কর্ণফুলী চরলক্ষ্যায় সরকারি বনায়নের গাছ কেটে নিয়েছে প্রভাবশালীরা

পটিয়া প্রতিনিধি

7

কর্ণফুলী উপজেলার চলক্ষ্যায় সরকারি বনায়নের গাছ কেটে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। উপজেলার চরলক্ষ্যা খুইদ্দেরটেকস্থ উত্তর চরলক্ষ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন মোহাম্মদ মারুপ নামের এক ব্যক্তি জোর করে রাস্তার পাশ থেকে ১১টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন। ওই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। সংবাদ পেয়ে বনবিভাগ এসব গাছ জব্দ ও বন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে জলবায়ু তহবিলের আওয়তায় রাস্তার পাশে এসব সামাজিক বনায়ন করা হয়। গত কয়েক দিন আগে ওই স্থান থেকে দিন দুপুরে এসব গাছ কেটে নেয়া হয়। এ সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালেও তারা কথা না শুনে কাছগুলো কর্তন করে। অথচ বনায়নের গাছ কাটতে হবে উপজেলা পরিষদের সভায় তা অনুমোদন এবং বনবিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু ওই মহল কোন অনুমতি ছাড়াই এসব কাছ কেটে নিয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ মারুপ জানান, তিনি রাস্তার পাশে একটি ঘর তৈরি করবেন। তাই ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে আনুমতি নিয়ে গাছগুলো কেটেছেন। সরকারি বনায়নের গাছ এভাবে কেটে নেয়ার অনুমতি দেয়া যায় কিনা জানতে চাইলে চরলক্ষ্যা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, আগেও এ ধরণের গাছ কাটা হয়েছিল, কিন্তু সে সময় কোন কথা হয় নি। গাছ কাটতে হলে বনবিভাগ ও উপজেলা পরিষদের সভায় অনুমতি নেয়ার প্রয়োজনের বিষয়টি তিনি জানতেন না। তাই তিনি গাছগুলো কাটার অনুমতি দিয়েছিলেন। কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামশুল তাবরীজ জানান, রাস্তার পাশে বনায়নের গাছ কাটার প্রয়োজন হলে মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে অনুমোদন নেয়ার বিধান আছে। যেসব গাছ কাটা হয়েছে তার কোন অনুমোন নেয়া হয় নি। পটিয়া রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম জানান, বনবিভাগের অনুমতি না নিয়ে সরকারি গাছ কেটে নেয়ার সংবাদ পেয়ে তারা অভিযান পরিচালনা করেন।
এরপর সেসব গাছ একটি স’মিলে পাওয়া যায়। সেখান থেকে গাছগুলো জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।