এবার ‘মাঘের শীতে ষ শেষ পৃষ্ঠার পর

43

তুলনায় বেশি ছিল। ওই বছর শীত মৌসুমে জানুয়ারির শুরুতেই কয়েকদিনের ব্যবধানে সারাদেশে তিন দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। আর শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই রেকর্ড করা হয় বিগত চার দশকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ওই বছরের ৯ জানুয়ারি দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল তিন দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। ১৯৬৮ সালে শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল দুই দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতবছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণের শেষদিকে) দেশের উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু জায়গায় এবং যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে ওই শৈত্যপ্রবাহ চলাকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল আট থেকে ১০ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। চলতি মৌসুমে গত ৪ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া পূর্বদেশকে বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হলেও কয়েকদিন বৃষ্টি ঝরিয়ে বিদায় নিয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাব কেটে যাওয়ার পরপরই ঘন কুয়াশার দেখা মিলছে। তাই গ্রামের পাশাপাশি নগরজীবনেও শীত অনুভূত হচ্ছে। গত বছর বলতে গেলে তেমন শীত পড়েনি। এমনকি, শীতের ভরা মৌসুম পৌষের মাঝামাঝিতেও শীতের তীব্রতা ছিল না। ঋতুচক্রে পৌষ-মাঘ শীতকাল গণনা করা হলেও গতবছর শীতের ব্যাপ্তিকাল একমাসও ছিল না। গত বছর কম ছিল বলেই এবার তুলনামূলকভাবে একটু বেশি শীত অনুভূত হবে। তবে তার ব্যাপ্তি দীর্ঘায়িত হবে না। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যতে পারে। এবার জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও শীতের প্রকোপ থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জানুয়ারির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অথবা তীব্র (৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তখন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। বাংলা বর্ষপঞ্জির মাঘ মাসের এই সময়ে এসে প্রবাদ বাক্যের মতই ‘মাঘের শীতে বাঘ পালাতে’ পারে। দেশের অন্যান্য জায়গায় এক থেকে দুটি মৃদু অথবা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পঞ্জিকার ভিত্তিতে হিসেব করলে ডিসেম্বরের শেষার্ধেই এবার শীত বাড়তে থাকবে। মাসের শেষভাগে রাতের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমে আসবে। এসময় দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।