করোনা পরিস্থিতি পরিবহন শ্রমিকদের মানবিক বিপর্যয়

10

৩০ এপ্রিল ২০২০, ৬৪১ জন করোনা রোগী সনাক্ত হলো। এটা ছিল দেশে সর্বোচ্চ কোভিড-১৯ সনাক্ত। দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন দেশ কার্যত অচল। সরকার যে উদ্দেশ্যে দেশে অঘোষিত লকডাউন অবস্থা জারি করেছে তাতে করোনার প্রাদুর্ভাব কতটুকু নিয়ন্ত্রিত হয়েছে তা আমাদের বুঝে আসে না। গ্রাম-গঞ্জের মানুষ সরকারি-বেসরকারী এবং স্থানীয় প্রশাসনের জোর প্রচারণার পরও সামাজিক তথা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কোয়ারেন্টাইন সুচারুরূপে পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। হয় তো কেউ কেউ করছে, যাতে ব্যাপকভাবে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের পক্ষে তেমন কাজ হয়নি বলে সচেতন জনগণ মনে করে। স্কুল কলেজ, মাদরাসাসহ দেশের সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি পোষানোর সম্ভাবনা অপ্রতুল। হাজার চেষ্টা করেও কোন শক্তি অতীতের ক্ষতি যথাযথ ভাবে পুষিয়ে নিতে সক্ষম হয় না, যে খানে জীবন মরণ সমস্যা সেখানে অন্যান্য সার্বিক ক্ষতি তুচ্ছ। তারপরও যুক্তি-তর্ক-পরিবেশ পরিস্থিতি সবকিছু মানুষ বিবেচনা করে।
সাধারণ মানুষের আয় রোজগার খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে করোনা পরিস্থিতির কারণে। উন্নত বিশ্ব যেখানে ত্রাহী ত্রাহী অবস্থায় দিন পার করছে, সেখানে অধিক জনসংখ্যার বাংলাদেশ এবং উন্নয়নশীল প্রেক্ষাপটের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের রাষ্ট্রের অবস্থা খারাপ হওয়ারই কথা। যে কারণে ভারতের মতো সার্বিক লকডাউন পালন আমাদের দেশে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। দেশে দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের চেয়ে মধ্যবিত্ত ও নি¤œ-মধ্যবিত্ত মানুষের অবস্থান বেশি মন্দভাবে অতিবাহিত হচ্ছে। শিল্প কারখানা, ব্যাংক-বীমা প্রায় স্বাভাবিক ভাবে চললেও ক্ষুদ্র-মাজারি শিল্পকারখানার শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র-মাজারি ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। তার সাথে রয়েছে মধ্যবিত্তের টানা পোড়নের সংসার। অন্যদিকে মালামাল পরিবহন শ্রমিকরা ভালো অবস্থানে দিন যাপন করলেও সাধারণ গণপরিবহন শ্রমিকরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। সরকারিভাবে এদের ব্যাপারে যা-ই বলা হোক না কেন কার্যত ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ী ছাড়া অন্যান্য স্বল্প পূঁজির ক্ষুদ্র ও মাজারী ব্যবসায়ীরা এবং সাধারণ গণ পরিবহন শ্রমিকরা বড়ো কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। ত্রাণের মাধ্যমে মানুষের জীবন জীবিকার বিচিত্র-সমস্যার নিখুঁত সমাধান সম্ভবও নয়। এমতাবস্থায় সরকার অঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতি শিথিল করতে চাচ্ছে বলে মনে হয়। না করে উপায়ও নেই। করোনার কারণে মারা যাওয়া আর অনাহারে কিংবা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে মারা যাওয়া তো একই কথা। সুতরাং যতটুকু সম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবকিছু সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হচ্ছে সরকারকে। উৎপাদন ও কর্মক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ছাড়া কোন উপায় নেই। উপায় নেই এই কারণে যে অসচেতন এবং কোয়ারেন্টাইন লঙ্ঘনকারীদের দ্বারা যা ক্ষতি হবার তা তো এখনো হচ্ছে। তাই সর্বক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব তথা শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে যতটুকু সম্ভব দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই। পরিবহন সেক্টরে ভীড় এড়িয়ে তথা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের উপর বিধি নিষেধ কার্যকর করে গণপরিবহন শ্রমিকদের পরিবারসমূহকে রক্ষার ব্যবস্থা করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক সমাজ। বর্তমান অবস্থায় সামাজিক দূরত্ব তথা শারীরিক দূরত্ব উপেক্ষা করে সীমিতভাবে রিক্সা, সিএনজি অটোরিক্সা, ইত্যাদি পরিবহন নানা উপায়ে চলছে। তাতে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে বই কমছে না। তার চেয়ে বিধি নিষেধ কঠোরভাবে পালনের ব্যবস্থা করে পরিবহন সেক্টরকে কার্যকর রাখাই শ্রেয় মনে করে বিশেষজ্ঞরা।