উপকূলে সতর্কতা জারি, উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা

উখিয়া প্রতিনিধি

3

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র আঘাতের ভয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদিন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটে উখিয়া-টেকনাফে অবস্থানকারী ১১ লাখ রোহিঙ্গা। এছাড়াও উপকূলে অবস্থানকারী স্থানীয় জনসাধারণও ছিল সতর্কে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপকূলের সাইক্লোন সেল্টার, স্কুল, মাদ্রাসা খোলা রাখা হয়।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় তিতলি বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের ওড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আছড় পড়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে ঘুরতে থাকা গভীর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উড়িষ্যা অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় কয়েকটি জেলাও আক্রান্ত হয়। তৎমধ্যে কক্সবাজারের উপকূলও তালিকায় ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়টি ভারতে আঘাত হানলেও রক্ষা পেয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফবাসীসহ ১১ লাখ রোহিঙ্গা।
থাইংখালী তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ আলী জানান, প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় চলতি বছর কয়েকবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এখানকার রোহিঙ্গারা। গত কয়েকদিন ধরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র আঘাত হানতে পারে এমন ভয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিল ১১ লাখ রোহিঙ্গা। কারণ ঘূর্ণিঝড় হলে এসব ঝুপড়ি ঘরগুলোর অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। একই কথা বালুখালী, থাইংখালী শফিউল্লাহকাটা, কুতুপালং, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার সারাদিন এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজারে মাত্র ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাতের মতো বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত হালকা বৃষ্টিপাত চলমান রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে উপকূলে জলোচ্ছ¡াসের মতো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উপকূলের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেভাবেই উপকূলে মাইকিং করে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সাগরে থাকা সব মাছধরার বোটগুলোকেও। তিনি এসময় বলেন, উখিয়া আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদেরকেও নিরাপদে থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি এনজিও সংস্থার লোকজন প্রস্তুত রাখা হয়, যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।