রাঙামাটিতে দুদক সচিব

কঠোর শাস্তি দিয়েও দুর্নীতি কমানো যাচ্ছে না

রাঙামাটি প্রতিনিধি

3

দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক’র সচিব মো. দিলোয়ার বখত বলেছেন, ‘আইন আর শাস্তি দিয়েও দুর্নীতি কমানো যাচ্ছে না। অনেকক্ষেত্রে পরিবার থেকেই অসদোপায় অবলম্বনে অনুপ্রাণিত করে। তাই আমরা নিজেরা সোচ্চার না হলে দুর্নীতি কমবে না’। গতকাল বুধবার সকালে তিনি রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুদক’র ‘গণশুনানি’তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সচিব বলেন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল শুধু সরকারি কর্মচারিদের জন্য নয়। এটা সকলের জন্য। শুদ্ধাচার কৌশল চর্চা করলে দেশ এমনিতেই দুর্নীতিমুক্ত হবে।
‘নাগরিক সেবা ও সুবিধাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উদ্ভুত সমস্যাদি শ্রবণ ও নিষ্পত্তি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’র লক্ষ্যে দুদক এ গণশুনানি’র আয়োজন করে। অভিযোগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন সচিব। বলেন, ‘আমরা দেখেছি, জনগণ তথ্য চায় না। অথচ তথ্য অধিকার আইনে তথ্য দিতে বাধ্য সরকারি দপ্তরগুলো। এ কর্মকর্তা বলেন, ‘২০০৪ সালে দুদক আইন প্রণয়ন করা হয়। মানুষের আগ্রহের কারণে অভিযোগ নিতে হটলাইন (১০৬) নম্বর চালু করেছি। এতে যে কেউ অভিযোগ দিতে পারেন। এছাড়া ডাকযোগেও অভিযোগ গ্রহণ করি। দুদক বেনামি পিটিশন ফেলে দেয় না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিই’।
গণশুনানিতে বাছাই করা ১৮টি অভিযোগের শুনানী হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৫ টির অভিযোগকারী গণশুনানীতে উপস্থিত ছিলেন। আর ১৩ টিই ছিলো বেনামী। এরমধ্যে রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৮-১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ‘সোলার প্রজেক্ট’র সুবিধাভোগিদের কাছ থেকে ৭-১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, লাইসেন্সপ্রাপ্তিতে ‘বিআরটিএ’র ঘুষ গ্রহণ, পেনশন প্রাপ্তিতে ২% হিসাব রক্ষণ অফিসে উৎকোচ গ্রহণ, পিআইও, এলজিইডি, বিদ্যুৎ বিভাগ, হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি সেবাখাতের অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন সচিব।
সকাল দশটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২ টায় সমাপ্তি ঘোষণা হলে সচিবের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুর রব সওদাগর নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ‘অভিযোগ বাক্স’ তে দেওয়া আমার অভিযোগটি লুকিয়ে ফেলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা’। তার বিষয়টিও তদন্তের নির্দেশ দেন সচিব। তবে গণশুনানিতে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তার কারণে তারা নিজেদের অভিযোগ জানাননি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাহমুদ হাসান, রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শারমিন আলম, সহকারী পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউছার, উপজেলা চেয়ারম্যান সামশুদ্দোহা চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শতরূপা তালুকদার। পরে দুদক সচিব কাউখালীর ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন করেন।