ওয়েবসাইট হ্যাক করে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ

30

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএ’র ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গত ৭ মার্চ ঢাকার রাস্তায় যৌন হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক হ্যাকার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে যারা বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটে গেছেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক পুরুষ কণ্ঠের অডিও বার্তা শুনতে পেয়েছেন তারা। সেখানে হ্যাকার তার পরিচয় দিয়েছেন ‘স্বাধীন দেশের পরাধীন এক নাগরিক’ হিসেবে।
বেলা ৩ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ওয়েবসাইটে ওই কণ্ঠ শোনা যায়। এরপর তা বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে বিআরটিএ’র ওয়েব সাইটে ঢুকতে বা তথ্য পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। যাদের কম্পিউটারের স্পিকার বন্ধ ছিল, তারা ওই অডিও বার্তার বিষয়টি জানতেও পারেননি। খবর বিডিনিউজের
ওয়েবসাইট আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, ‘দুপুরে কিছু সময়ের জন্য ওয়েবসাইট হ্যাক্ড হয়েছিল। এখন আর সমস্যা নেই। তবে এতে আমাদের কাজ-কর্মে কোনো বিঘœ ঘটেনি’।
হ্যাকারের এক মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের অডিও বার্তায় বলা হয়, ‘স্বাধীন হয়েছি বহু আগে। তবে এ কেমন স্বাধীনতা, যে স্বাধীনতায় ১০ বছরের মেয়ে ধর্ষিত হয়ে খুন হয়? কলেজ থেকে আসা কোনো ছাত্রীর গায়ে হাত দেওয়া হয়। এ কেমন স্বাধীনতা?’ বিশ্বাস করুন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আমি অনেক ভালোবাসি। ভালোবাসিনা তাদেরকে, যারা এই আদর্শকে কলুষিত করে। ছোটবেলায় মুক্তিযুদ্ধের ছবি দেখতাম আর ভাবতাম, ইশ যদি থাকতে পারতাম, তবে শুনতে পেতাম- রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব..’। কিন্তু জানেন, কিছু মানুষের জন্য পুরো দেশটা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। ভালো নেই আমরা, বিশ্বাস করুন। ভালো নেই আমাদের মা-বোনেরা। তারা বের হতে পারে না। আমরা বের হতে দেই না। ভয়ে থাকি। হায়েনার দলেরা যদি আবার হামলা করে। খুব ভয়, অনেক বেশি ভয়’।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সেখানে বলা হয়, ‘জানি না আপনি কোনোদিন এই সাধারণ মানুষটির কথাগুলো শুনতে পাবেন কিনা। আপনাকে আমি অনেক সম্মান করি। একটি দেশকে আপনি অনেক উপরে তুলেছেন। খোদা আপনার মঙ্গল করুক। জানেন, আমার কষ্ট একটি জায়গাতে। নারীরা এখনও বাসার বাইরে বের হয়ে হাসতে পারে না, তারা ভয় পায়। নীরবে চোখের জল ফেলে’।
গত বুধবার ঢাকায় ৭ মার্চের সমাবেশের মিছিলের মধ্যে বাংলামোটরে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে এক কলেজছাত্রী ফেসবুকে অভিযোগ করেন। পুলিশ ওই ধরণের কোনো ঘটনার কথা জানে না বলে দাবি করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বৃহস্পতিবার বলেন, যৌন হয়রানির ভিডিও ফুটেজ হাতে পাওয়ার পর দোষীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।