করোনা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ

11

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩ জনের সন্ধান পাওয়ার পর দেশব্যাপী বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আক্রান্তদের ২ জন ইতালি থেকে দেশে ফিরেছিলেন। একে কেন্দ্র করে সতর্ক থকার পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর। আক্রান্তদের ২ জন পুরুষ এবং ১ জন মহিলা। জ্বর কাঁশি নিয়ে তিন জন হটলাইনে যোগাযোগা করেন। ২৪ ঘণ্টার পরীক্ষায় তারা করোনা আক্রান্ত হবার প্রমাণ মেলে। তারা ২০ থেকে ৩৫ বছরের। মোট ৫ জনকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আতংকিত হতে বারণ করেছে। জনসমাগমে না যেতে, কোলাকুলি থেকে সরে থাকতে, হ্যান্ডশেক থেকে বিরত থাকা ও সবসময় হাত পরিষ্কার রাখতে বলা হয়েছে। সেহেতু করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি তাই প্রতিরোধে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
ফ্লুর মত লক্ষণকে অবহেলা করা যাবে না। করোনাকে ঘিরে কর্তৃপক্ষের বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। অধিক মাত্রায় এ রোগ ছড়ালে স্কুল কলেজেও ক্যাম্প খুলে চিকিৎসা দেয়া হবে। বলা হয়েছে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এমন নয়। ইতিমধ্যে সারা পৃথিবীর শতাধিক দেশ করোনা আক্রান্ত হয়েছে। ৩৬৪৯ জন এ রোগে প্রাণ হারিয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৬০৯০৫ জন। এ রোগটি যেহেতু নতুন তাই সচেতনতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। অনেকে গুজব ছড়াবে, এতে কান দেয়া যাবে না। বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। চিকিৎসার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। রোগীর পাশে যারা থাকবেন কেবল তাদেরই মাস্ক পরতে হবে বলে চিকিৎসকরা অভিমমত দিয়েছেন।
অন্যদিকে করোনা আক্রান্তের ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান ব্যাপক জনসমাগম না ঘটাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ১৭ মার্চ প্যারেড স্কোয়ারে যে জনসমাগমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল তা বাতিল করেছেন। বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরাও আসছেন না। সংক্ষিপ্ত মিডিয়াভিত্তিক মূল অনুষ্ঠান হবে গণভবনে। সারাদেশব্যাপী অনুষ্ঠানমালাও ব্যাপক জনসমাগম মুক্ত ও সংক্ষিপ্ত করা হবে। করোনার বিস্তার হলে চিকিৎসা সেবা ব্যাপক আকার লাভ করবে। আপাতত আক্রান্ত দেশগুলোয় সফর বন্ধ থাকবে। সীমান্ত ও আকাশপথ কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। লক্ষণ দেখা মাত্র সরকারের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। সময়ক্ষেপণ রোগীর জন্য শুভ ও কল্যাণকর হবে না।