ঐতিহ্যের বন্ধন জব্বারের বলীখেলা

25


ব্রিটিশদের অধীনে দেশ। দেশের তরুণদের কিছু একটা করতে হবে। যা দেখে মনে হয় পরাধীন হলেও আমরা শক্তিশালী। সেখানে খেলা যদি হয় মাধ্যম, এর থেকে ভাল আর কি হতে পারে?
এমন ভাবনা থেকেই চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার শুরু করেন বলী খেলা। মুখে মুখে তার নামেই প্রচলিত হয়ে যায় খেলার নাম।
ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বলী খেলার এই আয়োজনের জন্য আব্দুল জব্বার খান বাহাদুর উপাধিও পান। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৬ তে ১০৭তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হন সামশু বলী। ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন দিদার বলীকে হারিয়ে বিজয়ী হন তিনি। ওই বছর ২০০ বলী অংশ নেয় প্রতিযোগিতায়।
এ বছর এপ্রিলে ১০৯ বছর পূর্ণ হবে হবে এই খেলার । চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান থাকবে বলীদের দখলে। বলী অর্থাৎ কুস্তীগির। ১৯০৯ সালের ১২ই বৈশাখ প্রথম বলী খেলার আসর বসে। বাংলার ইতিহাস থেকে শত বছরের গ্রামীণ খেলাধুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে ঐতিহ্যবাহী এই খেলাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে চট্টগ্রামবাসী। লালদীঘি ময়দানের স্থানীয় রাজেশ পাল বলেন, বলী খেলা আমাদের গর্ব। বৈশাখ আসলেই এলাকার সব বয়সী মানুষ বলীখেলার দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকে।
বৈশাখী উত্তাপ আর ঝড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে দূরদূরান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষ একসাথে উপভোগ করে বলীখেলা। মোট ৮টি পর্বে খেলা হয়ে থাকে।
খেলার নিয়ম হল একে অপরকে হাতে হাতে কসরত করে মাটিতে ধুপ করে ফেলতে হবে। কারো পা ধরা যাবেনা। কিন্তু পায়ে পায়ে কসরত করা যাবে ফেলে দেয়ার জন্য। তবে মাটিতে ফেললেই জয় পাওয়া যাবে না। প্রতিপক্ষের পিঠ মাটিতে লাগাতে হবে। সব ধাপ শেষে চূড়ান্ত দুইজন প্রতিযোগী টিকে থাকে। সেখান থেকে একজন হয় বিজয়ী। চ্যাম্পিয়নকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে আগের বছরের চ্যাম্পিয়ন। আর যদি নতুন চ্যাম্পিয়ন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তাহলে তাঁকে লড়তে হয় আগের বিজয়ীর সাথে। চূড়ান্ত ভাবে জয়ীর গলায় ওঠে সোনার মেডেল। কিশোর থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ কুস্তীগির অংশ নেয় বলী খেলায়।
খেলার সাথে জোড় বেঁধে মেলাও বসে যায় ময়দানে। চলে চার থেকে পাঁচ দিন। বলী খেলা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য। লালদীঘি বাদেও জেলার বিভিন্ন জায়গায় বলী খেলার আয়োজন করা হয়। কক্সবাজারের ডিসি, সাতকানিয়ার মক্কা, রাউজানের দোস্ত মোহাম্মদ, হাটহাজারির চুরখাঁর, চান্দগাঁওর মৌলভীর বলী খেলা এখনো অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছর।
মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রীতিলতাসহ অনেক বীর শহীদ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামকে স্মরণীয় করে গেছেন। বলীখেলাও তেমনি ইতিহাসের সাহসী অধ্যায় হয়ে সমৃদ্ধ করছে বাংলা সংস্কৃতিকে।