গণপরিবহন শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণ

একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ

7

ঢাকা চট্টগ্রামসহ সিটি এলাকায় বসবাসকারীদের তথ্য সংরক্ষণ করছে পুলিশ। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সর্ভস্তরের নাগরিকের তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রেকর্ডবুকে থাকা প্রয়োজন। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নানারকম অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। যার ফলে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ও দুর্ঘটনায় ব্যক্তির তথ্য পাওয়া খুবই সংকট। যার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জঙ্গি ও অপরাধ দমনের লক্ষে নাগরিকদের পাশাপাশি গণপরিবহন শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কেননা আমরা দেখতে পাই গণপরিবহন কর্তৃক সড়ক দুর্ঘটনায় সঠিক তথ্যের অভাবে কোন রকম অনুকূল প্রতিকার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
সড়ক দুর্ঘটনায় গণপরিবহনের চালক, কন্ট্রাক্টর সুপারভাইজার, হেলপারদের কোন তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কিংবা পুলিশের কাছে না থাকায় সম্পূর্ণ হত্যাকান্ড হলেও কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাছাড়া গণপরিবহনের শ্রমিকরা বহু অপরাধ প্রবণ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হলেও সঠিক তথ্যের অভাবে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে না। তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতির এ সময়ে এমনটি হতে পারে না। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে অনেক রকম অপরাধ প্রবণ কাজের সাথে গণপরিবহনের শ্রমিকদের সংশ্লিষ্টতার কথা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেলেও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে নানা রকম সংকটে পড়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণপরিবহনের চালক, কন্ট্রাক্টর, সুপারভাইজার ও হেলপারদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য পরিবহন মালিক সমিতি, বিআরটিএ ও পুলিশের সম্মিলিত উদ্যোগে যে পরিবহন শ্রমিকের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে তাকে আরো কার্যকর অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যে কাজ শুরু হয়েছে তাকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করলে সরকার, জনগণ ও পরিবহন সেক্টর উপকৃত হবে।
আমরা দেখতে পাই বহু পরিবহন শ্রমিকের কোন লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স এবং প্রশিক্ষণ ছাড়াই গাড়ির চালক ও সাধারণ শ্রমিক হিসেবে অনেকে পরিবহন সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলে সরকারি তালিকায় তাদের কোন পরিসংখ্যান থাকছে না।
তাছাড়া লাইসেন্স ছাড়া পরিবহন সেক্টরে কাজ করে বহু পরিবহন শ্রমিক সরকারি আইন ও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। পুলিশ তাদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করলে অবৈধ শ্রমিকরা পরিবহনে কাজ করে নানা রকম অপরাধ প্রবণতায় জড়িত হবার সুযোগ পাবে না। এর ফলে একদিকে পরিবহন সেক্টরে জবাব দিহিতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব আয় হবে। দেশের সব সেক্টরে একটি শৃঙ্খলা খুবই জরুরি। পরিবহন সেক্টরে পুলিশের তথ্য সংরক্ষণের কাজ কার্যকর হলে পরিবহন সেক্টরে অনেকখানি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।