এতিমখানা দুর্নীতি খালেদার আপিল শুনানি শুরু ৩ জুলাই

পূর্বদেশ ডেস্ক

31

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি শুরু হচ্ছে আগামী ৩ জুলাই। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার শুনানির এই দিন ঠিক করে দিয়ে আপিলকারী পক্ষকে পেপারবুক সরবরাহ করতে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দিয়েছে। খালেদা জিয়ার
আইনজীবীদের মধ্যে মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।
খুরশীদ আলম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি করতে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত রবিবার দুদকের পক্ষ থেকে শুনানির দিন ধার্য করার আবেদন করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার আদালত হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখার কাছে জানতে চেয়েছিল পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট শাখা বুধবার জানায়, পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। আমরা এটা উল্লেখ করে শুনানির দিন চাইলে উনারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) আপত্তি জানিয়ে বলেন, শুনানি নিষ্পত্তি সংক্রান্ত একটি রিভিউ আবেদন পেন্ডিং আছে। এ অবস্থায় শুনানির দিন ধার্য করা ঠিক হবে না। আমি বললাম, রিভিউ আবেদন ফাইল করলেই হবে না। ফাইল করেই আপিল বন্ধ রাখা যাবে না, যদি সেখানে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকে। এই কার্যক্রমটি যদি আপিল বিভাগ বন্ধ করে দেয়, যদি বলে যে রিভিউ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপিল শুনানি বন্ধ থাকবে, তবে তো আমরাই আদালতকে জানাব’।
আদালত দুই পক্ষের কথা শুনে আগামী ৩ জুলাই আপিল শুনানির জন্য ধার্য করেছে বলে জানান দুদকের আইনজীবী।
খালেদা জিয়ার পাশাপাশি এ মামলায় দন্ডিত আরেক আসামি মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের আপিল ও খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর প্রশ্নে হাই কোর্টের জারি করা রুল শুনানির দিন ধার্য করার আবেদন করেছিলেন খুরশীদ আলম খান। গত রবিবার তার আবেদন শুনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বলেছিল, তারা শুধু খালেদা জিয়ার আপিলটি শুনতে পারবেন, কারণ আপিল বিভাগ এই শুনানির জন্য তাদের বেঞ্চের নাম ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু দুদকের মামলা শোনার এখতিয়ার এই বেঞ্চের নেই।
দুদক আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত জানিয়ে খুরশীদ আলম খান বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পেপারবুক জোগাড় করে নিয়েছি। রাষ্ট্র পক্ষও জোগাড় করে নিয়েছে। কিন্তু উনারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) তা পাননি। আসলে পেপারবুক জোগাড় করে নিতে হয়। তারপরও পেপারবুক পেতে তারা আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন। আদালত পেপারবুক সরবরাহ করতে নির্দেশ দিয়েছে’।
সাজার বিরুদ্ধে খালেদার আপিল নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগ যে সময় বেঁধে দিয়েছে, তার পুনর্বিবেচনা চেয়ে সোমবার ওই রিভিউ আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। খালেদার অন্যতম আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ ধরনের সময়সীমা বেঁধে দিলে আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের ওপর চাপ থাকে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে সময়সীমার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নিতেই পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে’।
এদিকে গতকাল বুধবার হাই কোর্ট আপিল শুনানির দিন ধার্য করার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আপিল বিভাগ হাই কোর্ট বিভাগকে এ মামলার আপিল নিষ্পত্তি করতে ৩১ জুলাই দিন নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি এক মাস পর পেয়েছি। এছাড়া এ মামলায় হাই কোর্ট থেকে খালেদা জিয়াকে দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করতে চলে গেছে আরও দুই মাস। এজন্য আমরা আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেছি’। তিনি বলেন, এ মামলায় বিশাল পেপারবুক তৈরি হলেও তারা তা হাতে পাননি। এই বাস্তবতায় আগামী মঙ্গলবার থেকে আপিল শুনানি শুরু করা ‘অসম্ভব’।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আপিল গত ১৬ মে খারিজ করে আপিল বিভাগ। সাজার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিস্পত্তি করতে সেদিনই নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
গত ৮ ফেব্রæয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এ মামলার রায়ের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। পুরনো ওই কারাগার ভবনে এখন একমাত্র বন্দি তিনি।