কবি রিজোয়ান মাহমুদের “গগনহরকরা ডাকে ও নীরবপুর”

নাসিমা হক মুক্তা

51

কবি রিজোয়ান মাহমুদ একজন আধুনিক কবি ও প্রাবন্ধিক।তিনি এমন একজন উচ্চমার্গীয় শব্দের প্রতিভাবান ও রোমান্টিক কবি যা তাঁর প্রকাশিত বই পাঠ করলে বুঝা যাবে যে কতটুকু শতভাগ ছন্দ ও শব্দের মিলনরেখার সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। তাঁর কিছু কিছু কবিতা সাড়া জাগানো কাব্যের রসবোধ ও প্রেমের মাধুর্যতা রোমান্টিক সাহিত্যের উপাদানের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষ করা যায়।অনেক সময় কিছু কবিতাকে কল্পনার ডুব সাঁতারে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে উঠে। তিনি রোমান্টিক কবিদের মতোই প্রেমকে বিভিন্নধরনের প্রকাশ আঙ্গিকে আরও সৌখিনতা এনে দিয়েছেন।
যা তাঁর কবিতার বই “গগনহরকরা ডাকে” পড়ে বুঝতে পারলাম যে সমাজ, প্রেম, দেশ ও প্রকৃতি সবকিছুতে প্রচন্ড রকম অনুরাগী ও সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক বটেও।তাঁর সাহিত্যচর্চা ও সংস্কৃতিমনা কতটুকু যে গভীর তা কেউ না পড়ে রীতিমতো অনুমান করা হাস্যকর। বাংলা সাহিত্যে এমন যৌবনরস পূর্ণ শব্দের বহিঃপ্রকাশ হয়তো অনেকেই করেছেন তবে তাঁর কবিতার অল্প কয়েকটি বই পড়লে বুঝা যায় – তিনি এক আধুনিক মহা প্রতিভাধর লেখক। তবে কবিকে কাজ থেকে যতটুকু দেখেছি তাতেই বুঝা যায় তিনি এক্কেবারে তাঁর কবিতা বই “নীরবপুর” নামকরণের মতোই নীরবে- নিভৃত বসবাস করেন। শান্ত ও সরল মানসপটে জীবন অতিবাহিত করেন। হয়ত তাঁর সোজাসাপটা চলনসই জীবনেই তাঁকে লেখালেখি চর্চায় নিজের মতো করে সরল, সহজ ও প্রাঙ্ঞময় শব্দের পরত সাজিয়েছেন। যার চোখে প্রকৃতিকে শতরঞ্জির শত রং- রূপে শব্দকে বাঁধিয়েছেন চিত্রকলার মহরতে।শুধু কাব্য, কবিতায় নয়,তিনি সমাজের বিভিন্ন বৈষম্য,অনাচার, সামাজিক অবক্ষয়েও প্রবন্ধ আকারে প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন কবি ও লেখকের বিভিন্ন বইয়ের পাঠপ্রতিক্রিয়াও করেছেন-
যেমন গগনহরকরা ডাকে বইটিতে তিনি রহস্যময়ীতা, কুমারীজল, মনবৌয়ের বিশুদ্ধ নাপাক, মোরগ ডাকের আঙ্গিক, সুবেহ-সাদিক, বিহব্বলা নদী, ধুন্দুল নিতম্ব, মন্ত্র ও দোয়া জ্যামিতিক বাগান, মসুরির ডাল, শৈবাল, লুম্পেন চাঁদ, কাজানজাকিস, আরশোলা, ভিক্ষুক, চিতল রোদ, মৎস্য শিকার, রেস্তোরাঁ,মেঘের কুসুম, বৃক্ষ, পাখি,গোবিন্দ, বাড়ি,সংবিধান, পন্জবিবি,মন্দির, কাঁসর, পলকা বাতাস, কুচ্ঞল, কান্তেহেনেরাল,কারেন্সি যুগ,ছাগশিশু, জাতিসংঘ ফ্যাক্সবার্তা, রজ্জব,পাচ্ঞুশা, উপরাষ্ট্রপতির দপ্তর,পিথেকানথ্রোপাস, হোমোইরেক্তুস,বাল্যশিক্ষা নিপুণ বাঁক, জঙ্গনামা এই রকম বেশকিছু শব্দ ও প্রকৃতির বহু উপাদান সংমিশ্রণে আধুনিক লেখনশৈলী ও নতুনত্ব ফুটে উঠেছে।
গগনহরকরা ডাকে গ্রন্থের কাব্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাভাবনা বহিঃপ্রকাশ উন্নত মানসিকতার মুন্সিয়ানা মনস্কতার হিরণদ্যুতি ছড়িয়েছে। যেমন : সেই গ্রন্থে দেশের প্রতি অগাধ মায়ার দায়বদ্ধতা থেকে স্বাধীনতা মুক্তির তেত্রিশ পরও মানুষ যে পরাধীন ছিল সে কথা উল্লেখ করতে গিয়ে কবির অমোঘ উচ্চারণ : এমন করে কবিতায় প্রকাশ করেছেন
“কোথাও শ্রাবণ নেই ( দ্রোহগীতি)
ব্যাঙগুলো ডোবার ভেতরে ডাকাডাকি করছে প্রবল
জলাশয়ে সে – সব ব্যাঙাচি
ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল দৌড়াতে ভয় পায়।
(দ্রোহগীতি, গগনহরকরা ডাকে)
আমি একজন নগণ্য পাঠক। যদি আমি ভুল না করে থাকি -কবি রিজোয়ান মাহমুদ একজন দেশপ্রেমিক। দেশের মানুষের প্রতি ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধাশীল। তাই ১৯৪৭ সালের পর বাংলাদেশকে নিয়ে ঘটে যাওয়া প্রতিটি যুদ্ধতে কবি ব্যথিত হয়ে বিভিন্ন কবিতা, বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখেন। তবে “গগনহরকরা ডাকে” বইটিতে আলাদা ভাবে কবি ১৭ মার্চ কে তুলে এনেছেন নিজের অনন্ত পিসাসা থেকে। আমরা সবাই জানি – ১৭ মার্চ কি? তব্ওু বলছি, না বললে কবি ও কবিতার বিষয়বস্তুকে অসম্মান করা হবে। ১৯২০ সালে ১৭ মার্চ গোলাপগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।জাতির পিতার জন্মদিন কে কবি কবিতার ভাষায় বিরহ উচ্চারণ করতে গিয়ে তিনি লিখেন :
সবটি সাধারণ ভাবে আসে। উপরোল্লিখিত শিরোনাম ছাড়া… তবু মানুষের জন্য এ সকাল নয়। পাখি ও প্রকৃতিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি – যার জানে এর মহিমা। মেঘকে বলেছি, যে বোঝে করুণ বিলাপ।( শেষে লিখেন) – দূরাগত অতিথি গ্রোত কিভাবে মোহনায় মিলনের কথা বলে। পাপপুণ্য বুঝি না। বুঝি দিনরাত ২৪ ঘন্টা ১৭মার্চ।) ( গগনহরকরা ডাকে, কবিতা : ১৭ মার্চ)
“মানুষের সংবিধান” কবিতায় কবি রিজোয়ান মাহমুদ মানুষের প্রতি মানুষের যে মমতা, সেটি যে কোথাও হারিয়ে গেছে সেই বিরহে বিরহিত হয়ে ডুবে গেছেন বন- বৃক্ষ, দূর আকাশ, নগরীর ধুলো, দিনের মুখর কলতানের সমুদ্রের তলদেশে।তিনি বারবার ছুটে যাওয়া আকুতি করেছেন প্রকৃতির কাছে কিন্তু যাওয়ার বন্ধকতা মানুষের। মানুষ যেতে পারে মানুষের কাছে, প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারে। তাই আকুলিবিকুলি করে খুঁজে বেড়িয়েছে মানুষের সান্নিধ্য।বর্তমানে মানুষ মানুষেতে যে এতো দুরত্ব সেটি কবির মনকে খুব ভাবিয়েছেন। তাই লিখেছেন…
কেন জানি মাঝে – মধ্যে ইচ্ছে হয় কোথাও চলে যাই
আমার সমস্ত বোধ ও ভাষা নিয়ে বন- বৃক্ষ লতাগুল্মোর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাই।
প্রকৃতি ও জীবন দুটি ভিন্ন তবে প্রকৃতি আধুলি ছাড়া কখনো মানুষ বাঁচতে পারে না। প্রকৃতি কখনো ছোঁয়া যায় না, দেখা যায়, অনুভব করা যায়। কবি “চাঁদ সন্ত্রাসীরা” কবিতায় পাঠকদের রীতিমতো ঘোরের মধ্যে নিয়ে যান। এই কবিতাটিতে কবি চাঁদ থেকে শুরু করে প্রকৃতির জমিন ছুঁয়ে যাওয়ার অনুষঙ্গগুলো অসাধারণ মুন্সিয়ানার পরিচয়ের সাথে জোড়া লাগিয়েছেন বাংলার সৌন্দর্যে। এ এক অসাধারণ কবিত্ব।
“বাতাস গভীর হলে
চাঁদ সন্ত্রাসিরা সে রাতে রাস্তায় নেমে এলো
অথবা
পাঞ্জুশা’র গলায় ঝুলে থাকা কড়ি, লালনের নিঃসঙ্গ মমতা
আমি বাঙালিকে দিয়েছি শোভন কোমলতা।”
প্রত্যেক কবিরা মস্তিষ্কের বীজ বপনকারী। নিঃশ্বাসের পরতে পরতে তার অনুভূতিগুলো সাজায় কলমের ডগায়। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে কবিরা কবিতা সৃষ্টি করে। কবি গগনহরকরা ডাকে কবিতাটিতে কাক – ভোরে অর্থ্যাৎ বাংলার কৃষকের ফসল ফলানোর যে ধুম, তাতে যে প্রকৃতির তাপমাত্রার আদল ও সে চাষে বৃষ্টির সোহাগী আত্মার জোয়ার না আসলে অফুরন্ত সুখ ঘরে আসেনা।কবি তা প্রকাশ করেছেন ভিন্নতায়। এই কবিতায় বর্ষা বিদায়ের পর শরত ও হেমন্তের আগমনী বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। হেমন্ত যে ধবল কুয়াশায় মুখ ভারে কৃষকের ফসল কাটার সময়কে নষ্ট করে সেই আহাজারিতে রাশি রাশি ধানের কুসুম ঝরে পড়ে যায়। তাই কবি, তাঁর ভাষায় বলেন…
“দৃশ্যত টুকরো রোদ ভাসে মিলার সম্পন্ন বুকে
পাড়ায় পাড়ায় এই সংবাদ পৌঁছতে কাক- ভোরে গগনহরকরা ডাকে…. ”
( গগনহরকরা, পৃ/৪৮)
কবি রিজোয়ান মাহমুদ” নীরবপুর “বইটিতে সৃষ্টি জগৎ সম্পর্কে কবির গভীর অনুভূতি ও জানার আগ্রহ বিভিন্ন কৌতুহল বিভিন্ন শব্দের ভিন্নতা দিয়ে সহজভাবে ব্যাখা করেছেন। দিব্যচোখে কবি অবলোকন করেছেন জীবন ও জগতকে মুসাফির বেশে। খুব নমনীয়তায় উপহাস করা মানুষের কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে সবচেয়ে বড় কিতাব আল কোরানের মনোর্থনায় নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। স্নেহ,মমতা, ক্ষোভ, সৃষ্টিকর্তার প্রতি অভিমান, আবেগ ও উচ্ছ্বাসের আশাবাদী কবি রিজোয়ান মাহমুদ বাংলা সাহিত্যের কাব্যিক আঙ্গিগুলো পরম যত্নে তুলে ধরেছেন। যেমন :
আমাকে উপহাস করে তাড়িয়ে দিয়েছো
পাতাগুলো তখন সুসভ্য আচরণ করেছে আমার সঙ্গে। ( নীবরপুর: মর্মবাণী)
মনোর্থনা কবিতায় …
“কুম্ কুম ইয়া হাবা-বী কাম তানা-মু
প্রতিদিন ভোরে স্ত্রীর কন্ঠের সুরেলা মধুর ধ্বনিতে ঘুম ভাঙে
মনে হয়, এইতো সমুদ্র, রুপালি স্নানের আগে আছড়ে পড়েছে পায়ে।” ( নীরবপুর : মনোর্থনা)
নির্সগ প্রেমের গহনচারী কবি প্রেমের ঐশ্বরিক শক্তিতে মজে যৌবনের উত্তাল মাদকতায় খেই হারিয়ে গভীর রাতে দিদির বাড়ির ছাদে একা একা চাঁদের সাথে সখ্য করেন। তাই কবিতায় প্রকাশ করেন…
চাঁদ থেকে অনেক কলঙ্ক ধার নিয়ে
পাতাকে দিলাম।
কালো নেশা নেশা অন্ধকারে
দিদিরর বাড়ির ছাদে চন্দ্রবিন্দুর মতোন ঝুলেছিল
নিঃশ্ব চাঁদ। ( নীরবপুর: জবানবন্দি)
কবি রিজোয়ান মাহমুদ একজন নারীবান্ধব অর্থ্যাৎ নারীর প্রতি খুব সহনশীল, নমনীয় মানবিক ও শ্রদ্ধাশীল। একজন নারীকে যখন ঘরকুনো করে রাখে বা শুধুই রন্ধনশীল কল মনে তখন সেটা কবির চোখে খুব ব্যথিত এক জগৎ। তাই কবি প্রতিবেশী আমেনার দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও অমানবিক আচরণ কে তিনি আধুনিক ভাষায় রূপ দেন…
“চিরল বাতাস আমার ধমনী ছুঁয়ে পড়শি বাড়ির দিকে চলে গেল।
চেয়ে চেয়ে দেখেছি সুভেজা ওড়না নিঃশব্দে খসে,
আমার সাকিন নিচ্ছে জলে।” ( নীবরপু : পড়শি আমেনা)
গ্রাম বাংলায় বেড়ে ওঠা কবি রাতের জোছনা, সকালের নির্মল বাতাস, বিকেলের মিহিরোদ ও কানফুলের আবেগ জড়িত সোহাগবদন মুখের আদর সবই যেন কাছে ডাকছে। তাই শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার আকুতি যেন কবিকে খুব টানে। তিনি লিখেন…
বাড়ি যাবো
গাঁয়ের জোছনাগুলো একত্রিত হলো
পরস্পর কাছে (কবিতার প্রথম অংশ)
বাড়ি মানে, অফুরন্ত শব্দহীন আবেগ
ছাদে শুকোত দেয়া পোশাক, দুদীর্ঘ রাত্রির ক্লান্তি।” (ছাদে শুকোতে দেয়া পোশাক)
কবি জন্মদাতা পিতার উপদেশ কখনো অমান্য করেননি।সবসময় বাবা- মায়ের আদেশ মেনে চলে তাদের দেখানো পথে হেঁটেছিলেন। কবির বাবা যেন আলোর প্রদীপ নিয়ে তাকে সামনে চলার পথ দেখিয়েছেন। তাই কবি “আলোর ঠিকানা” কবিতাটিতে সে কথা উল্লেখ করেছেন….
খড়িমাটি নিয়ে জীবন এঁকেছি
দু’জনমে কাছে বসে থির দেখেছি উৎস মুখ
নাম না জানা একটি লোকের কাছে বাবা চাবি রেখে
বলেছিল, জলাধারের যে অংশ জলে ভরপুর
ঠিক সে জায়গা থেকে ডুব অতল জলের ঢেউ গুণে যাবি।”
ঘামের ইতিহাস কবিতাটিতে পুরোপুরি দেশের প্রতি প্রেমবোধ প্রকাশ করেছেন। আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের যাঁতাকলে প্রায় দুবছর নিষ্পেষিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশের উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হযে পরবর্তী যে যুদ্ধ চলছিল তা তাঁর লেখা “ঘামের ইতিহাস” কবিতায় তা প্রকাশের করেছেন অন্যভাবে-
“ক্রিকোণমিতি কখনো পড়িনি। অংক ও জ্যামিতিতে কাঁচা ছিলাম বলে মাস্টার মশাই শেষ পর্যন্ত আগ্রহ দেখাননি।
তারা জানে না আমি এসব না পড়েও বুঝে গেছি ঘামের ইতিহাস।
তিনটি কোণের মাঝখানে ডুব দিয়ে পেয়েছি নিকুঞ্জ কূল। (নীরবপুর: ঘামের ইতিহাস)
বরাবরেই আমাদের কবি প্রকৃতি সচেতন মানুষ। তাঁর কবিতায় বৃক্ষ, নদী, সবুজ বন- বনানী, পাহাড় – পর্বতের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগের সুর লক্ষ্য করা যায়। প্রকৃতির খুঁটিনাটি সব বিষয়ই তাঁর কবিতায় ব্যবহার করেছেন। তবে বৃক্ষ শব্দটি বিভিন্নভাবে এনেছেন শব্দের বহিঃপ্রকাশে। বৃক্ষ প্রকৃতির শোভা। তাই হয়ত বৃক্ষের যাপিত জীবনের ঋণের বোঝা হালকা করতে বারবার বৃক্ষ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। যেমন…
তোমার আকুন্ঠ পরামর্শে
বৃক্ষদের সঙ্গে কথা হয়েছে অনেক,একদম
পাতা ও শেকড়ের যারা ইতোমধ্যে আস্হা অর্জন করেছে
তারা আমাকে বোঝেনি। ( নীরবপুর: নদীরেখা ধরে বুহদূর)
“বৃষ্টি ও বৃক্ষের গল্প” কবিতায় নাগরিক জীবনের কথা বলেছেন। প্রতিটি মানুষ বৃক্ষ ও বৃষ্টির কাছে ঋণী। বৃষ্টি না হলে যেমন বৃক্ষ বাঁচে না ঠিক তেমনি বৃষ্টি ও বৃক্ষ না ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। যেমন বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন দেয় আর মানুষ প্রতিদিন কার্বনডাই-অক্সাইড বাতাসে ছেড়ে দেয়। এটি একটি ক্ষতিকর গ্যাস, যা বৃক্ষ ধারণ করে বাঁচে। তাই কবিতায় বলেন…
পথে প্রতিবন্ধী এক বৃক্ষের সঙ্গে দেখা,
আমি ওকে বৃষ্টি দিয়ে ধোব বলে কথা দিয়েছি।
এই কবিতার শেষাংশ…
অতঃপর একদিন সূঁচ গেঁথে শিরার গ্রোতের
ধারায় পেয়েছি বৃষ্টি আর তাতে ফলবতী হলো
বৃক্ষের শরীর। (নীরবপুর : বৃষ্টি ও বৃক্ষের শরীর)
কবিতা চর্চা ও পাঠ করা অনেক গভীরতম অধ্যায়। একজন পাঠক কবিতা পাঠ করে তার সারাংশ লেখা খুব দুরূহ ব্যাপার। কবি রিজোয়ান মাহমুদ কে আমি কবিতায় যা দেখেছি তা প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি। কবিতা লাজুক বধূর মতো, একজনের ভাষাকে আরেকজন রূপ-রস দেওয়া অনেক প্রতিবন্ধকতা এসে দাঁড়ায়। কবিতা পড়ে যা স্বাদ পেয়েছি তা ভাষায় ব্যাখা করা আমার জন্য কঠিন বিষয় তবুও আমি একনিষ্ঠ পাঠক। লাজ, সরম ও সাহসের বদান্যতা উপেক্ষা করে কবির কবিতাতে মনোনিবেশ করেছি। কবিতা একজন কবির অনেক সাধনা ও আত্মগত ভাবোচ্ছ¡াসের ফসল। হুবুহু কবির কবিতায় আত্মনিমগ্ন হওয়া কারো দ্বারা সম্ভব না। যার যার মতে শব্দের প্রয়োগে সবার ভিন্নতা থাকে। আমার ও আছে। কোন বইয়ের পাঠপ্রতিক্রিয়াতে আমার যথেষ্ট লোভ কাজ করে। আমি একজন নগণ্য পাঠক। কবি রিজোয়ান মাহমুদ অনেক বড় মাপের। উনার কবিতার বই “ গগনহরকরা ডাকে ও নীরবপুর” এই দুটি পাঠপ্রতিক্রিয়ার সাহস করায় কবির কাছে মার্জনা ভিক্ষা করা ছাড়া আমার কোন কিছু বলার নেই। তবে ভবিষ্যতে এই বই দু,টোর আরও বিশদ জ্ঞানগর্ভ লেখার আশা করছি। এই বই দুটোর পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখতে কবিতার মুলভাবের সুমিষ্টতা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারিনি। এই না পারার লজ্জা কাঁধে নিয়ে শ্রদ্বেয় কবি রিজোয়ান মাহমুদের কাছে পাঠপ্রতিক্রিয়া দুটোর ভুলভ্রান্তি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি ও মার্জনা আশা করছি।