করোনা ও রমজানের সুযোগে অনিয়ন্ত্রিত নিত্যপণ্যের বাজার বাজার তদারকী জোরদার করতে হবে

22

বলতে বলতে পবিত্র রমজান আমাদের একেবারে দ্বারপ্রান্তে। আজ (২৯ শাবান) চাঁদ উঠলেই দিনগণনাই রমজানের রোজা শুরু হয়ে গেছে। নচেৎ ইসলামি বিধান অনুযায়ী কাল শুরু হবে রোজা। এবার রোজার মাসের আগমণের খবরটি কাটছে একেবারে নিরবে-নিরানন্দে। কারণ বৈশ্বিক মহামারী করোনার তান্ডবে তটস্ত বিশ্ব। বাংলাদেশসহ মুসলিমবিশ্বও এর থেকে মুক্ত নয়। সারাবিশ্বে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকটসহ অর্থনেতিক বিপর্যয়। এ অবস্থায় বিশ্বের একশ আশি কোটি মুসলমান বরণ করতে যাচ্ছে পবিত্র রমজানকে। রমজান মাস মানেই ইবাদত, সংযম ও সৌহার্দ-সম্প্রীতির এক অনন্য আয়োজন। সাথে থাকে ইফতার ও সাহরির পবিত্র খাদ্যউৎসব। পূণ্য ও ইবাদতের পূর্ণতা লাভে এ খাদ্যাভ্যাস ইসলামি সংস্কৃতিরই একটি অংশ। কিন্তু এবার একদিকে করোনারভাইরাস জনিত বিশ্বসংকট, অপরদিকে রোজা- এ দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজার হয়ে উঠেছে অস্তির। বিশেষকরে, আমাদের এ বাংলাদেশে করোনা না হলেও রমজানের আগমণের ধ্বনিতে উম্মাদীয় আচরণ ঘটায় আমাদের অসাধু শ্রেণির কিছু ব্যবসায়ী। এবারও এর থেকে রেহাই পায়নি রোজার নিত্যপণ্যের বার্জা ।
মূলত রমজানে খাদ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে অতি মুনাফা লুটতে তৎপর হয়ে ওঠে এসব ব্যবসায়ী। তাই রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে তিন মাস আগেই অর্থাৎ জানুয়ারিতেই সরকারের ১০ সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা খুচরা বাজার থেকে শুরু করে দেশের পাইকারি ও মোকামগুলোয় অভিযান চালাবে, যাতে রমজানকে পুঁজি করে কারসাজির মাধ্যমে কেউ অতি মুনাফা লুটতে না পারে। উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়; তবে প্রতি রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যে চক্রটি ভোক্তাদের পকেট কেটে থাকে, ১০ সংস্থার তদারকি তাদের কতটা নিস্তর করতে সক্ষম হয়েছে-সম্প্রতি বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করলে কিছুটা অনুমান করা যায়। উল্লেখ্য, গত বছরও রমজানের আগে সরকারের সাত সংস্থাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে খুব একটা সুফল মেলেনি। অসাধু ব্যবসায়ীরা যথারীতি নানা অজুহাতে ভোক্তাদের কাছে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করেছে।
বৃহস্পতিবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তেল ও চিনি ছাড়া বাকি সকল নিত্যপণ্যের বাজার দর কেজিতে সর্ব নিম্ন দশ থেকে ৩০টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতিবেদনে খুচরা ও পাইকারি বাজারের বেশ কয়জন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করে উল্লেখ করা হয়, ছোলা দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগেও ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, এর দাম এখন বিভিন্ন দোকানে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুড়ির দাম ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। সয়াবিন তেল খোলা ৭০ থেকে ৮৪ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হলেও এখন ৯০ থেকে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এরসাথে বাড়ছে চালের দামও। আমরা লক্ষ্য করছি, প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী বাজারে তাদের নজরদারি রয়েছে, বাস্তবে এ নজরদারীর মধ্যেই করোনা সংকটে পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে অস্থির হয়ে উঠেছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। এতে বিপাকে পড়েছে নগরবাসী। হঠাৎ করে নগরীর খুচরা পর্যায়ে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম কেজিতে ১০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ভোক্তা সাধারণ। তবে খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা বলছেন, করোনা আতঙ্ক এবং রমজানকে সামনে রেখে ত্রাণ ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্যের জন্য আড়তে ছুটে এসেছে। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে পরিবহন সংকট, তাই দাম কিছুটা বাড়তি ছিল। তবে বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে, সামনে আরও কমবে। রমজানে বাজারের পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হওয়ার কথাও জানা যায়।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা মনে করেন, প্রশাসনের উচিত বাজারে মনিটরিং বাড়ানো। অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কঠোর বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। তাছাড়া সংগঠনের পক্ষ হতেও সকল ব্যবসায়ীদের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে বলে দেয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এর পক্ষ থেকে অভিযোগ, করোনা ভাইরাস ও রমজানের সুযোগ নিয়ে বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। আমরা মনে করি, মনিটরিং টিম করে করোনার দোহাই দিয়ে রুটিন ওয়ার্ক করলে বাজার নিয়ন্ত্রন সম্ভব হবে না, এ ব্যাপারে সতকর্তা ও কঠোরতার সাথে পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষ কষ্টে আছে, তার উপর বাজার দর বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য ’মরার উপর খাড়ার ঘা’ হবে।