অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, উঠে গেছে কার্পেটিং

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ধুলায় ধূসর, জনদুর্ভোগ

শফিক আজাদ, উখিয়া

10

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। নষ্ট হয়েছে কার্পেটিং। সড়কের চারিদিকে ধুলো উড়ছে। ধুলোয় ধূসর হয়েছে সড়কটি। এতে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়ক।
কার্পেটিং না থাকায় সড়কে শুধু ধুলো আর ধুলো। এ থেকে কিছুতেই নিস্তার পাচ্ছে না যাত্রী ও পথচারীরা। চরম অস্বস্তিতে পথ চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অস্বস্তিতে আছে ব্যবসায়ীরাও। ধুলোর কারণে তৈরি হয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। এতে মানুষের সর্দি, চর্মরোগ, কাশিসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
কক্সবাজার-উখিয়া-টেকনাফ ৭৯ কিলোমিটার আরকান সড়কের অবস্থা বর্তমানে খুবই করুন। খানাখন্দে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন গাড়ি চলাচলে অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বর্তমানে সড়কের দু’পাশ প্রশস্থ’করণে কাজ চলছে।
এ সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক বছরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে অর্ধশতাধিক মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেছে। আহত হয়ে আরও শতাধিক মানুষ পঙ্গু অবস্থায় দিনযাপন করছেন। সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান উখিয়া পরিবহন সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক বাদশা মিয়া।
সু-শাসনের জন্য সুনাগরিক (সুজন) এর উখিয়ার আহবায়ক ও সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ বলেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গা আসার পর থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। রোহিঙ্গাদের সেবার নামে দেড় শতাধিক এনজিও’র ৫ হাজারের অধিক গাড়ি বর্তমানে সড়কে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। যার কারণে সড়কের এই অবস্থা হয়েছে।
টেকনাফ স্থলবন্দর ও কাস্টম্স শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানির যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে কক্সবাজার-টেকনাফ (শহীদ এটিএম জাফর আলম) আরকান সড়ক। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন আমদানি-রপ্তানি কাজেও ব্যবহৃত হয় সহ¯্রাধিক পরিবহন।
এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, রাস্তার দু’পাশে দোকান-পাট, বাজার-মার্কেট ধুলোয় দূষিত। পুরো সড়ক জুড়েই উড়ছে ধুলোবালি। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী চাকরিজীবী, গাড়ির চালকসহ সবাই অতিষ্ঠ।
সড়কের দু’পাশের বাসা-বাড়ি দোকানপাটে ধুলোর জোয়ার। যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা, টমটম থেকে শুরু করে সব পরিবহন চালকদের ধুলোর বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। যানবাহনের গতির সাথে উড়ে আসা ধুলায় সয়লাব আশপাশের এলাকা। দোকানপাট, হোটেল সবকিছুতে ধুলোর আস্তর জমছে। ধুলোবালিতে ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টিসীমা।
উখিয়া সদরের মো. আয়াচ নামের এক হোটেল কর্মচারী বলেন, যানবাহনের গতির সাথে বাতাসে উড়ে আসা ধুলোয় হোটেলের টেবিল-চেয়ার সাদা হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পর মুছেও এসব পরিষ্কার রাখা যাচ্ছে না।
প্রসাধনী বিক্রেতা ফারুক বলেন, দোকান খুলে বসতেই চারিদিকে ধুলোর আস্তর জমছে। কোন পণ্য পরিষ্কার রাখা যাচ্ছে না। এছাড়া পথচারীদের অবস্থা আরও নাজুক।
উখিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ধুলো চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করে। ধুলোবালির কারণে বায়ু দূষণ হয়। বায়ু দূষণের কারণে সব বয়সের মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ও চর্মরোগ রোগ দেখা দিতে পারে। ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে তিনি মাক্স ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে এ সমস্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।