কচুই একমাত্র নির্ভেজাল খাদ্য : রাষ্ট্রপতি

25

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, কচু ছাড়া সব কিছুতেই ফরমালিন। নির্ভেজাল খাবার দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। খাদ্যে ভেজালের কারণে ক্যানসারসহ জটিল রোগ হচ্ছে। দেশের মানুষই দানব হয়ে যাচ্ছে। এ পথ থেকে তাদের ফেরাতে হবে। নইলে জাতি হিসেবে আমরা পঙ্গু হয়ে যাব। শুধু পকেট মারলেই গণপিটুনি হয়? এ ধরনের মানুষকেও গণপিটুনি দিতে হবে।
গতকাল রবিবার দুপুরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পঞ্চম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে ভিন্ন প্রসঙ্গে গিয়ে খাদ্যে ভেজালের ভয়াবহতা তুলে ধরেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খবর বাংলানিউজেরএসময় গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বলেন, আমি তোমাদের গুরুজন হিসেবে বলতে চাই, উচ্চশিক্ষা শেষে শুধু একটা ভালো চাকরি পাওয়াই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজে শিক্ষিত হওয়া ও অন্যকে শিক্ষিত করা এবং বৃহৎ মানবতার কল্যাণ করা। তাই ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবসত্তা দিয়ে দেশকে আলোকিত করবে, বিশ্বকেও সে আলোর আভায় রাঙিয়ে তুলবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সার্টিফিকেট দেওয়া এবং শিক্ষার প্রসারই শেষ কথা নয়। অমাদের প্রয়োজন যুগোপযোগী শিক্ষা। বর্তমানে প্রতিনিয়ত যুগে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। কাজেই আমাদেরও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বাস্তবভিত্তিক এবং প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। গুণগত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে ল্যাবরেটরির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি গবেষণা ও হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়। এ জন্য গবেষণা ও ল্যাবরেটরি কর্মের ওপর অধিক মনোনিবেশ করা জরুরি।
নিত্যনতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করার আহব্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মাথায় রেখে ন্যানো টেকনোলোজি, রোবোটিক্স, ব্লক চেইন ম্যানেজমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই উদ্যোগী হবেন বলে আমার বিশ্বাস। প্রযুক্তি উন্নয়নের বাহন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সবাইকে মনোনিবেশ করতে হবে। অন্যের অনুকরণ নয় বরং আমাদের যাতে অন্যরা অনুকরণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।
এর আগে দুপুর আড়াইটায় সমাবর্তন শোভাযাত্রা সহকারে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠের পর রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে ডিগ্রি উপস্থাপন ও দেওয়া পর্ব, পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তদের সনদপত্র দেওয়া, বিশেষ অতিথির বক্তব্য, সমাবর্তন বক্তার বক্তব্য ও সমাবর্তন স্মারক দেওয়া শেষ হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম শেখ। এবারের সমাবর্তন বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াটেক অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুর রহমান।
এতে আমন্ত্রিত অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুস সোবহান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন মাতিন উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পঞ্চম সমাবর্তনে অংশ নিতে দুই হাজার ৫৮৬ জন গ্র্যাজুয়েট নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে দুই হাজার ৫১৬ জন স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং ৭০ জন পিএইচডি গবেষকসহ স্নাতকোত্তর সমাপ্ত করা ইঞ্জিনিয়ার।