এফবিআই আর ট্রাম্পের দ্বন্দ চরমে

36

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর এফবিআই-এর নজরদারির অভিযোগ নিয়ে হোয়াইট হাউস এবং ওই তদন্ত সংস্থার দ্বন্দ চরমে পৌঁছেছে। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের প্রচারণায় নজরদারি করেছে এফবিআই। বুধবার ট্রাম্প এ সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর এফবিআই তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলছে, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নজরে রেখেছে তারা। গোয়েন্দা সংস্থাটি জানায়, তারা এর যথার্থতা নিয়ে সন্দিহান। কারণ মেমো থেকে অনেক কিছু বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন তারা।
রিপাবলিকানদের অভিযোগ, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায় নজরদারি চালিয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। সেই নজরদারির তথ্য প্রকাশ করতেই নথিটি সামনে আনছেন ট্রাম্প। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি বলেন, খুব শিগগিরই এই সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হবে এবং বিশ্ব দেখবে। এর আগে মঙ্গলবার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণেও ট্রাম্প রিপাবলিকান এক কংগ্রেসম্যানকে বলেছিলেন, তিনি ওই মেমোটি শতকরা একশ ভাগই প্রকাশ করতে চান। চলতি সপ্তাহে হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটি নথি প্রকাশের অনুমতি দেয়। এই মেমোটি তৈরি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ডেভিন নানিস। কিভাবে গোয়েন্দারা নজরদারি বা সার্ভিলেন্স করে তা নিয়ে বর্ণনা রয়েছে সেই নথিতে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এফবিআইয়ের অনুরোধ ছিল নথিটি যেন না প্রকাশ করা হয়। আর ডেমোক্র্যাটদের দাবি, রাশিয়ার হস্তক্ষেপের তদন্ত আড়াল করতেই নথি প্রকাশ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার রে’র মধ্যে দ্বন্দ এখন প্রকাশ্যে।

গোয়েন্দা মেমো’কে কেন্দ্র করে বুধবার তাদের মধ্যে সংঘাতময় অবস্থা প্রকাশে চলে এসেছে। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী টিম ও রুশ সংযোগ তদন্ত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এমন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউজকে চোখে পড়ার মতো ইঙ্গিত পাঠিয়েছেন ক্রিস্টোফার রে। প্রকাশ্যেই বিরল এক সতর্কতা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এফবিআইয়ের নজরদারিমুলক চর্চার ওই মেমো প্রকাশ করে দিলে তাতে এর বাস্তবতা বা ন্যায়পরায়ণতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এফবিআইয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একদিন আগেই এফবিআইয়ের একটি মেমো প্রকাশ করার বিষয়ে ভোটে পাস হয়েছে হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির স্মারকে। এতে এফবিআইকে মেমোটি পর্যালোচনার খুবই সীমিত সুযোগ দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক পর্যালোচনায় জানতে পারি এখান থেকে কিছু তথ্য সরিয়ে রাখা হয়েছে। যা এই মেমোর যথার্থতা প্রভাবিত হতে পারে।’ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ওই মেমোটি যথার্থ নয়। কিভাবে নজরদারিমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয় এতে তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নেই। বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন জানিয়ে এফবিআই জানায়, ‘কঠোর এই সতর্কতা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলে দিয়েছেন তিনি এই মেমো প্রকাশ করতে চান এ জন্য যে, তাতে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।’
ওদিকে আইন মন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এফবিআইয়ের কর্তারা। তারপরই এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে বিরল ওই বিবৃতি দেয়া হয়। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আইন মন্ত্রণালয় ও এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা ‘নানিস মেমো’তে সুর্নিদিষ্ট ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। মেমোটি কবে প্রকাশ হবে তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের দু’জন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘নানিস মেমো’ বুধবার প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে তা বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে প্রকাশ হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি।