কক্সবাজারে মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে বিশেষ অভিযান

১ জনের কারাদন্ড

কক্সবাজার প্রতিনিধি

29

কক্সবাজার জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। চলতি মাসের ১০ অক্টোবর থেকে যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত বুধবার থেকে কক্সবাজার শহর ও উখিয়া উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকপল্লী এলাকায় অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। এসময় ইয়াবাসহ আটক এলাকার মাহমুদুল হকের ছেলে তানিমুল হক সামি (১৯) নামের একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম। একই দিন অভিযান চালানো হয় শহরের দক্ষিণ বাহারছড়া, টেকপাড়া ও চৌমুহনীর মাদক ব্যবসায়ী পাপ্পু, শাহনাজ পারভীন ও রোকেয়া বেগমের বাসায়। কিন্তু তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত যৌথ টাস্কফোর্সে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শাহজাহান আনসারীর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বসতঘরেও অভিযান চালানো হয়। এছাড়া তার ভাই আবু সুফিয়ান আনসারী ও আবুল কাশেম আনসারীর বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। শাহজাহান আনসারী কক্সবাজার জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন (ডিএফএ) এর সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক।
শহরের মাদক কারবারী শাহজাহান আনসারী ও তার ভাইয়ের বসতঘরে অভিযানের পর হোটেল মোটেল জোনের জামাল হোটেল ও লেগুনা বীচেও অভিযান চালায় যৌথ টাস্কফোর্স। কিন্তু এসময় কোন ধরণের মাদকদ্রব্য বা কাউকে আটক করা যায়নি। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও ডিএসবি) মাসুদ রব্বানি।
এসময় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মুজিবুর রহমান পাটওয়ারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবর রহমান, কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার, র‌্যাবের ডিএডি মুহাম্মদ জহির, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক তালুকদারসহ র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। কক্সবাজার শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে। কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবেনা।
চিহ্নিত ও স্বীকৃত ইয়াবা গডফাদার শাহজাহান আনসারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভের মধ্যে ছিল সাধারণ ক্রীড়ামোদিসহ সচেতন মহল। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সময় অনেক শীর্ষ ইয়াবা গডফাদাররা গা ঢাকা দিলেও শাহাজাহান আনসারী ছিল প্রকাশ্যে। কয়েক বছর আগেও শহরের বাসটার্মিনালে গাড়ির লাইনম্যান হিসাবে কাজ করতেন শাহজাহান আনসারী। ইয়াবার আর্শীবাদে কলাতলীতে ২ টি হোটেলের মালিক বনে যান তিনি। বর্তমানে তিনি ৮৫ লাখ টাকা দামের গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করেন বলে জানা গেছে।