কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এল ৬ জেলের লাশ

ঝড়োহাওয়ার কবলে মাছ ধরার ট্রলার বিকল ২ জন জীবিত উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ৭ জেলে

কক্সবাজার প্রতিনিধি

19

কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৬ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ট্রলারের ভেতর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে নৌকার মাঝিসহ ২ জনকে। নিখোঁজ রয়েছে আরো ৭ জেলে। জীবিতদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কক্সবাজার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত ও নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যারা রয়েছেন তারা হলেন, ট্রলারের মাঝি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মান্দাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা মগবুল সর্দারের ছেলে মনির (৪২)। অপরজন একই এলাকার নৌকার মালিক ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩২)।
ওসি খায়রুজ্জামান বলেন, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একটি মাছ ধরার ট্রলার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় ভেসে আসার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম সেখানে যায়। এ সময় বীচ কর্মীদের সহায়তায় পানিতে ভাসমান ৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ট্রলারের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে পাটাতনের ভেতর থেকে দুইজনকে জীবিত ও আরো দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়েছিলো ট্রলারটি। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
জুয়েলের বরাত দিয়ে তার ফুফাতো ভাই মো. মকসুদ বলেন, গত বৃহ¯পতিবার ১৫ জন মাঝি মাল্লা নিয়ে চরফ্যাশন সামরাজঘাট থেকে মাছ ধরতে সাগরে যায় তারা। ঐদিন দিনই তারা ঝড়ের কবলে পড়ে। শুক্রবার ও শনিবার তাদের সাথে পরিবারের যোগাযোগ ছিলো। কিন্তু রবিবার থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বুধবার এক আতœীয়ের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে জুয়েলকে দেখি। প্রথমে জুয়েল একটু কথা বললেও এখন অজ্ঞান বলে জানান তিনি। তবে নিহতদের চেহরা বিকৃত হওয়ায় তাদের পরিচয় বলতে পারেননি তিনি।
মনির মাঝির ফুফাতো ভাই মো. নুর হোসেন বলেন, নৌকায় ১৫ জন জেলেদের মধ্যে মনির মাঝি ছাড়াও মামাতো ভাই মকছুদসহ চারজন নিকট আত্মীয় ছিলো। শুধুমাত্র মনিরের সন্ধান পেয়েছি। অন্যদের কোনো খবর জানি না। নিহত হয়েছে সেখানে আছে কিনা বা নিখোঁজ হয়েছে কিনা তা বলতে পারছি না। তাদের হারিয়ে পরিবারের মাঝে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা চলছে।
মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে নিহতদের অনেক আত্মীয় এসেছেন। পরিবারের লোকজন পরিচয় শনাক্ত করার পর তাদের লাশ হস্তান্তর করা হবে।
কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের এএসপি ফখরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভাঙাচোরা একটি মাছ ধরার ট্রলার ভেসে আসার খবর পাওয়া যায়। পরে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে ট্রলারটির আশপাশে চারটি মরদেহ ভাসমান অবস্থায় এবং আরও দুটি মরদেহ ট্রলারের পাটাতনের ভেতর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি। এটি বাংলাদেশের না মিয়ানমারের সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় অনেকেই ধারণা করছেন এটি মিয়ানমারের ট্রলার হতে পারে।