রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সিম বন্ধের উদ্যোগ

কঠোরভাবে কার্যকর করা চাই

11

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির কতটুকু বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্বের জন্য নিরাপদ তা নতুনভানে চিন্তার বিষয় হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের নানা তৎপরতা ও তাদের গতিবিধি সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি করছে। তাদের বিশাল একটি অংশ মিয়ানমার সরকার কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ের দুই বছর পূর্তিতে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে যে সমাবেশ করেছে তা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের সরকার ও জনগণের কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা মূলত বাংলাদেশ সরকার ও দেশের মানুষের উদারতা ও মানবিকতাকে দুর্বলতা ভেবে কোন দূরভিসন্ধি কার্যকলাপে জড়িত হচ্ছে কিনা-তা নজরদারি করা এখন বেশ জরুরি হয়ে পড়েছে। আশার কথা সরকার সম্প্রতি এবিষয়ে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ও সিম বেচাকেনা ও নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রায় অর্ধেকেরই বাংলাদেশি সিম ব্যবহারের বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
স্থানীয়দের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে এসব সিম ব্যবহার করে তারা অপরাধমূলক নানা কর্মকাÐ চালিয়ে আসছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য পাচার, মাদক পাচার এমনকি খুনাখুনির মতো ঘটনা ঘটছে। এসব সিম ব্যবহার করে সীমান্তের এপার এবং ওপারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিল তারা। এতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিমিষেই পাচার হয়ে যাচ্ছিল। উপর্যুক্ত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক মোবাইল সেবা বন্ধের নির্দেশনা আসে। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর অপারেটরদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর বিটিআরসি অনির্দিষ্টকালের জন্য উখিয়া ও টেকনাফে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক সেবা শিথিল করে দেয়। এতে ওই এলাকায় কোনো রকমে মোবাইলে কথা বলা গেলেও ইন্টারনেট ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি আমাদের সাময়িক স্বস্তি দিলেও ইতোমধ্যে বিকল্প উপায় খুঁজে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। দেশি সিমের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের কারণে গত দু’সপ্তাহ ধরে তারা মিয়ানমারের সিম ব্যবহার করছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় টেকনাফ-উখিয়ায় দেশটির মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল। আর এ সুযোগই এখন তারা কাজে লাগাচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের একের পর এক এসব কর্মকাÐ আমাদের জাতীয় জীবনে ভয়ঙ্কর অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে মোবাইল ব্যবহার করার কারণে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা যথেষ্ট হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সরকার দ্রæত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। অনেক রোহিঙ্গা মিয়ানমার ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে। এতে আমাদের রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল হতে দিচ্ছে না তাদের একটি শক্তিশালী চক্র। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে মনে হয় না। অচিরেই তাদের প্রত্যাবাসন করা না গেলে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে মোবাইল জব্দের কোনো প্রকার অভিযান এখনো হয়নি বলে জানা গেছে।
আমরা চাই, নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে এসব ফোন ও সিম জব্দ করা হোক। একইসাথে যারা এ সিম কেনাবেচার সাথে জড়িত তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এতে কিছুটা হলেও ক্যাম্পে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমবে। সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর নজরদারি করতে হবে এর সাথে আইনগত পদক্ষেপও গ্রহণ করতে হবে।