করোনা আতংকে ফাঁকা বান্দরবান

15

বান্দরবান প্রতিনিধি
………………….

করোনাভাইরাসে বড় ধরনে প্রভাব পড়েছে বান্দরবানে পর্যটন শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। বলতে গেলে হাহাকার পরিস্থিতি বিরাজ করছে পর্যটন শহরে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা, আর অন্যদিনকে প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে লোকসান। সেই সাথে হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী এবং রকমারী বস্ত্র বিক্রেতারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি লোকসানের পাল্লা ভারি হলেও আয়ের খাতায় একেবারেই জিরো। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, করোনাভাইরাসের কারণে বান্দরবান সকল ব্যবসা বাণিজ্য থমকে গেছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনের অঘোষিত লকডাউনে স্থানীয়রা ঘরবন্দি হয়ে আছে। সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ। ওষুধের দোকানগুলো সকাল থেকে রাত ১০ পর্যন্ত খোলা থাকলেও মুদি দোকানগুলোতে তেমন একটা বেচাকেনা হচ্ছে না।ফলে ব্যবসায়ীরা হারিয়ে পেলছে প্রাণচাঞ্চল্যতা। আর যারা ঘরবন্দি হয়ে রয়েছে তারা টিভি, মোবাইল, ইন্টারনেট আর ফেসবুকে নিজের মত করে সারাদিন সময় কাটাচ্ছে। আগের মত কোথাও নেই কোনো খেলাধুলা, গল্প আর আড্ডা। গত ১৯ মার্চ থেকে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরা এবং পরিবহন সেক্টরসহ সবই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরম সংকটে পড়তে হয়েছে বান্দরবানে সংশ্লিষ্ট ব্যাসায়ীরা। এদিকে করোনা ভাইরাস আতংকে এক ভারই পাকা হয়েগেছে বান্দরবান জেলা শহর। পর্যটক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন প্রশাসন। এরপর থেকে জেলার সব পর্যটন স্পটগুলো পযটকশুন্য,সড়কগুলো যানচলাচলও শুন্য হয়ে ফাঁকা হয়ে পড়ে আছে। এতে পাল্টে গেছে বান্দরবান পর্যটন শহরের চেহারা।যেন অচেনা রূপ ধারণ করেছে জেলা শহরের ব্যস্ততম পর্যটন স্পটগুলো।এখন পর্যটন স্পটগুলো একেবারেই ফাঁকা। চিরচেনা দৃশ্যের কিছুই নেই এখন। একদম থেমে গেছে পর্যটন নগরীর প্রাণের কোলাহল। বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে স্থানীয়রাও উধাও। সারাদিন নিজের জরুরি প্রয়োজনে গুটিকয়েক মানুষ ঘর থেকে বের হলেও সন্ধ্যার পর পর চারদিকে নীরবতা বিরাজ করছে। কারণ জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া কোন ধরনের যানযাহন এবং বাহিরের লোকজনকে বান্দরবানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। মনে হচ্ছে জেলা শহরে অঘোষিত লকডাউন চলছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি সেবা মুদি, কাঁচা মাল, জ¦ালানী, মাছের, হাঁস-মুগরী ও গবাদি পশুর খাদ্যের দোকান খোলা থাকবে। এছাড়ও পুলিশ ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স, বেঁচে থাকার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের গাড়ি ব্যতিত অন্য কোন গাড়ি চলাচল করা যাবে না।
জরুরী প্রয়োজন ব্যতিত কেউ যাতে ঘর থেকে বের না হয় জন্য প্রতিদিন প্রশাসনের পক্ষে থেকে মাইকিং করা হচ্ছে এবং লোকজনকে সচেতন করা হচ্ছে। বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, করোনা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আবশ্যক প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে এলে যাতে জনসাধারণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করে সেই জন্য আমরা জনগণকে সচেতন করছি। তিনি বলেন, বান্দরানে পর্যটনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বড়ধরণের প্রভাব পড়েছে। করোনাভাইরাস বিশ্বেছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে সকল ব্যবসায়ীরা আর্থিভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি স্বাভাবিক হলে সংকট কেটে উঠতে পারবে।