করোনাকালে ভোগান্তিতে অন্তঃসত্ত্বারা

11

করোনা পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চতায় পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। কোভিড নেগেটিভ ছাড়পত্র ছাড়া অনেক হাসপাতাল প্রসূতিদের ফিরিয়ে দেয়ায় বাড়ছে ভোগান্তি। রাজধানীর মাত্র দুটি হাসপাতালে কোভিড মায়েদের প্রসবের সুযোগ থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটিতে মা ও গর্ভের সন্তান চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।
সমস্যা সমাধানে প্রতিটি হাসপাতালে আলাদা কর্নারে কোভিড সন্দেহজনক মায়েদের দেখে তারপর উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানোর আহব্বান তাদের। সর্বোপরি প্রত্যেক প্রসূতির সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের আহব্বান গাইনি চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন ওজিএসবির।
একজন নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়েই সন্তানকে পৃথিবীতে আনবেন-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাস নারীর নাজুক এ সময়টাকে করে তুলেছে আরও কঠিন।
অসংখ্য হাসপাতালের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় প্রসব পূর্ববর্তী নানা সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও সেবা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। নিয়মিত ফলোআপের সুযোগ না মেলায় অজানা আশঙ্কায় দিন পার করছেন তারা। যারা কোনো মতে সেবা পাচ্ছেন তাদেরকেও ভোগ করতে হয়েছে নানা যন্ত্রণা।রাজধানীর মুগদা ও ঢাকা মেডিকেলে কোভিড পজিটিভ মায়েদের প্রসবের সুযোগ থাকায় চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরাও। শেষ সময়ে প্রসূতি কোনো মাকেই ফিরিয়ে না দেবার দৃঢ় অঙ্গীকার হাসপাতাল দুটির গাইনি বিভাগের।
ঢাকা মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিলুফার সুলতানা বলেন, গর্ভবতী যে কোনো নারীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। রোগীর রক্তভাঙা শুরু হয়েছে তাকে কি ফেলে রাখব, সব কিছু ম্যানেজ করতে হচ্ছে। সেটাও ঢাকা মেডিকেল দেখছে। এভাবেই সব রোগীকে অনুভব করা হচ্ছে।
শিগগিরই সবগুলো কোভিড হাসপাতালে প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সেবার সুযোগ সৃষ্টির আহব্বান বিশেষজ্ঞদের।
ওজিএসবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, ওই এলাকা থেকে আসা তাকে নেয়া যাবে না, করোনাভাইরাস এলাকা থেকে এসেছে, সে আক্রান্ত কিনা তাকে ঢোকানো যাবে না। এ সময়ে চিকিৎসকরা নিদির্ষ্ট পিপিই পরে রোগীটিকে দেখে তাকে নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরও কাছেও মিলল আশ্বাস।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, প্রতিটি রোগী যেন চিকিৎসা সেবা পান সেটা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
দেশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪শ’ মা সন্তান প্রসব করে থাকেন যাদের অর্ধেককেই আসতে হয় কোনো না কোনো সেবা কেন্দ্রে। এ অবস্থায় ঝুঁকিমুক্ত প্রসবে কোনো মাকে ফিরিয়ে না দিতে হাসপাতাল মালিকদের প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞরা।