দুর্নাম ঘুচাতে জেলা প্রশাসনের বিকল্প পন্থা

এল.এ শাখার সব তথ্য অনলাইনে আসছে

রাহুল দাশ নয়ন

23

জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় দুর্নীতি নতুন নয়। সেবা নিতে যাওয়া গ্রাহকরা হয়রানি ও ভোগান্তির তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই প্রতিনিয়ত বাড়ি ফিরেন। দফায় দফায় এলএ শাখার বারান্দায় ঘুরপাক খেলেও গ্রাহকের ফাইল নড়ে না। পরিদর্শনে যার প্রমাণ পেয়েছেন খোদ ভূমিমন্ত্রীও। এমন দুর্নাম ঘুচাতে এবার বিকল্প পন্থা বের করতে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। গ্রাহকরা ওয়েবসাইটে ঢুঁ মেরেই জানতে পারবেন এলএ শাখায় থাকা নিজের ফাইলের সর্বশেষ অবস্থান। ইতোমধ্যে অনলাইন সিস্টেমের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. আমিরুল কায়ছার পূর্বদেশকে বলেন, ‘অনলাইন সেবা বাড়াতে এখনো ওয়েবসাইটের ট্রায়াল চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনলাইন সেবা চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। পাশাপাশি একটি অ্যাপস তৈরির কাজও চলছে। এটি চালু হলে ডিজিটাল মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। সব টাকা ইএফটি সিস্টেমে একাউন্টে যাবে। আপাতত জায়গায় গিয়ে চেক বিতরণ করা হচ্ছে। এতেই দালালদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অনলাইন চালু হলে দালালের দৌরাত্ম্য আরো কমে যাবে।’
জানা যায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পুলিশ বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জিটিসিএল, কর্ণফুলী টানেল, প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুৎ, বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (এসপিএম), এলজিইডি, কোস্টগার্ড, কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র/স্কুল/কলেজ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিসিক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বেশকিছু প্রকল্প চলমান আছে। এসব প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ জায়গা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। অধিগ্রহণকৃত এসব জমির টাকা সংগ্রহ করতে গিয়েই নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন ভূমি মালিকরা।
সূত্র জানায়, ভূমি মালিকরা আবেদনের পর প্রায়সময় ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য অফিসে ঘুরাঘুরি করেন। তবুও কবে নাগাদ টাকা দেয়া হবে তা নিশ্চিত হতে পারেন না। আবেদনের পরেই এলএ শাখায় বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন ভূমি মালিকরা। বিশেষ করে নি¤œশ্রেণির কিছু কর্মচারীদের হাতেই সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন ক্ষতিপূরণ পেতে আসা ব্যক্তিরা। অনৈতিক চুক্তি না করে কেউ সহজেই ক্ষতিপূরণের অর্থ পান না। ক্ষতিপূরণ বাবদ ইস্যু হওয়া চেক থেকে ১২-১৫ শতাংশ টাকা কেটে নেয়া হয় বলে এলএ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। এমন কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভূমিমন্ত্রী কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র বদলিও করেন। বর্তমানে অফিসে দালালের উপদ্রব কমলেও একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট এখনো অনৈতিক কর্মকাÐ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব দৌরাত্ম্য থামাতেই ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সব তথ্য অনলাইনেই আবদ্ধ করার প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। তবে তার আগেই ইএফটি সার্ভিস চালু করার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. আমিরুল কায়ছার বলেন, ‘অনলাইন সার্ভিস চালু হলে প্রায় তিন হাজার এলএ মামলার নথি সেখানে সংরক্ষিত থাকবে। ১৯৪০-৫০ সালের ধুলো-ময়লায় ছিড়ে যাওয়া নথিগুলোও স্ক্যানিং করে অনলাইনে ঢুকানো হবে। এটা করা হলে ফাইল খোঁজার বিনিময়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার যে মানিসকতা তাও কমে যাবে। ইফটি সিস্টেম চালু হলেই চেক ভাঙানো নিয়ে যে বদনাম তাও কমে যাবে।’
অনলাইনে যা থাকবে : ক্ষতিপূরণ আবেদন করার পর পরবর্তী সব ধরনের প্রক্রিয়া এ সিস্টেমে জানা যাবে। একজন গ্রাহক চাইলেই সাইটে ঢুঁ মেরে সবতথ্য জানতে পারবেন। প্রকল্পের বিস্তারিত, আইন সংক্রান্ত তথ্য, নোটিশের তথ্যও সেখানে সংরক্ষণ থাকবে। অনলাইনেই ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে সেখানে রাখা হয়েছে আলাদা অপশন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা লগ-ইন প্যানেল রাখা হয়েছে। আবেদন নম্বর ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে থাকা সংরক্ষিত গোপন নম্বর দিয়েই আবেদনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা যাবে। ক্ষতিপূরণ পেতে কোনোধরনের অব্যবস্থাপনা কিংবা হয়রানির শিকার হলে অভিযোগের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা অপশন। সেখানে ক্লিক করেই নাম, মোবাইল নাম্বার, ঠিকানা উল্লেখ করে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন ক্ষতিগ্রস্তরা। যা সাথে সাথে পেজের এডমিনের কাছে চলে যাবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার শীর্ষ কর্মকর্তা এ সাইটের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।