করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা রোধে ৯ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ চাই

31

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয়বার সংক্রমণ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের নতুন নতুন খবর আসছে। এর পেছনে কারণও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, যা গণমাধ্যমগুলোতে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। উদ্বেগজনক এ খবরের পর সতর্কতা অবলম্বন না করলে সংক্রমণের হার বেড়ে যাবে-এমনটি শঙ্কা স্বয়ং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। সংক্রমণ এড়াতে কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একের পর এক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। কাজেই বৈশ্বিক এ মহামারীর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কাজেই যারা একবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, সংক্রমণ এড়াতে তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হয়েছে, করোনাভাইরাস সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না এমন শীতল ও শুষ্ক পরিবেশ পছন্দ করে। শীতকালে বায়ু শুষ্ক থাকে এবং ঘরের বায়ু চলাচল গ্রীষ্মকালের তুলনায় কম থাকে। এমন পরিবেশে ভাইরাসটি তুলনামূলক বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। এ জন্য শীতকালে নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে করোনার সংক্রমণ কিছুটা কমে এলেও শীতে আবার তা বাড়তে পারে বলে কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সতর্ক করেছেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সিদ্ধান্ত হয়। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। উল্লিখিত সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি দফতরগুলোতে সেবা নিতে হলে মাস্ক পরিধান করতে হবে। মাস্ক ছাড়া ব্যক্তিদের কোনো ধরনের সার্ভিস দেয়া হবে না। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যে কোনো পথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আগমনকারী প্রত্যেক ব্যক্তির শরীর কঠোরভাবে স্ক্রিনিং করতে হবে। কঠোরভাবে যাচাই করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির করোনা নেগেটিভ সনদ। বস্তুত করোনার সংক্রমণ এড়াতে সতর্কতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, শপিংমল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনসমাগমের সব স্থানে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে নো মাস্ক সো সার্ভিস ঘোষণা দিয়ে সাধারণকে সতর্ক করেছে। তবে আমরা মনে করি, এটি সকলের জন্য সব স্থানের জন্য আইন হওয়া জরুরি। আগে এ সংক্রান্ত বলার অবকাশ নেই যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে নানা রকম নির্দেশনা প্রদান করা হলেও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে ব্যাপক অনীহা লক্ষ করা গেছে। কাজেই সাধারণ মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে এবং একইসঙ্গে যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করবে, তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, মাস্ক পরিধান না করলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। কাজেই সবাই যাতে যথাযথ নিয়মে মাস্ক পরিধান করে তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হ্যান্ড সেনিটাইজার বা সাবান পানি ব্যবহারে জীবাণুমুক্তকরণ এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। যারা আগে থেকেই বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত, তাদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে বয়স্ক, গর্ভবতী মা ও শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সঠিক নিয়মে মাস্ক পরিধান কেন জরুরি এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।