কক্সবাজারে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি

88

কক্সবাজারের জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো। তবে গতকাল বৃষ্টির কারণে কিছু সময়ের জন্য কেনাকাটায় ছন্দপতন ঘটেছে। বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে কয়েক ঘন্টা মাকের্টের নিচে ও বিপণি বিতানগুলোতে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে ক্রেতারা। এতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা উভয়ে দুর্ভোগে পড়ে।
শহরের এ.সালাম মার্কেট, ফিরোজা শপিং কমপ্লেক্স, নিউ মার্কেট, হকার মার্কেট, ফজল মার্কেট, সী-কুইন মার্কেট, আপন টাওয়ার, ইডেন সিটি গার্ডেনসহ বিপণি বিতান গুলোতে গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সবাই পছন্দের পোশাকটির জন্য ঘুরছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। পৌর সুপার মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট ও হকার মার্কেটেও যেন তিল ধারনের জায়গা নেই। শত শত তরুণ-তরুণী কেনাকাটা করছেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বিক্রেতাদের। দোকানগুলোতে তরুণদের বাহারি শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট থেকে শুরু করে তরুণীদের বিভিন্ন ডিজাইনের কামিজ, ফতুয়া, বিভিন্ন নামের পায়জামা, গহনা, বিক্রি হচ্ছে। ঈদে ঘর সাজানোর আসবাবপত্রও বিক্রি হচ্ছে দেদারসে।
এছাড়া বাঙ্গালী বাবু, শৈল্পিক, কেট্স আই, ওয়ান পয়েন্টসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের শার্ট-প্যান্টের দোকানগুলোতে ছিল সৌখিন ক্রেতাদের ভিড়। জুতার দোকানগুলোতেও একই অবস্থা। ক্রেতারা তাদের পছন্দের জুতা সংগ্রহ করতে পান বাজার সড়কের বাটা মার্কেট, ডাটা বাজার, এপেক্সসহ বিভিন্ন জুতার দোকানে ভিড় করছেন। বাজার ঘাটায় অবস্থিত নিউ মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, পিএমকে স্টোর, মেসার্স বসুন্ধরা বস্ত্র বিতান, মেসার্স জিলানী ক্লথ স্টোরে রকমারী শাড়ি, লুঙ্গি, থান কাপড়, থ্রি পিচ ও র্শাট প্যান্টের বিপুল সমাহার। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ-শিশু কেনাকাটায় ব্যস্ত রয়েছে। দোকানিরাও ব্যস্ত ক্রেতাদের সন্তুষ্ট করতে।
শহরের বার্মিজ মার্কেটে অবস্থিত বাঙ্গালী বাবুর স্বত্তাধিকারী অনিক জানান, ১০ রমজানের পর থেকে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি আশানুরূপ বলে জানান তিনি।
শহরের কৃষি রোড়স্থ আপন টাওয়ারে শার্ট ও প্যান্টের দোকান ফ্যাশন হাউসের মালিক মামুন বলেন, রমজানের এ সময়ে প্রতিটি দোকানে গড়ে ৭০ থেকে লাখ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
শহরের সবচেয়ে বড় শাড়ির দোকান রাজস্থান এর আরিফ মাহমুদ জানান, এবারের ঈদে মেয়েদের বেশি চাহিদা রয়েছে আনারকলি, শিলা, ছাম্মাকছালো, ঝিলিক ও ফুলকলি নামের পোশাকের। মহিলাদের পছন্দ বেনারসি, জামদানি ও কাতান শাড়ি। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে আনন্দ ও উৎসবের। আর উৎসবকে ঘিরে সকলে নতুন ডিজাইনের কাপড় নিতে বেশি উৎফুল্ল থাকেন এই বিশেষ দিনে। তাই উৎসবে আনন্দ যোগাতে নারীদের পছন্দ অনুয়ারী বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি ও সেলোয়ার কামিজ এবং দেশ-বিদেশি ব্রান্ডের থান কাপড় সংগ্রহ করেন তিনি। তিনি বলেন, এখন মানুষ সর্বক্ষেত্রেই অনেক সচেতন। দামের বদলের তারা ভাল মানের কাপড়টি কিনতে চান বেশি। সরেজমিন দেখা গেছে তার দোকানে সাজানো হয়েছে বাহারি ডিজাইনের লেহেঙ্গা শাড়ি, লেহেঙ্গা নেট শাড়ি, ইতালিয়ান ক্রেফ, বুটিকস, কাতার শাড়ি, ইন্ডিয়ান সুতি শাড়ি, ঢাকাইয়া ও ইন্ডিয়ান জামদানি, ইন্ডিয়া স্কুসিফ ট্রি পিচ, ক্রাফটেট ট্রিপিচসহ আকর্ষনীয় ডিজাইনের পণ্য। ছোটদের কাপড়ের বিপুল সম্ভার রয়েছে তার দোকানে। বাচ্চাদের পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবি ও শার্ট-প্যান্ট।
এ সালাম মার্কেটের একটি ফ্যাশন হাউসে গিয়ে কথা হয় কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রী সুমাইয়া ইসলাম রিপার সঙ্গে। তিনি জানান, নিজেকে অন্যের চোখে একটু আলাদা ও রুচিসম্মতভাবে তুলে ধরতেই এখানে আসা। বলেন, বরারবরই দেশি কাপড়ের পোশাক পরে থাকি। তাই সবসময় কেনাকাটাও করি বুটিক হাউস থেকে। সকাল থেকে বেশ কয়েকটি মাকের্ট ঘুরেছি। তার মধ্যে এ পর্যন্ত নিখুঁতের ড্রেসগুলো বেশ ভালো লেগেছে।
বাজারঘাটার শৈল্পিক শোরুমে গিয়ে জানা যায়, শৈল্পিকের ফ্যাশন বরাবরই পরিবর্তনশীল। আজ যা আধুনিক কালই তা সেকেলে। আর এ পরিবর্তনটাই আকর্ষণ করে থাকে তরুণ-তরুণীদের। শৈল্পিক সে দিকে গুরুত্ব দিয়েই ঢাকায় আমাদের নিজেদের শোরুমে তৈরি করে থাকে পোশাক। তারা জানান, আমাদের এবারের ঈদ পোশাকের মোটিফ প্রকৃৃতি। আমরা প্রকৃতির ময়ূর, প্রজাপতি, ফুল, পাখি ও লতাপাতাকে তুলে এনেছি পোশাকে। কারণ মোটিফই হলো ফ্যাশনের মূল অংশ। যে পোশাকটি তৈরি হবে তার ডিজাইন, রংয়ের কম্বিনেশন, কোনো সিজন বা উৎসবের পোশাক, তার কাপড়টি কেমন হবে, পোশাকটি স্লিম, নাকি ফ্যাটি ব্যক্তির জন্য এসব হলো মোটিফ। আর এসব ভেবেই শৈল্পিকপোশাক তৈরি করে থাকে।
এ সালাম শপিং কমপ্লেক্স এর অভিজাত বস্ত্র বিপণি বিশাল কালেকশনের মোহাম্মদ আবু তাহের ও ফিরোজা শপিং কমপ্লেক্স এর রাইট চয়েস এর সাইফুল আজম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কসমেটিক সামগ্রীর দাম সামান্য বাড়লেও গুণগত মানস¤পন্ন মালামাল কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
নিউ আল হেলাল স্টোরের মালিক মোহাম্মদ আযাদ ইব্রাহিম জানান, এখানকার অধিকাংশ ক্রেতাই মধ্য ও নিম্নবিত্ত। তাই তারা অল্প ও সীমিত টাকার মধ্যে কেনাকাটা সেরে ফেলতে আগ্রহী। অধিকাংশ ক্রেতাদের অভিযোগ, মার্কেটগুলোতে গলাকাটা দাম আদায় করা হচ্ছে। তাই অধিকাংশ ব্যবসায়ী ছুটছে হকার মার্কেটের দিকে।
স্থানীয় কলেজ ছাত্রী হ্যাপী জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার দাম একটু কম মনে হচ্ছে।
এদিকে ঈদের কেনা কাটা নির্বিঘœ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। সব ধরনের নাশকতা এড়াতে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার। ব্যস্ত মার্কেটগুলোর সামনে পুলিশ টিম বসানোর কথাও জানান তিনি।