করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলছে স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মানার জন্য প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে

26

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস সংক্রমণ। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হার। যেমনটি আশঙ্কা করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিশেষজ্ঞরা। গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার কর্তৃক সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর মূলত অঘোষিত লকডাউন চলছে দেশব্যাপী। এর মধ্যেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকায় করোনা সংক্রমণের প্রাদূর্ভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের নানামূখী উদ্যোগেও এর লাগাম টেনে ধরা যায় নি। বরং ঢাকার আশেপাশে এর বিস্তার ঘটছে আশঙ্কাজনকভাবে। বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ‘বিপদসংকুল’ এলাকা ঢাকার পরে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর। এরপর দেশের অন্যান্য জেলা। মধ্যখানে চট্টগ্রামে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কিছুটা বাড়লেও এথন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। তবে গত একসপ্তাহ ধরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা ও পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জেই বেশি। প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, রোগী বেশি চিহ্নিত হওয়ায় গত ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু এ লকডাউন মানার কোন বালাই নেই সাধারণ মানুষের। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে লোকজন নানা কৌশল ও পালিয়ে অন্য জেলায় আসাযাওয়া করছেন বহু মানুষ। সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে তারা। এছাড়া নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকরা তাদের বেতনের দাবিতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করতেও দেখা গেছে। উদ্বেগের বিস্তৃত ডালপালার মধ্যে যোগ হয়েছে ট্রেন জার্নি। স¤প্রতি ঢাকা থেকে ট্রেনে করে প্রায় ৫০ জন সিলেটে গেছে বলে খবরে প্রকাশ। আবার ঢাকা ফেরতকালে ব্রা²ণবাড়িয়ায় খিলাফত নেতার জানাজায় মানুষের অংশগ্রহণের করার কথাও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কিভাবে তা সম্ভব হলো? ইতোমধ্যে প্রশাসন যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তার প্রতিবেদনে হয়তো এর উত্তর মিলবে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) প্রতিদিন ব্রিফ করছে। সেখানে আক্রান্ত, মৃত ও সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া রোগীর বিষয়ে তথ্য দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশে শনাক্তের সংখ্যা তিন হাজার ৩৮২, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১০ জন। এখন পর্যন্ত সংক্রমণের যে হার, তাতে এটি স্পষ্ট যে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রæতগতিতে বাড়ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও মনে করছেন, আগামী মে মাসের শেষ অথবা জুন মাসে এটি পিক হতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন লকডাউন করে করোনা প্রতিরোধে ইতিবাচক ফল পেয়েছে তখন আমাদের সংক্রমণ বাড়ছে কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের সমস্যাটি অন্য জায়গায়। এখানে লকডাউন নয়, সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের উদ্দেশ্য হলো সময় গণনা করা। সারা দেশের মানুষ ঘরে আটকে থাকলে পরিস্থিতি কী ঘটে এবং তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশে মানুষ নিজের ইচ্ছামতো ঘোরাঘুরি করছে। এপ্রিলের শুরুর দিকে জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র থেকে একটি প্রতিবেদন ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা বিশ্বের মতোই বাংলাদেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য দ্রæত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এটি দ্রæতগতিতে ছড়িয়ে পড়বে। জনগণের প্রতি প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থা মেনে চলার আহŸান জানানো হয়। এতে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো জোরদার করার জন্য কিছুটা সময় পাওয়া যাবে।
কিন্তু সময়কে কতটুকু কাজে লাগানো গেছে বা কাজে লাগানো হয়েছে এটিই এখন বড় প্রশ্ন। আমাদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সামনে ঘোরতর দুঃসময়। কাজেই জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মানার জন্য প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বাড়াতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।