ঐক্যফ্রন্টের রোডমার্চ স্থগিত

পূর্বদেশ ডেস্ক

8

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে দাবির বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় রোডমার্চ করে রাজশাহীর সমাবেশে যাওয়ার কর্মসূচি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা স্থগিত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দ্বিতীয় দফা সংলাপে গণভবনে গতকাল বুধবার তিন ঘণ্টার আলোচনা শেষ বিকালে বেইলি রোডে কামাল হোসেনের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, সাত দফা আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলনে আছি। কাল পদযাত্রা হবে। পরশু রাজশাহীতে সমাবেশ।
এরপর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঐক্যফ্রন্টের রোড মার্চ কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানান।
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আলোচনা করে রোড মার্চ কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে রাজশাহীতে সমাবেশ হবে।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংলাপ নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন, এছাড়া সিইসি ভাষণ দেবেন। সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে রোড মার্চ স্থগিত করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের
এর আগে সংলাপ শেষে বেরিয়ে এসে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আলোচনা মনঃপূত হয়নি। সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি।
আর আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড়। কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। ঐক্যফ্রন্ট আবারও সংলাপের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন দুই দফা সংলাপে বসার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকের সংলাপে আমরা আমাদের সাত দফা দাবি নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছি। আমরা বলেছি যে অল্প পরিসরে আরও আলোচনার করার ব্যাপারে ইচ্ছুক।
তিনি বলেন, সারাদেশে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যেসব ‘মিথ্যা ও গায়েবী’ মামলা করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ‘গায়েবী ও হয়রানিমূলক’ মামলা বা গ্রেপ্তার করা হবে না প্রধানমন্ত্রী সংলাপে আশ্বাস দিয়েছেন।
সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্রিফ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের অনুমতি, সত্যিকারের রাজনৈতিক মামলা থাকলে তা প্রত্যাহারের মত কয়েকটি বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের দাবির বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।
কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচন পিছিয়ে সংসদের মেয়াদপূর্তির পরের ৯০ দিনে তত্ত¡াবধায়ক ব্যবস্থার আদলে ভোট করার দাবি তুলেছেন জানিয়ে কাদের বলেন, সংবিধানের বাইরের কোনো প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
কাদের বলেন, এটা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটা বাহানা। এই পিছিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ফাঁক ফোকর হয়ত খুলে দেওয়া হচ্ছে। যেখান দিয়ে তৃতীয় কোনো অপশক্তি এসে ওয়ান ইলেভেনের মত সেই অনভিপ্রেত অস্বাভাবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
সংলাপে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে ছিলেন গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু; বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ; জেএসডির আসম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন; নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরাম এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন জোটের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আনিসুল হক, দীপু মনি ও শ ম রেজাউল করিম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।