এবার ফিলিস্তিনের হাসপাতালে সহায়তা বাতিল করলেন ট্রাম্প

21

পূর্ব জেরুজালেমের হাসপাতালে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দকৃত আড়াই কোটি ডলার সহায়তা বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অধিকৃত ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের ছয়টি হাসপাতালকে এ আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হতো। এ তহবিল অন্যত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ফিলিস্তিনিদের জন্য মার্কিন সহায়তা পুনর্বিবেচনা করার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের মুক্তি আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার পর ফিলিস্তিনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে গাজা ও পশ্চিম তীরে তহবিল বাতিল করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ফিলিস্তিনিদের জন্য মার্কিন সহায়তা বরাদ্দ করা হচ্ছে কিনা তা পুনর্বিবেচনা করতে এ বছরের শুরুতে নির্দেশ দেন ট্রাম্প।
ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা থেকে আগেই ৬৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ প্রত্যাহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। জুনে ফিলিস্তিনিদের আরেকটি সহযোগিতা বাতিল করা হয়। ২৪ আগস্ট ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের জন্য বরাদ্দকৃত আর্থিক সহযোগিতা থেকে ২০ কোটি ডলারের বেশি তহবিল বাতিল করার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ পূর্ব জেরুজালেমের হাসপাতালগুলোতে বরাদ্দ বাতিলের ঘোষণা এলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সহায়তার ক্ষেত্রগুলো পুনর্বিবেচনার পর আমরা পূর্ব জেরুজালেমের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় আড়াই কোটি ডলার সহায়তা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছি। অন্যান্য জায়গায় সর্বোচ্চ প্রাধান্যের প্রকল্পগুলোতে এ তহবিল ব্যয় করা হবে।
মার্কিন এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ফিলিস্তিনিরা। তারা বলেছেন, এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে দারিদ্র্যের দিকে টেনে নিয়ে যাবে এবং অস্থিতিশীল করে তুলবে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ফিলিস্তিনিদের মুক্তি আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সহায়তা বন্ধের কারণে লাখো ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। জীবিকাজনিত অনিশ্চয়তায় পড়বে হাসপাতালের হাজারো কর্মী।