এক বছরেই কত কিছু বদলে যায়!

3

গত বছর হেইলি বল্ডউইন তার ২১তম জন্মদিন পালন করেছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে। প্রথমে নিউ ইয়র্কে একটি প্রাইভেট পার্টি যেখানে কেন্ডাল জেনার, জাস্টিন স্কাইয়িসহ অন্যরা। তারপর বেলা হাদিদের সঙ্গে বাহামায় মডেলিং শ্যুটআউটে। ইনস্টাগ্রামে অনেক ক্যাপশনের একটি ছিল- ‘আমি আমার বন্ধুদের ভালোবাসি’।এ বছরের দৃশ্যপট একেবারেই অন্যরকম। ২২তম জন্মদিন সামনে রেখে হেইলির উদযাপন ভাবনা সম্পর্কে জনমানসে ব্যাপক রহস্য। কারণ তিনি এখন জাস্টিন বিবারের ঘরণী। গত জুন পর্যন্ত নানা ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে এগোনো দুজনের সম্পর্কটা এখন আনুষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছে। মরণ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন না হওয়ার অঙ্গীকারনামায় দুজনে দুজনার। এমনকি ইনস্টাগ্রামের হ্যান্ডেল পর্যন্ত বদলেছেন হেইলি, পদবিতে যোগ করেছেন বিবার। মানে সম্পর্কটা মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার জো নেই।
অভিনেতা স্টেফান বল্ডউইনের মেয়ে হেইলি। ১৪ বছরের কিশোর জাস্টিনের সঙ্গে যখন পরিচয় তখন তার বয়স ১২। একটা অনুষ্ঠানে দুজনের হাত মেলানোর ছবি বন্দি আছে ক্যামেরায়। ছবিতে স্পষ্ট হেইলির অভিব্যক্তি, ততটা সচ্ছন্দ ছিলেন না তিনি। কৈশোরের প্রণয় তাই বলা যাচ্ছে না এক্ষেত্রে। তবে জাস্টিনের বায়োপিকের মুক্তি উপলক্ষ্যে লাল গালিচায় বাবাসহ হেইলির উপস্থিতি ছিলো ভিন্নমাত্রার। ক্যামেরায় জাস্টিনের সঙ্গে যুগলবন্দি ছবিতে তার তখনকার আবেগকে অনায়াসেই চিহ্নিত করা যায় এই বলে যে, প্রেমে মজেছেন হেইলি!
তবে সেই সময়কালে দুজনের সম্পর্কটা ছিলো স্রেফ বন্ধুত্বের। কারণ জাস্টিন তখন মগ্ন সেলেনা গোমেজে। দুজনের নাম এক করে ‘জেলেনা; বলে ডাকা হতো এই পপ সেনসেশান জুটিকে। যাপিত প্রতিটি মুহূর্ত বর্ণনা হতো সোশাল মিডিয়ায়। হেইলি তখন স্রেফ বন্ধু। জাস্টিনের সঙ্গে তাকে দেখা যেতো কমন আউটিংয়ে। দুজনেরই বন্ধু কেন্ডাল, কাইলি জেনার এবং জ্যাডেন স্মিথদের সান্নিধ্যে। ছয় বছর আগে হেইলির টুইটগুলোতে নিয়মিতই প্রমাণ মিলেছে তার।
সেলেনার সঙ্গে জাস্টিনের সম্পর্কটা ছিলো তুমুল ওঠানামায়। নিয়মিতই দুজনের মান অভিমান, বিচ্ছেদ এবং সম্পর্ক জোড়া লাগার খবর বেরুতো। এমনই এক বিচ্ছিন্নতায় ইনস্টাগ্রামে কিছু পোস্টে নড়েচড়ে বসলো ভক্তরা। হেইলির সঙ্গে বন্ধুত্ব অন্য এক মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছেন জাস্টিন এমনই ফিসফাস চারিদিকে। নিয়মমাফিক তা অস্বীকার করছিলেন দুজনই। ২০১৪ সালে এক সাক্ষাতকারে হেইলি বলেন, ‘আমি যখন ১৩ বছরের কিশোরী, তখন থেকে ওকে চিনি। তখন থেকেই আমরা ভালো বন্ধু। আমরা সেই থেকেই ঘনিষ্ঠ এবং তার বেশী কিছু নয়।’ জাস্টিনও ইনস্টাগ্রামে হেইলির ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে উল্লেখ করেতন, ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে। এবং নিজেকে দাবি করতেন ‘সুপার সিঙ্গেল’ বলে! এত অস্বীকৃতির পরও যখন ২০১৫ সালের নববর্ষের শুরুতে দুজনকে একসঙ্গে অ্যাঙ্গুইলায় ছুটি কাটাতে দেখা গেলো- কেউ অবাক হয়নি। ঘনিষ্টদের বরাতে বলা হলো দুজনের সম্পর্কটা আগের চেয়ে বেশী ঘন, তবে তারা সময়টা উপভোগ করছে, এখনও নিশ্চিত বলা সম্ভব নয় কি হতে যাচ্ছে।
পরের বছরই জিকিউতে জাস্টিন ইঙ্গিত দিলেন ভবিতব্যের। বললেন, “এমনতো হতেই পারে হেইলিই সেই মেয়ে যাকে আমি বিয়ে করতে চাই। তবে আমি যদি তাড়াহুড়ো করি তাহলে সম্পর্কটায় ধাক্কা লাগতে পারে। এ ধরণের আঘাত সামলে ওঠা মুশকিল। আমি তাকে আঘাত দিতে চাই না।” যোগ করলেন, “ক্যারিয়ারের এই সময়কালে আমি আসলে অনেক কিছুর প্রতি দায়বদ্ধ। অনেক দায়িত্ব আমার সামনে। এসময় কোনো কিছুতে আটকে থাকার মতো অবস্থানে আমি নেই। তাই আমি চাই না আমার প্রেমিকা আমার জন্য একটা বোঝা হয়ে দাঁড়াক। তার প্রতি দায়িত্বপালনে অক্ষমতা আসুক তা চাই না।”
সাক্ষাতকারটি প্রকাশের পর এক সাক্ষাতকারে হেইলির সুরও ছিলো একই, “আমরা আহামরি কোনো জুটি নই। এই বয়সের সম্পর্ক সবসময়ই নানা জটিলতায় ভোগে। আমি সেগুলা বাড়াতে চাই না। এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না, কারণ সম্পর্কটা আমার আর ওর।”
দুজনের কেউ ভুল বলেননি। হলিউডের সম্পর্কের মাত্রা আসলেই জটিল। এরপর আবার দেখা গেলো সেলেনার সঙ্গে ঘুরছেন জাস্টিন। দুজনের রোমান্স আগের চেয়েও গাঢ়। অন্যদিকে হেইলিকে দেখা গেলো শন মেন্ডিসের বাহুডোরে। এ বছর মে মাসে মেট গালা রেড কার্পেটে দুজনকে দেখা গেলো একসঙ্গে। তবে হেইলি দাবি করেছেন, তিনি তখনও একাই!
এরপর আবারও চমক। জিকিউয়ের সেই সাক্ষাতকারের দু বছরের মাথাতেই ফলে গেলো কথাগুলো। জাস্টিন তার ‘সুপার সিঙ্গল’ ইমেজ ঝেড়ে ফেলে হেইলির কাছে ফিরে এলেন। এর পরের ঘটনা ঘটেছে দ্রæত। দুজনের বাগদান এবং গ্রীষ্মেই বিয়ে। তবে দুজনকে আমলে নিলে এবং তাদের বন্ধু ও স্বজনদের কথা মতো এই সম্পর্কের অভিযাত্রা আসলে দীর্ঘ। অনেক ওঠানামার মধ্যে দিয়ে অবশেষে মেলবন্ধন এই জুটির।
স্টেফান যেমন বলেছেন, “অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে আমার মেয়ে ওকে চেনে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে। অনেক লম্বা সময়, তাই অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেননি দুজনের সম্পর্কের মাত্রাটা আসলে কোন পর্যায়ের। আমি খুশি এবং দুজনকে আশীর্বাদ করছি যেন তাদের আগামী সুখের হয়।”
মেয়ে জামাইয়ের পরিণত হয়ে ওঠাটাও উল্লেখ করেছেন স্টেফান, “ও আর আগের মতো ছোটটি নেই, এখন যে অনেক পরিণত যে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে। ও যেভাবে আমার মেয়ের দেখভাল করছে ওর দায়িত্ব নিয়েছে তাতে আমি অভিভূত।”
জাস্টিনের কাছে ফিরে আসার আগের সময়টার বর্ণনা দিয়েছেন হেইলি এক সাক্ষাতকারে। জানিয়েছেন বিচ্ছেদের পর পর তাদের বন্ধুত্বে একটা লম্বা ফাটল ধরেছিলো। বলেছেন, ‘একটা নির্দিষ্ট বয়সে এসে অনেক কিছুই বদলে যায়। আমাদের তখন ১৮-১৯, এমনটাই স্বাভাবিক। একটা লম্বা সময় আমাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিলো, আমরা বন্ধু থাকিনি। তারপর আবার আমরা সেটা পেরিয়ে এসেছি।’
সম্পর্কের এই বরফ গলে মিয়ামিতে। ভিওইউএসের চার্চ কনফারেন্সে। জাস্টিন ও হেইলি দুজনই এই সংস্থার সঙ্গে জড়িত। সেই অনুষ্ঠানেই মুখোমুখি হয়ে দুজনের ভুল বোঝাবুঝিগুলো দূর করেন তারা। সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলস, হ্যাম্পটন, নিউইয়র্ক সিটি। অবিচ্ছেদ্য থাকেন দুজন। প্রকাশ্যেই পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা লুকানোর কোনো চেষ্টাই করেননি কেউ। এজন্য অবশ্য হেইলির ধৈর্য্যকেই বাহবা দিয়েছেন দুজনের ঘনিষ্টরা। তাদের মতে হেইলি জানতেন তিনি কি চান, তাই সঠিক সময়ের অপেক্ষা করেছেন যাতে জাস্টিন উপলব্ধি করতে পারেন হেইলিকে তার কতখানি প্রয়োজন। তবে হেইলি নিজেও এতোটা হয়তো আশা করেননি। বিশাল এক পার্টিতে সবার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে হেইলিকে প্রপোজ করেন জাস্টিন। চমকে গেলেও হেইলির অভিব্যক্তিতে পরিষ্কার বোঝা গেছে কতটা ভালোবাসেন তিনি প্রেমিককে। খবরটা ঝড়ের বেগে ছড়ালো। জাস্টিনও ইনস্টাগ্রামে নিশ্চিত করলেন, হেইলিই হতে যাচ্ছেন মিসেস বিবার!
হেইলিকে এক প্রেমময় মেসেজে লিখলেন, “কিছু বলার আগে একটু অপেক্ষা করবো ভেবেছিলাম, কিন্তু খবর দ্রুত ছড়িয়ে গেছে। শোনো হেইলি, ভালো মতো শোনো, আমি তোমার প্রেমে পাগলপারা। তোমার প্রতিটি অংশকে ভালোমতো জানতে বুঝতে ও ভালোবাসতে আমি বাকিটা জীবন তোমার সঙ্গী হতে চাই। সম্মান ও দায়িত্বের সঙ্গে যাপন করতে চাই তোমার আমার দাম্পত্য।’ অনেকগুলো ছবি দিয়ে সেখানে ক্যাপশন দেন, ‘আমার হৃদয় পুরোপুরি এবং শুধুই তোমার। আর আমার কাছে শুধু তোমারই অগ্রাধিকার। তুমি আমার জীবনের একমাত্র প্রেম হেইলি বল্ডউইন আর এই জীবনে আমি আর কাউকে চাই না।”
যদিও অনেকে ভাবেন এটা জাস্টিনের হুট করে নেয়া সিদ্ধান্ত।
দুজনের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু জানান, জাস্টিন আর হেইলি বন্ধু আর পরিবারকে বলেছিলো তারা কাগজপত্রে ঠিকঠাক আর বিয়ের নিবন্ধনের ব্যাপারে জানতে সেখানে গেছে কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নেয় তখনই বিয়ে করার। এই পরিকল্পনা কেউ জানতো না। তাদের মনে হয়েছে এটাই সঠিক এবং কেউ তাদের উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না। তারা চেয়েছে একটা বিশেষ মুহূর্ত। শুধু দুজনের।