জলাবদ্ধতা নিরসনে আলোর দিশা

একনেকে সাড়ে ১২শ কোটি টাকার নতুন খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন

ওয়াসিম আহমেদ

27

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ৪ বছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) রেকর্ড সংখ্যক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ সময়ে ৪ হাজার ৮শ ৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার ৭টি বড় প্রকল্প অনুমোদন পায়। আরো হাজার কোটির টাকার কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যা সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে পূর্ববর্তী কোনো মেয়রের আমলে হয়নি। প্রায় সবকটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী একটি সমন্বিত উন্নয়নের স্বাদ পাবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে জলবদ্ধতা নিরসনের ১২৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার খাল খননের সংশোধিত প্রকল্প। এর মধ্যে ৯৪২ কোটি ১২ লাখ টাকা জিওবি অর্থায়ন ও ৩১৪ কোটি ৪ লাখ টাকা দেবে চসিক। সংশোধিত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। চার বছর আগে একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিল প্রকল্পটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় না হওয়া এবং ভ‚মি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে জনগণের যাতায়াতে সুবিধা বৃদ্ধি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রকল্পের অধীনে নতুন খালটি নগরীর বহদ্দারহাট বারইপাড়াস্থ চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে শাহ্ আমানত রোড, নুর নগর হাউজিং সোসাইটির মাইজপাড়া, পূর্ব বাকলিয়া হয়ে বলির হাটের পাশে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬৫ ফুট। খালের উভয় পাশে ২০ ফুট করে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে ১ হাজার কোটি টাকার সিজিপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুন মাসে। ২৭ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি কর্পোরেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রায় শেষের পথে। ১২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস/ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্পটি অনুমোদন পায় গত মাসে।
২৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায় চলতি বছরের জুলাই মাসে। ৪২০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রকল্পটি অনুমোদন পায় ২০১৭ সালে। এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। এছাড়াও ৭১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বন্যা-জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহের উন্নয়ন, নালা সংস্কার, প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ পূর্বদেশকে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আবশ্যিক কাজ তিনটি। এগুলো হচ্ছে-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে সড়ক চলাচল উপযোগী এবং বাতির মাধ্যমে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা। মেয়র মহোদয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সফলতা এসেছে। ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহ করছে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা। তিনি আরো বলেন, ১২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলমান সড়ক নেটওয়ার্কিং প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে শহরের ৯০ ভাগ রাস্তা উন্নত হবে। এছাড়া বাকি ১০ ভাগ রাস্তার প্রশস্থতা ১২ ফিটের কম হওয়ায় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে আনা সম্ভব হয়নি। তবে এগুলোর সংস্কার নিজস্ব অর্থায়নে করতে সিটি কর্পোরেশন বদ্ধপরিকর। আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়াও ২৭ কোটি টাকার এলইডি প্রকল্পের কাজ শেষের পথে। এছাড়াও ভারত সরকারের অর্থায়নে আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেটি অনুমোদনপূর্বক বাস্তবায়ন হলে নগরের প্রত্যেকটি সড়ক এলইডি আলোকায়নের আওতায় আসবে। ২০২০ সালের শেষের দিকে প্রায় সবকটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ হবে। তখন নগরবাসী একটি পরিকল্পিত উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রশ্নে তিনি বলেন, সিডিএ-পানি উন্নয়ন বোর্ড জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর সাথে সিটি কর্পোরেশন বিন্না ঘাস প্রকল্প ও গতকাল অনুমোদিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ফলে জলবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগোচ্ছে।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন পূর্বদেশকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালে চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন থেকে আমাদের পরিকল্পিত সবকটি উদ্যোগকে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। আমার ৪ বছরে যেসব প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, তা পূর্ববর্তী কোনো মেয়রের আমলে হয়নি। আমি নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলাম নগরবাসীকে একটি পরিকল্পিত শহর উপহার দেব। আমরা এখন সে পথেই এগোচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের যেসব প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন ২০২০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। আরো কিছু প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে নগরবাসীকে একটি পরিকল্পিত শহর উপাহার দেব।