করোনা পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকর হোক

19

৩১ মার্চ সারাদেশে জেলা প্রশাসকদের সাথে কথা বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সম্প্রসারণ রোধে জরুরি নির্দেশনা দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বল্প আয়ের মানুষ ও দিনমজুরদের জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছিয়ে দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এক্ষেত্রে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে স্থানীয় এমপিদের বিরত থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। জনগণ জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ হবে। ত্রাণ নিয়ে যেন নয়ছয় না হয় এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চের পর গতকাল সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যে সব নির্দেশনা দেন তা খুবই গুরুত্ববহ। তিনি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দরিদ্র সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ত্রাণের উপর খুবই গুরুত্ব আরোপ করেন। কারণ যারা দিনে এনে দিনে খায় তাদের ঘরে সপ্তাহ পনেরোদিন বসে থেকে খাওয়ার সামর্থ্য নাই। তাই তাদের কারণে যদি করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তার দায়দায়িত্ব সমগ্র দেশবাসীকে বহন করতে হবে। সুতরাং বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এলাকার এমপিদের ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। উক্ত ভিডিও কনফারেন্সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে তা কতদিন বাড়বে তা তিনি বলেন নি। আশা করছি কয় দিন বাড়বে তা সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশা বাসিকে জানিয়ে দেবেন।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ত্রাণসামগ্রী যথাযথভাবে পৌঁছলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে মানুষকে ঘরে ঢুকিয়ে দিতে পারবে এবং করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এমন ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
আমরা গভীর উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ করছি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ এবং নানা অজুহাতে তরুণ সমাজ ঘরে থাকা কর্মসূচির বিঘœতা ঘটাচ্ছে। খেলার মাঠ এবং হাটবাজারে সামাজিক অবস্থানগত দূরত্ব মানা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আরো কার্যকর সচেতনতা সৃষ্টিতে স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানদের আরো কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। গত ২৪ ঘণ্টায় এক নারীর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেশের করোনা ঝুঁকির বিষয়ে সার্বিক সতর্কতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান খুব একটা ভরসা করার মতো নয়। সুতরাং, সংক্রমণের সুযোগ নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশে সাধারণ রোগী বড়ো দুর্ভোগে পড়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন। করোনার কারণে অন্য রোগের রোগীরা চিকিৎসা না পাওয়াও অমানবিক। সুতরাং সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।