এখনো চিরতরুণ নোবেল

36

নব্বই দশকের শুরুতে তার যাত্রা। এরপর প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তিনি মুগ্ধ করে রেখেছেন সৌন্দর্যে, আকর্ষণীয় ফিগারে, ভুবন ভুলানো হাসিতে ও চুম্বকের মতো ব্যক্তিত্বে। এ দেশের মডেলিংয়ে কিংবদন্তি নোবেল। তাকে কেউ বলেন দেশের প্রথম সুপারস্টার মডেল, কেউ আবার মডেলিং জগতের রাজপুত্র বলে ডাকেন। শুধুমাত্র মডেলিং দিয়ে দেশের অন্যতম স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন এই তারকা। গত ২০ ডিসেম্বর ছিলো নোবেলের জন্মদিন। দেখতে দেখতে জীবনের ৫২ বছর পূর্ণ করে ৫৩ বছরে পা দিলেন তিনি। এই বয়সেও তিনি তরুণ, চঞ্চল আর হার্টথ্রব।
নোবেলের পুরো নাম আদিল হোসেন নোবেল। ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে তার জন্ম। চট্টগ্রামেই পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েছেন। তিনি ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। এছাড়া সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এবং জেভিয়ার লেবার রিলেশনস ইনস্টিটিউট থেকে ‘কি অ্যাকাউন্টস ম্যানেজমেন্ট’-এর ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন নোবেল। যাত্রাটা তার সাফল্যের ছিল না। এমবিএ শেষ করে ঢাকায় এসে এক বড় বোনের পরামর্শে ফ্যাশন জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন নোবেল।
১৯৯১ সালে বরেণ্য নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় কোমল পানীয় স্প্রাইটের বিজ্ঞাপনের জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। কিন্তু সেটি প্রচার হয়নি। এ নিয়ে খুব মন খারাপ হয়েছিল। স্বপ্নভঙ্গ বলে কথা। তবে আফজাল হোসেন তাকে সাহস দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘সুযোগ আবার আসবে’। সেই সুযোগ আফজাল হোসেনই দিয়েছিলেন নোবেলকে।
আফজাল হোসেনের নির্দেশনাতেই আজাদ বলপেনের বিজ্ঞাপনে মডেল হন তিনি। সেই বিজ্ঞাপন দিয়েই তারকা বনে গেলেন সুদর্শন নোবেল। এরপর আর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি রুটিন মেনে চলেন প্রতিটি মুহূর্তে। প্রতিদিন ব্যায়াম, সুইমিং, জিম করেন। প্রতিদিন সঠিক সময় খাওয়া, অফিস করেন। এটাই চিরতরুণ নোবেলের রহস্য।