কক্সবাজার শহর খানাখন্দে ভরা সড়ক

একটু বৃষ্টিতেই ডোবায় পরিণত হয় সড়ক। এ বেহাল অবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন পৌরবাসী

সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও

11

এক পশলা বৃষ্টি হলেই কক্সবাজার শহরের সড়ক ও উপসড়কে সৃষ্ট গর্তে পানি জমে পরিণত হয় ‘ডোবায়’। এসব সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঝুঁকি নিয়ে কোন যানবাহন যেতে চায় না সড়ক দিয়ে। সড়কগুলোর এ দূরবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন পৌরবাসী।
বর্ষা মৌসুমে নালা-নর্দমা ঠিকমত পরিষ্কার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে করোনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সড়ক সংস্কার করতে না পারার জন্য এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
শহরের পূর্ব টেকপাড়ার বাসিন্দা আরিফ জানান, পৌরসভা এলাকার টেকপাড়া ও হাঙ্গরপাড়ার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রিকশা কিংবা অন্যকোন গাড়ি তো দূরের কথা পায়ে হাঁটাও মুশকিল। আমার জানা মতে, গত কয়েক বছরে আমাদের রাস্তার কোন সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি।
স্থানীয় আবুচিং রাখাইন বলেন, আমার বাড়ির সামনের রাস্তা সব সময় হাঁটু পানিতে ডুবে থাকে, বৃষ্টি থাকলেও, না থাকলেও। কারণ রাস্তায় যে বড় বড় গর্ত আছে, তাতে সব সময় পানি জমে থাকে। চলাচলে অসুবিধার কারণে আমরা কয়েকজন মিলে বালির বস্তা দিয়েছি রাস্তার পাশে। এখন কোন রকমে এলাকাবাসী হাঁটাচলা করছেন।
শহরের চাল বাজার সড়কের মাসুদ করিম জানান, মূলত আমাদের যাতায়াত বড় বাজার হয়ে অথবা বার্মিজ স্কুলের রোড হয়ে। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার যা অবস্থা, কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তার এই দূরবস্থার কারণে বার্মিজ স্কুল হয়ে চাল বাজার পর্যন্ত সামান্য দূরত্বের রাস্তায় রিকশা ভাড়া চায় ৫০ টাকা।
এদিকে পেশকারপাড়া, পাহাড়তলী, আচিমং পেশকার পাড়া, গুদার পাড়া এলাকা, বিজিবি ক্যাম্প, চৌধুরীপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাগরিক দুর্ভোগের কথা।
তাদের অভিযোগ, গত পৌর নির্বাচনের পর থেকে এলাকার তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে বর্তমানে ভাঙা রাস্তার কারণে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
শহরের ঘোনারপাড়ার আবুল কাশেম, নয়ন, কালুসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকায় নালা করার জন্য কয়েক মাস আগে মাটি কেটে রাস্তার ওপর রাখার কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই নালা সংস্কারের কোন নামগন্ধও নেই।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই পৌর কাউন্সিলর বলেন, আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। না পারছি সইতে, না পারছি পদত্যাগ করতে। সব কথা আপনাদের বলা যাবে না। তবে এবার নির্বাচন করে বড় ভুল করেছি বলে মনে হচ্ছে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, দেশে করোনা সংকটের কারণে সব কিছুতে স্থবিরতা চলছে। আর বর্ষা মৌসুমে রাস্তার কিছুটা সমস্যা হয়। তবে খুব দ্রæত দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সব রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করবো।