করোনায় মুক্তিযোদ্ধা আফসারের শেষ যাত্রা শেষ দেখাও হলো না সহযোদ্ধাদের

126

নাসিরুদ্দিন চৌধুরী

মুক্তিযুদ্ধ যারা করেছেন তাদের প্রত্যেকেরই গড় বয়স এখন ষাটোত্তীর্ণ হওয়ার কথা। প্রত্যেকেরই জীবন -সূর্য পশ্চিমের পাটে হেলে পড়েছে এটা নিঃসংশয়ে বলা যায়। এই অবস্থায় কেউ উইকেটে টিকে থেকে টুক টুক করে এক দুই নিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করছেন। অনেকেই ইতিমধ্যে অস্ত গেছেন। যারা টিকে আছেন তাদেরকে ভাগ্যবানই বলা যায়; শেষ বিকেলের ম্লান আলোয় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পথ চলার কী প্রাণান্তকর প্রয়াশই তাদের লিপ্ত থাকতে দেখছি। আমার নিজের কথাও বাদ দিচ্ছি না। আমাদের বন্ধু পটিয়ার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী আফসারউদ্দিন আহমদের পরলোকগমনের সংবাদে এ কথাগুলি মনে ভিড় করে এলো। আফসার দীর্ঘদিন নানা রোগব্যাধির সঙ্গে লড়তে লড়তে হয়তো দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং সে দুর্বল মুহূর্তে কালব্যাধি তার প্রাণ হরণ করে নিয়ে গেছে। আফসারের বিয়োগব্যথায় হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠলো। মনে পড়ে গেলো অতীতের অনেক সুখ দুখের কথা। আফসার আমার বন্ধু, সতীর্থ, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সহযোদ্ধা। হুলাইন ছালেহ -নূর কলেজে আমরা দু’বছর একসঙ্গে পড়েছি। সেই সূত্রে তিনি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হন।
আফসার কলেজ জীবনে খুব ড্যাশিং ছাত্র ছিলো। কড়া ইস্ত্রী দেয়া হাল ফ্যাশনের পোশাক পরতো। আমার স্পষ্ট মনে আছে কলেজে একবার ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে মারামারি লাগলে আফসার লাফিয়ে লাফিয়ে মারপিট করছিল। অর্থাৎ ফ্লাইং কিক মারছিল। লাফাতে গিয়ে তার টাইটফিট প্যান্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল। পরে অনেক ঘাটের জল খেয়ে শেষ জীবনে আফসার যখন স্বগ্রামে এসে থিতু হয়, তখন তাকে দেখে আমার মনে হলো এ কোন আফসার? নরম, আহেমশ কথা বলছে। এ আফসার তো ঊনসত্তর সত্তরের দুরন্ত আফসার হতে পারে না। তবে সে আফসারেই ছিল। জীবন সংগ্রাম তার জীবনী শক্তি শুষে নিঃশেষ করে ছিবড়ে বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল।
আফসার যে কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, সেটা হচ্ছে তিনি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। উনসত্তরে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে হুলাইন ছালেহ -নূর কলেজ ছাত্র রাজনীতিতে সরগরম হয়ে উঠেছিলো। দেশের হাওয়াটাও ছিল তখন গরম। বিপিন মাস্টারের পাঁচরিয়া দিঘির পাড়ের প্রাচীন অশত্থগাছের পাতারা সে গরমে পুড়ে যাচ্ছিলো। সেই সময় বাংলার রাজনৈতিক আকাশে ঝড় উঠেছিলো। সেই ঝড়ে পাকিস্তান লন্ডভন্ড হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করেছিলো। আফসার ছিলেন সেই ঝড়ের অভিযাত্রী।
মনসা গ্রামনিবাসি চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ ভাইয়ের ( এসএম ইউসুফ) কারণে ছালেহ্ – নূর কলেজ। প্রথমাবধি ছাত্রলীগের শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিলো। যাদের ত্যাগ,সাহস ও শ্রমে- ঘামে সেটা সম্ভব হয়েছিলো, আফসার তাদের মধ্যে অন্যতম। শুধু ছালেহ্ – নূর কলেজ বা পাঁচরিয়া দিঘির পাড় নয়, সমগ্র পশ্চিম পটিয়ার রাজনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদী তথা আওয়ামী রাজনীতির ছাঁচে গড়ে উঠেছিলো। আফসার তখনকার রাজনীতি ও আন্দোলন – সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসন্ন মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী যোদ্ধা হয়ে উঠেছিলো।সেই যে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল, সেই রাজনীতির অনিবার্য ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধেই তার গন্তব্য খুঁজে পেয়েছিলো আফসার।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আফসার ও তার ভাই নুর মোহাম্মদ ছাত্রলীগ নেতা নুরুল ইসলামের সঙ্গে ট্রেনিং -এর জন্য ভারতে যায়। সেখানে তাদেরকে প্রথমে হরিণায় এক সপ্তাহ ট্রেনিং দেয়া হয়।পরেই ইউসুফ ভাই তাদেরকে মুজিব বাহিনীর ( বিএলএফ) সদস্য হিসেবে রিক্রুট করে মোটিভেশান ও উন্নততর অস্ত্রের প্রশিক্ষণের জন্য দেরাদুনের টান্ডুয়া ক্যাম্পে পাঠান।সেখানে ট্রেনিং শেষ হলে তাদেরকে হরিণায় ফিরিয়ে আনা হয়। ইউসুফ ভাই তখন নুরুল ইসলামকে কমান্ডার ও যে দিলীপ কান্তি দাশকে (পরবর্তীকালে অধ্যাপক) ডেপুটি কমান্ডার করে পটিয়া থানায় কাজ করার জন্য বিএলএফের একটি গ্রæপ গঠন করেন এবং অস্ত্রশস্ত্র প্রয়োজনীয় টাকাপয়সা দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেন। এই গ্রæপের সদস্য ছিল আফসার, নুর মোহাম্মদ, গৈড়লার আবুল বাশার, বড়লিয়ার আ ক ম শামসুজ্জামান ( বর্তমানে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি), হাইদগাঁওর পংকজ দস্তিদার ( বর্তমানে সিনিয়র সাংবাদিক) ও হাইদগাঁওর পুলিন দস্তিদার, কেশুয়ার শাহ আলম, জিরির ফজলুল হক, মনসার আহমদ নবী ও আশিয়ার জাফর। কারো নাম বাদ গেলে আমাকে ক্ষমা করবেন।আমার অজ্ঞতার কারণে তিনি বা তাদের নাম বাদ পড়েছে। স্বাধীনতার পর আফসার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন।পরীক্ষাটা মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে হওয়ার কথা ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের জন্য আফসারসহ আমরা পরীক্ষা দিই নি।
পরীক্ষার পর আদর্শগত বিরোধে ছাত্রলীগ ভাগ হয়ে গেলে আমরা সমাজতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। দল ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আমরা যে সে দল ছেড়ে দিয়েছিলাম সেটা ছিল আমাদের জন্য একটা বিরাট ত্যাগের কাজ। কারণ আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে আমরা হয়তো ভাগ্য পরিবর্তনের এক বিরাট সুযোগ থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করেছিলাম। যাই হোক, পরে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ডাক দিয়ে জাসদ গঠিত হলে আফসারসহ আমরা বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দলে যোগদান করেছিলাম।আফসারের দেখাদেখি তার ভাই নুর মোহাম্মদও জাসদে যোগ দেয়। জীবনের এ পর্যায়ে আফসার হোয়েকস্টে যোগদান করে কর্মজীবনে অবতীর্ণ হয়।চাকরি করলেও জাসদের সঙ্গে আফসারের যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ ছিলো।চাকরির ফাঁকে সে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতো।আফসার পটিয়ায় জাসদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলো এবং পটিয়ায় জাসদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে আফসার ও তার পরিবার অনেক ত্যাগ স্বীকার করে। আফসার পরে বিদেশে চলে যায় এবং বহু বছর বিভিন্ন দেশে কাটিয়ে দেশে ফিরে আসে। আফসারের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা তার সহপাঠী, মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা শোকাহত।আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ভাই ও সুহৃদকে হারিয়ে গভীর মর্মবেদনায় দগ্ধ হচ্ছি। বোবা কান্নায় আর্তনাদ করছি।আফসার এমন দুঃসময়ে চলে গেল, যখন আমরা কেউ তাকে দেখতেও যেতে পারি নি। আফসারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বন্ধুত্বের গন্ডি ছাড়িয়ে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছিলো। আফসারের বাড়িঘর আমারও বাড়িঘর হয়ে যায়। কতদিন কতরাত যে সে বাড়িতে কাটিয়েছি, তা গুণে শেষ করতে পারছি না।স্বাধীনতার আগের চেয়ে পরে বেশি গিয়েছি।কারণ তখন জাসদের আধা-আন্ডারগ্রাইন্ড রাজনীতির কারণে লুকিয়ে চুরিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে হতো।আফসারের বাড়ি ছিল আমার এবং জাসদের আরও কোন নেতা – কর্মীর গোপন সেল্টার। এরকমই নাইখাইনের প্রদীপ বড়ুয়ার (বর্তমানে শিল্পপতি) বাড়িও ছিল আমার গোপন আশ্রয়স্থল। এই সুযোগে প্রদীপ বড়ুয়ার প্রয়াত মাতা এবং ভগ্নির উদ্দেশ্য প্রণতি নিবেদন করছি।
আমাদের ঘন ঘন আসা যাওয়ার কারণেই হয়তো আফসারের পুরো পরিবারটিতে রাজনীতির হাওয়া ঢুকে যায়। সেটা বাম রাজনীতি। আবার গৈড়লার অনিলদা’র কারণেও হতে পারে। কোনটা ঠিক সেটা আশরাফ, নাসু ভাল বলতে পারে।
আফসাররা তিন ভাই-আফসার, আশরাফ,নাসু। আফসারের পরে আরও একজন ভাই আছে, নূর মোহাম্মদ। সে চাচাতো ভাই হলেও আপন ভাইয়ের মতই আফসারকে অনুসরণ করে চলতো। সেও জাসদ করতো সে কথা বলেছি। কিন্তু তার ছোট দু’ভাই আরও এক পা বাড়িয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলো। আশরাফ পেশাগত কারণে অধুনা না করলেও নাসু এখন বাম রাজনীতির হোলটাইমার। সে কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও যেটা কড়া বা হার্ডলাইনের অর্থাৎ চীনাপন্থি কমিউনিস্ট পার্টির অনুসারী হয়ে পড়লো। চীনাদের মধ্যে অনেক উপদল, আমি মনে রাখতে পারি না। হয়তো দেবেন-বাশার, হয়তো হক-তোয়াহা, হয়তো বা – মতিন আলাউদ্দিন – টিপু বিশ্বাস,—একেবারে নকশাল । সিরাজ সিকদার গ্রæপের তৎপরতাও ছিল আমাদের এলাকায়। কামাল (ছদ্মনাম হতে পারে) নামে একজন সম্ভবত আত্রাই থেকে এসেছিল। অনিল লালা একজন রহস্যময় মানুষ, তিনি কি রাজনীতি করতেন সেটা আজ অবধি আমার কাছে রহস্যই রয়ে গেছে। গোপন সশস্ত্র রাজনীতির প্রতি তার একটা বিরাট দুর্বলতা আমি লক্ষ্য করেছি। তবে তিনি কৃষকদের মধ্যে শ্রেণী চেতনার বিস্তার ঘটাতে চেয়েছিলেন। আমার চাচা কৃষকনেতা জাগির তাঁর এক শারগিদ। আমি জেল থেকে বের হয়ে তার মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা শুনে ব্যথিত হই। আরও একটি মৃত্যু আমাকে ব্যথাহত করে সেটা কমান্ডার মহসিন খান ও আমার বন্ধু শাজাহান খানের ছোট ভাই ছগিরের মৃত্যু। ছগিরকে কে বা কারা হত্যা করলো আমি জানি না। ছগির সাহসী এবং ভাল ছেলে ছিলো। আফসারের ভাই আশরাফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে এম এ পাস করে শিক্ষকতার পেশা গ্রহণ করেছিল।সে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হয়েছিল এবং সর্বশেষ শহরের কোন স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হিসাবে অবসর গ্রহণ করেছে।
আফসারের কনিষ্ঠ ভ্রাতা নাসুর পুরো নাম নাসিরুদ্দিন আহমদ নাসু। নাসু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স পড়তো। শেষবর্ষে যখন অধ্যয়ন করছে,তখন সে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে রাজনীতিতে সঁপে দিয়েছে। হয়তো রাজনীতির প্রয়োজন বড় হয়ে দেখা দেয়ায় সে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে হোলটাইমার হয়ে পার্টি জীবনে চলে আসে। নাসুর খুব ছোটবেলায় আমি তাকে দেখেছি।
নাসু আমাদের গর্ব।কারণ আফসারের ছোট ভাই হিসেবে সেই আমারও ছোট ভাই। আমরা কমিউনিস্ট হতে পারি নি, নাসু তা হওয়ার জন্য চেষ্টা করছে এবং এখনও হার স্বীকারও করে নি। খদেশের একজন বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিক নেতা নাসু’র রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ছাত্রাবস্থায়।সে বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ছিল। তারপরে মজদুর পার্টি এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টিতে যায়। সে ওয়ার্কাস পার্টির জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য ছিল। মতভেদ হলে সে ওয়ার্কার্স পার্টি ছেড়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেয়। এই পার্টিতে তাকে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত করা হয়। নাসু বর্তমানে গণমুক্তি ইউনিয়েনের কেন্দ্রীয় আহŸায়ক ও বাম ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক।
নাসু সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী। রাজনীতিক না হলে নাসু একজন বড় নাট্যকার বা সম্পাদক হতো। ছাত্রজীবনেই তার সৃষ্টিশীল প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। এরশাদ শাসনামলে নাসুর রচিত ও নির্দোশিত অনেকগুলো নাটক মঞ্চস্থ হয় যা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গতি সঞ্চার করে।এরমধ্যে কয়েকটি নাটক হলো” ওভারটেক, লাগ ভেলকি লাগ”, “সাধের পাকিস্তান “, “ বহুৎরূপীর পদাবলী “,” কফিন ও “এই সেই দেশ”। এসব নাটকের কারণে তাকে অনেক মামলা ও হামলার শিকার হতে হয়। আশি সালে তার সম্পাদনায় পটিয়া থেকে গণমঞ্চ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। বার সংখ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে মাসিকটির অপমৃত্যু ঘটে।
নাসুর দু’কন্যাও পিতার সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী হয়েছে। বড়মেয়ে প্রজ্ঞা আহমদ জ্যোতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। সে ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি করে আসছে। তার লেখা বই “ আমাদের এই সময় এবং মুড়িগাছ” ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমির বইমেলায় প্রকাশিত হয়। সে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। সে ইতিমধ্যে তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করে ফেলেছে। চলচ্চিত্রগুলোর নাম – “ইবযরহফ ঃযব সধংশ”,” ড়হষু ভরাব ংঃবঢ়”, “কপালের দোষে”। জ্যোতি ২০১৬ সাল পর্যন্ত শিশু সাংবাদিক হিসেবে বিডিনিউজে কাজ করেছে। সে “ মেরিল প্রথম আলো আগামীর নির্মাতা ২০১৯”- এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালক নির্বাচিত হয়। বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লেখে। নাসু’র ছোট মেয়ে বিদ্যা আহমদ প্রাপ্তি সেন্ট স্কলাস্টিকায় একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সেও বড় বোনের মত সাংবাদিকতা করে। সে বিডিনিউজ ২৪- এর শিশু সাংবাদিক। নাসু একটি ল²ী বউও পেয়েছে। আমাদের বৌমা লুৎফন্নেছা আঁখি স্বামীর যোগ্য সহধর্মিণী। সে ঠিকঠাক সংসারটাকে গুছিয়ে রেখেছে এবং কন্যাদ্বয়কে মানুষ করে গড়ে তুলবার দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করে চলেছে। সে গণমুক্তি ইউনিয়নের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য। আফসারের কথা বলতে যেয়ে হয়তো ওর ভাইদের কথা বেশি বলে ফেললাম।আফসারের বাবার কথা একটু না বললে নয়।খুব ভাল মানুষ ছিলেন নজরুল ইসলাম সাহেব। বৃটিশ নৌবাহিনীর চাকরি দিয়ে তিনি কর্মজীবন আরম্ভ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের প্রাক্কালে যখন নৌ বিদ্রোহ,রচিদ আলী দিবস এবং লাল কেল্লায় নেতাজী সুভাস বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনানায়কদের বিচার চলছিলো, তখন নজরুল ইসলাম কোথায় ছিলেন জানতে কৌতুহল হয়। আফসোস, তার রাজনীতি সচেতন পুত্ররা কেউ পিতার কাছ থেকে দরকারি তথ্যটি জেনে নেয় নি। নজরুল সাহেব পরে হোয়েকস্টে যোগদান করেন এবং পার্সোনাল ম্যানেজার হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র সাংবাদিক