করোনা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সতর্কতা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি

22

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ও এ মহামারি তিন বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করা কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস লকডাউন তুলে নিলে আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। বলছেন-এভাবে চলতে থাকলে করোনা মহামারি কাটতে লেগে যেতে পারে ১২ থেকে ৩৬ মাস। এ মহামারি কেটে গেলেও বিভিন্ন মৌসুমে স্থানীয় আকারে এটি ফিরে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। চীন, পিকো ভ্যাক’ নামে একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। এ পিকো ভ্যাক নামক ভ্যাকসিন বানরের শরীরে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু মানব শরীরে পরীক্ষার মতো সময় চীনা আবিষ্কারকরা হয়তো পাবেন না। কেন না চীনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও করোনার টীকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জোর প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু কোন চিকিৎসক বা গবেষক তাদের আবিস্কৃত ওষুধ ও ভ্যাকসিনের উপর পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। স্বাভাবিকভাবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষার জন্য কোয়ারেন্টাইনের উপর জোর দিচ্ছে সবাই। কার্যত লকডাউন কিংবা কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম পালন করতে গিয়ে বিশ্বের উৎপাদন ব্যবস্থায় যে ধস নামছে তাও মাথায় রাখতে গিয়ে বিভিন্ন দেশ ঘোষিত অঘোষিত লকডাউন তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে এ মহামারি আবার হয়তো আরো ভয়াবহ আকারে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমতাবস্থায় আমাদের দেশে লকডাউন শিথিল করে কলকারখানা, স্কুল কলেজ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সরকার নমনীয় হয়েছে। শপিংমল, দোকানপাট, গাড়ি ঘোড়া ও স্বাভাবিক করতে হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনদুর্ভোগ কমানোর স্বর্থে। পত্রিকার প্রতিবেদক থেকে জানা যায় এ ঈদ মৌসুমে পোশাক ব্যবসায়ীরা অধিক পরিমাণে ক্ষতির সম্মুখিন। শুধু চট্টগ্রামের টেরিবাজারের ব্যবসায়ীদের দোকানে ২ হাজার কোটি টাকার পোশাক আটকে আছে। যা দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত ওঠে এসেছে। টেরিবাজারে ১৫ হাজার কর্মচারীর বেতন, দোকান ভাড়া, ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক লোন এবং ৫০০ কোটি টাকার বাকীতে পোশাক ক্রয় নিয়ে চট্টগ্রামের টেরিবাজারের ব্যবসায়ীরা সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাদের সাথে সারাদেশের বহু ব্যবসায়ী একই অবস্থায় দিন পার করছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি পোষিয়ে নিতে সরকার শর্ত সাপেক্ষে লকডাউন শিথিল না করে পারছে না। সংকট শুধু সরকারের একার নয় সারাদেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষের। পরিবহন শ্রমিকদের দুরাবস্থার কথা বলাবাহুল্য। পরিবহন শ্রমিকদের ধর্য্যরে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। তারা সরকারের ঘোষণার দিকে চেয়ে স কষ্টে সময় পার করছে। এমতাবস্থায় সরকার বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে সামগ্রীক অচল অবস্থার পরিবর্তন আনারও উদ্যোগ নিচ্ছে। অনেকে এ নিয়ে সরকার ও প্রশাসনের সমালোচনায় মুখর। সমালোচনা করে সংকট হতে উত্তরণ সম্ভব নয়। সমাধান খুঁজতে হবে সম্মিলিতভাবে দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব যতটা সম্ভব বজায় রেখে আমরা যদি দেশের প্রতিটি প্রয়োজনীয় সেক্টরকে সচল রেখে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করতে পারি তবেই বাঁচবে দেশ, বাঁচবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। দেশের অর্থনীতি যদি দেউলিয়া হয়ে যায় বেঁচে থাকলেও আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে বেশ বেগ পেতে হবে। দেশ ও দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাÐ ঠিক রেখে গণস্বাস্থ্য সংরক্ষণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশাবাদী যে, সতর্কভাবে দেশের মানুষ সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে সংকট উত্তরণ কঠিন হবে না।