১৩টি খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শেষ

এবার শুরু হচ্ছে খালে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ

এম এ হোসাইন

62

নগরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রাজাখালী খাল থেকে ২৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে চলতি বছরের ১ জুলাই খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইতিমধ্যে ১৩টি খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রাথমিক অভিযান শেষ হয়েছে। এবার এসব খালের মূল কাজে হাতে দিতে চায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খালের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে শুরু হবে মূল কাজ।
খালের জায়গায় গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ অভিযানে এ পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছে সিডিএ। এর মধ্যে বহুতল ভবন, এক তলা পাকা ভবন, সেমিপাকা ঘর, টিনশেড ঘর, কাঁচাঘর, নির্মাণাধীন ভবন, বাউন্ডারি ওয়াল ও ভবনের অংশ বিশেষ ছিল। অভিযান পরিচালনাকালে অনেক স্থাপনার মালিক পক্ষ নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়। অনেকে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়েও নিয়েছে। কিন্তু নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার অঙ্গিকারকারীদের অনেকে এখনো স্থাপনা অপসারণ করেনি। খালের কাজ করতে গিয়ে এ ধরনের স্থাপনা চোখে পড়লে ব্যবস্থা নিবে সেনাবাহিনী।
মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মো. নাসির উদ্দিন বলেন, অল্প কিছু স্থাপনা এখনো থেকে গেছে, তারা নিজেরা অপসারণ করবে বলে সময় নিয়েছিল। এখন আমরা প্রত্যেকটা খালে গিয়ে দেখবো। প্রয়োজনে আরো দু’চার দিন করে সময় দিব। এরমধ্যে না হলে আমরা নিজেরা ভেঙে দিব অথবা আইনগত ব্যবস্থায় যাবো।
তিনি বলেন, আমরা খালের কাজ শুরু করবো। এটা ধারাবাহিক কাজ। এর মধ্যে আমাদের মার্কিং করা জায়গায় কোনো স্থাপনা থাকলে সেটা ভেঙে ফেলা হবে। এখন খালের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। ব্রিজের কাজগুলো চলমান আছে।
খালগুলোতে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা পড়েছে বহুতল ভবন থেকে শুরু করে ভবনের অংশও। অভিযান পরিচালনার অনেক আগেই খালের জায়গা নির্ধারণ করে মার্কিং করে দেয় সেনাবাহিনী। সে মার্কিং করা জায়গার মধ্যে যেসব স্থাপনা আছে সেগুলো স্ব উদ্যোগে সরিয়ে নিতে বলা হয়। এরপরও যে সমস্ত স্থাপনা থেকে যাবে সেগুলো অভিযানে ভাঙা হয়। তবে এসময়ও অনেকে অঙ্গীকার করে তারা স্ব-উদ্যোগে স্থাপনা অপসারণ করবে। তাদের সময় নির্ধারণ করে দিয়ে স্থাপনা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। এরমধ্যে কিছু স্থাপনা এখনো মালিক পক্ষ সরিয়ে নেয়নি। বিষয়টি নজরে রেখে আবার খালগুলোতে সরেজমিনে পরিদর্শন করবে সেনাবাহিনী। এরমধ্যে উচ্ছেদ হয়নি এমন স্থাপনা মার্কিং এরিয়াতে থাকলে সতর্ক করা হবে। খালের মূল কাজ চলাকালীন যদি এমন কোনো স্থাপনা চোখে পড়ে সেটা তৎক্ষণিকভাবে অপসারণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। যদিও ইতিমধ্যে উচ্ছেদ করা জায়গা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত¡াবধানে রয়েছে।
সিডিএ’র প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আহমেদ মঈনুদ্দিন বলেন, অভিযানের পর সিডিএ’র পক্ষ থেকে উচ্ছেদকৃত স্থান সেনাবাহিনীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খালগুলোর দখল হওয়া অংশ খনন করে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা হবে।
২০১৭ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ২১৪ ঘনমিটার মাটি খনন ও ৪ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার কাদা অপসারণ করার লক্ষ নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তিন ধাপে নগরের খালগুলো খনন ও সংস্কার করা হবে। প্রথম দফায় গুরুত্ব অনুযায়ী ১৩টি খালের খননকাজ চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০টি এবং শেষ পর্যায়ে বাকি খালগুলো থেকে মাটি উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া বন্যার পানি সংরক্ষণে জলাধার স্থাপন, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হবে এই প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয় ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন। প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি সই করে সিডিএ। এরপর ওই বছরের ২৮ এপ্রিল নালা-নর্দমা পরিষ্কারের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর।