কক্সবাজারে কোন্ আসন পাচ্ছে জাতীয় পার্টি?

রাসেল চৌধুরী, কক্সবাজার

27

কক্সবাজারের যে কোন একটি আসনে প্রার্থী হওয়ার আশায় ৪ সংসদীয় আসনে মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির ৪ প্রার্থী। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বর্তমান এমপি জাপা কেন্দ্রীয় নেতা হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ। এর মধ্যে আয়কর সংক্রান্ত অভিযোগে কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা মুহিবুল্লাহ’র মনোনয়ন বাতিল হলেও তিনিও হাল ছাড়েননি। মনোনয়ন বৈধ করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অফিসে আইনী তদবির চালাচ্ছেন তিনি।
মহাজোটের ব্যানারে নির্বাচন হলে গতবারের নিয়মে এখানে একটি আসন জাপা পাচ্ছে-এমন আশায় সব আসনেই মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন জাপা প্রার্থীরা। কিন্তু জেলায় কোন জাপা নেতার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হচ্ছে সেটা দেখতে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভোটারদের।
জোটগত নির্বাচনে গতবারের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় চারটির মধ্যে একটি আসনের দাবিদার জাপা। কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন বরাদ্দকালে কক্সবাজার-৩ সদর আসনটিতে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে মনোনয়নও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ভিন্ন জেলায় এসে প্রার্থী হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় তার বিকল্প হিসেবে জেলা জাপার সেক্রেটারি মফিজুর রহমান মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, এমনটি দাবি জাপা নেতাদের। কিন্তু তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলেও জোটগত প্রার্থীতা এখনো পাননি। প্রার্থীতা পাননি বাকী দু’আসনের অন্য প্রার্থীরাও। এরপরও জোটগত মনোনয়নের আশায় মাঠে বিচরণ করছেন মহাজোটের প্রধান শরীক দল জাতীয় পার্টির চার নেতা। কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে মফিজুর রহমানের বিপরীতে আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকার টিকিটে মাঠে আছেন বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন টেকনাফ উপজেলা জাপা সভাপতি মাস্টার আবুল মনজুর। তিনি এমপি বদির হাতে ইতোপূর্বে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়ে পরিচিতি পান। তার সাথে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন বিতর্কিত সাংসদ আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহিনা আকতার।
আর কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মাঠে রয়েছেন সেই আসনের বর্তমান সাংসদ মোহাম্মদ ইলিয়াছ। সেখানে আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়ে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম। এছাড়াও কক্সবাজার-২ আসনে মনোনয়ন বৈধ করার আশায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অফিসে আইনীভাবে তদবির চালাচ্ছেন মনোনয়ন বাতিল হওয়া মুহিবুল্লাহও।
জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ স¤পাদক মুফিজুর রহমান বলেন, ইতোপূর্বে কক্সবাজার-৩ সদর আসনটি জোটগতভাবে জাতীয় পার্টিকে বরাদ্দ দেয়া আছে। আমরা দলের সিদ্ধান্তে চার আসনেই প্রার্থী হয়েছি। আবার দলীয় সিদ্ধান্তে সবাই প্রত্যাহার করে নিতেও প্রস্তুত। তবে কেন্দ্রীয় নেতা বাবলু এখানে না আসায় আমিই কক্সবাজার-৩ আসনটির দাবিদার।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বর্তমান সাংসদ মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন,
মহাজোটের শরীক হিসেবে কক্সবাজার থেকে একটি আসন দাবি করেছে কেন্দ্র এবং জেলা জাপা। বিগত ৫ বছর জাপার এমপি হিসেবে চকরিয়া-পেকুয়ায় পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হয়েছে। সেকারণে এবারও জাপা এ আসনটি দাবি রাখে। এরপরও কেন্দ্র থেকে জোটগতভাবে একটা সিদ্ধান্তে আসার প্রক্রিয়া চলছে। যে আসনটিই দেয়া হউক আমরা সেখানেই লড়ব।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন চরম প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ হবে এতে সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ ভোটাররা জানেন সেই প্রতিদ্ব›িদ্বতায় টিকে থাকার মতো সাংগঠনিক শক্তি জেলা জাপার নেই। তাই সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগই তাদের প্রার্থীকে জয়ী করে নিয়ে আসতে পারবে। এরপরও জোটগত সিদ্ধান্তে জাপা কোন আসন পেয়ে থাকলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তার হয়ে মাঠে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলার ৪ পৌরসভা ও ৭১ ইউনিয়নে ৫১৩ ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে এবারের ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮২ জন। এদের মধ্যে ৭ লাখ ৯ হাজার ৪৯৭ পুরুষ ও ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৫ নারী।