এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অভিনন্দন উত্তীর্ণদের

13

দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর মধ্যে এসএসসি তৃতীয় পর্যায়ের হলেও সনদ ও মানের দিক দিয়ে তরুণদের জন্য মূলত এটিই প্রধান পরীক্ষা। এর আগে এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রাথমিকে সমাপনী ও নিম্ন মাধ্যমিকে জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই এতটুকুতে আসতে হয়েছে। তবে এসএসসি পরীক্ষার আগের দুটি পরীক্ষা মেধা যাচাই-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও একাডেমিক কেরিয়ারে এ সনদগুলোর গুরুত্ব তেমনটি নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে এসএসসির সনদ প্রথম এবং প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সনদ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সংগতকারণে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তার চেয়ে বরং ভালো ফল করা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে পড়ে। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতেই এ পরীক্ষাটি শুরু হয়। টানা একমাস প্রায় এ পরীক্ষা চলে। সেই হিসাবে দুই মাস ছয় দিনের মাথায় পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে পারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের কৃতিত্ব। এর সাথে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকাও প্রশংসাযোগ্য। যদিও আলোচনায় এতো অল্প সময়ে পরীক্ষার উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরীক্ষা পদ্ধতি বা মুল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেয়ার উপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন তা আন্তর্জাতিক পদ্ধতিকে অনুসরণ করেই বলা হয়েছে। আমরা মনে করি শুধু তৃতীয় নয় বরং সকল পাবলিক পরীক্ষায় পাস-ফেলের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা জরুরি। সরকার একদিকে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন অপরদিকে পাবলিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য নামক শব্দটি রেখে শিক্ষার্থীদের গতিপথে বাধা সৃষ্টির উপায় রেখে দেয়া মোটেই যুক্তি সংগত নয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে পাবলিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশাল একটি অংশ ঝরে পড়ছে। সুতরাং কৃতকার্য ও অকৃতকার্য শব্দ দুটির প্রয়োগ বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গতিপথে ধরে রাখা যায় কিনা, সকলের জন্য সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। আমরা মনে করি, সরকার আন্তরিকভাবে সেই কাজটি করলে তাদের ভিশন বাস্তবায়নে দেশ কয়েকগুণ এগিয়ে যাবে।
আমরা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা ২০১৯-এ যারা ভালো ফল করেছে তাদের অভিনন্দন জানাই, যারা এবার চেষ্টা করেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদের জন্য আগামীবার ভালো ফলের প্রত্যাশা রাখছি।
প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, এবার সারা বাংলাদেশে গড়ে পাশের হার ৮২.২%। যা ২০১৮ সালের চেয়ে ৪.৪৩% বেশি। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৩০৩%, আর আটটি সাধারণ বোর্ডে ৮২.৮০%। কারিগরী শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৭২.২৪%।
অপরদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার গতবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়েছে। এবার এই বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ, যেখানে গতবছরের পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এতে আশা জাগালেও কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এছাড়া এবার মোট ৭ হাজার ৩৯৩ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গতবছরের সালের তুলনায় ৭০১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ কম পেয়েছে।
মঙ্গলবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ বছরের পাসের হার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে পাসের হার ৮২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ। সে হিসেবে এই বছরে গত ৫ বছরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পাসের হার অর্জন করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড।
এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১০৩০টি স্কুলের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬০৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫১ জন। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন মহানগরের স্কুলগুলোর সাথে সিটি কর্পোরেশনের স্কুলগুলোর পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম জেলা, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারে পাসের হার আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। পাসের হার শ‚ন্য এমন কোনো বিদ্যালয় নেই। শতভাগ পাস করা স্কুলের সংখ্যা ৩০টি।