি নিকটতম সমুদ্র পোতাশ্রয় লাগোয়া হয়। বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। এদেশের ইতিহাস ও সমৃদ্ধির সাথে নদীর সম্পর্ক অবিচ্ছিন্ন। কিন্তু কর্ণফুলী ইতিহাস ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে এতাবেশি ঘনিষ্ঠ; এ নদীটির প্রবাহ যত বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং যত বেশি সজিব রাখা যাবে ততই এদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। তাই এ নদীর প্রধান সমস্যা দখল-দূষণরোধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে চট্টগ্রামবাসী, পরিবেশবাদীরা। সম্প্রতি দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানে নামে। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযানে নামলেও সর্বশেষ অদৃশ্য কারণে প্রশাসন রণভঙ্গ দেয়। এ অবস্থার চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে হতাশা বেড়ে যায়। সংবাদপত্রেও এ নিয়ে কম লেখালেখি হয় নি। সর্বশেষ জানা যায়, এ নদীনিয়ে সরকার এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, এ পরিকল্পনা অনুমোদন লাভের পর উচ্ছেদ অভিযান আবারও শুরু হবে। আমরা মনে করি, সরকার যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা সময়োপযোগী। এ পরিকল্পনা যত দ্রæত বাস্তবায়ন হবে ততই দেশের মঙ্গল হবে। সরকারের ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এনদী-এমনটি আশা আমাদের। সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কর্ণফুলী নদীসহ দেশের পাঁচটি নদী নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং কয়েকদিনের মধ্যে তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের কথা জানান। তাঁর মতে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলীসহ তুরাগ, বালু, শতীলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা এ পাঁচটি নদী নিয়ে খসড়া মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে খসড়া মহাপরিকল্পনাটি। আশা করছি, দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেবেন। তখন এটি প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতার জন্য অনেক ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বন্দর সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ যদি সেই কাজ এগিয়ে নিতে দেখি সেটা আমাদের প্রশান্তি। এসময় তিনি কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান আবারো শুরু হবে বলে সংবাদকর্মীদের জানান। মন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মত চট্টগ্রামে এসে চট্টগ্রামবাসী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের যেসব আশার বাণী শুনিয়েছেন তাতে আমরা দারুণ উজ্জীবিত। আমরা বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম প্রীতি এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে আন্তরিকতা তাতে আস্থা রেখে বলতে পারি, সরকার মহাপরিকল্পনা শুধু গ্রহণ নয়, বাস্তবায়নেও সচেষ্ট থাকবে।
উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি । এ শক্তিকে অক্ষয় ও অপরাজেয় রাখতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবহারকারীদের আন্তরিকতার বিকল্প নেই। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এসব কথাও গুরুত্বের সাথে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেছেন, বন্দরকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।