ধুলোবালির বিষাক্ত বাতাসে ছড়াচ্ছে রোগজীবাণু

ওয়াসার ধীরগতির কাজে চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক নরকযন্ত্রণা

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

39

 

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কটি অপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ, অনিয়ম ও তদারকির অভাবে এখন উত্তরজেলার লাখ-লাখ মানুষের ভোগান্তির কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও গর্তে পড়ে বিভিন্ন সময় গাড়ি বিকল হচ্ছে। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। খুড়াখুড়ির কারণে বাতাসে বিষাক্ত ধুলোবালি উড়ছে। এসব ধুলোবালিতে বিষাক্ত রোগ জিবানু ছড়াচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা ওয়াসার কাছে জিম্মি হয়েছে পড়েছে। তাদের থেকে কবে মুক্তি পাওয়া যাবে যাত্রী সাধারণের চরম উৎকন্টা দেখা দিয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ওয়াসার বিরুদ্ধে ফুসে উটছে। ওয়াসার নরক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ জনতার পিছনের যাওয়ার সময় নেই। গত ৫ বছরে ওয়াসার সড়কের খুড়াখুড়ির কারণে সড়ক দুঘৃটনায় শতাধীক মানুষ নিহত। অর্ধ শতাধকি গুরুতর আহত হয়েছে। সড়কে সংস্কার চালানোর সময় পানি ছিড়ানোর কথা থাকলে তা করছেনা। এতে করে এ সড়ক দিয়ে কোন যানবাহনে যাওয়া আসা নিরাপদ মনে করছেনা সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫০-৫৫ কিলোমিটারের এই সড়কটির রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানে সড়কের নিচ দিয়ে ওয়াসার পানি সরবরাহের পাইপলাইন টানার কারনে সড়কের দু’পাশ ইতোমধ্যে কোড়ে ফেলা হয়েছে। একপাশের রাস্তা সংস্কার না করেই খোঁড়াখুঁড়ি চলছে অন্য পাশে। আর এভাবে বিকল্প কোন ব্যবস্থা ছাড়াই ওয়াসার পানির পাইপ লাইন টানার জন্য কোড়ে ফেলার ফলে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট বড় গর্ত। যেসব গর্তে পড়ে গাড়ি বিকল হচ্ছে এবং দুর্ঘটনাতো লেগেই আছে। এছাড়াও সড়কেই পাইপ লাইন টানার রোলার, ক্রাং, পাইপসহ নানা যন্ত্রপাতি ফেলে রাখা হয়েছে। পাইপ লাইন টানার কাজ শেষে দায় সারা মেরামত সড়কের বেহাল অবস্থার অন্যতম কারন। এসব অনিয়ম সড়কের যান চলাচলকে অনেকটা পঙ্গুত্ব এনে দিয়েছে। যানজট এবং বিকল হয়ে অন্যান্য গাড়ির পাশাপাশি এ্যম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের গাড়িসহ আরও নানা জরুরি যানবাহনও আটকা পড়ে থাকতে হয়। বছরের পর বছর চলা ওয়াসার এসব অপরিকল্পিত ও মনগড়া কাজে তিক্ত যাত্রীরা এবার রাস্তায় নেমে আসে। ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির ফলাফলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বেহাল অবস্থার থেকে মুক্তি পেতে মানববন্ধন করে রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার সচেতন নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কমিশন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের যাত্রী মো. ফয়সাল জানান, ওয়াসার স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও কাজের ধীরগতির কারণে আমরা সাধারণ জনগণ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ, ধুলাবালি নিরসনে প্রকল্পের আওতায় সার্বক্ষনিক পানি দেওয়ার অর্থ আত্মসাৎ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ফলে পুনঃমেরামত টেকসই হচ্ছে না। এরফলে সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র খানাখন্দক। খানাখন্দকের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় গত দুই বছরে অন্তত ১’শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব জীবন কাটাচ্ছে কয়েক শতাধিক মানুষ। এখন আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক সংস্কার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে ওয়াসার মূল পয়েন্টে কাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ ওয়াসার দুর্নীতিবাজ এমডি প্রকৌশলী ফয়জুল্লাহ ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সিরাজুদ্দৌলাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। চট্টগ্রাম বাস মিনিবাস ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি মো. কুদ্দুছ জানান, সড়কের কারণে তাদের বাস গুলি মূল্যবান যন্ত্রপাতির মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে। বাস যাত্রিরা ধুলোবালি তে একাকার হযে যায়। এতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে যাত্রি হয়রানি হওয়ায় বাসে করে যাত্রিরা চট্টগ্রামে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এতে আমরা শত শত শ্রমিক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কাপ্তাই কর্ণফুলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা জানান, এসড়ক যেন নরক যন্ত্রনার শিকার। একবারে আসলে আর দ্বিতীয়বার কেই আসতে আগ্রহ দেখাযনা। সময় করে এ সড়ক দিয়ে যথা সময়ে কোথাও পৌছাচ্ছে সম্ভ হযনা শুধুমাত্র ক্ষত ব্‌ক্িষত সড়কের জন্য। এর েেথকে পরিত্রাণের জন্য কিছু করা এখন সমযের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার এস.এম কাউছার জানান, সড়কে মারাত্নক ধুলোবালি উড়ছে। এতে বিষাক্ত রোগ জীবানু রয়েছে। বিশেষ করে হাপানি ও চর্মরোগ এর জীবানু বেশি। যাত্রী সাধারনের মাঝে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। কাপ্তাইয়ের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঝুলন দত্ত জানান, এ দুর্ভোগ আর সহ্য হচ্ছেনা। আমরা চট্টগ্রামে সহজে যাতায়তের জন্য চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কে ওয়াসার কাজ স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। চন্দ্রঘোনা দ্যা রাইজিং সান কেজি স্কুলের অধ্রক্ষ পরিমল বড়ুয়া জানান, এ নরক যন্ত্রনা থেকে কবে মুক্তি পাওয়া যাবে তা এখন জনগন জানতে ডায়। তাদের মনগড়া ও ধীরগতির কাজের কারণে গত ৫ বছর সিমাহীন কষ্ট ও নান হয়রানী সহ্র করতে জয়েছে। কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিলদার হোসেন জানান, সড়কের এ বেহালদশা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি চায। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওয়াসার কাজ শেষ করে জনগনের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলীশাহ জানান, তাদের অনিয়ম কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ জনগন সহ্র করবে। চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কের হাজারো যাত্রীরা ওয়াসার কাছে জিম্মি। এর থেকে মুক্ত হতে ওয়াসার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দেলনের বিকল্প নেই।