উত্তর প্রদেশের মসজিদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির

26

হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখা গেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের মীরাটে। সম্প্রতি শিব ভান্ডারার (বিশেষ ভোজ) প্রস্তুতি নিতে নিজেদের প্রাঙ্গণ ব্যবহারের জন্য স্থানীয় এক মন্দির কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দিয়েছেন জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় মুসলিমরাও ওই প্রস্তুতিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এবং খাবার বিতরণ করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এমন দৃষ্টান্তে মুগ্ধ হয়েছেন অন্য এলাকার বাসিন্দারাও। টুইটারে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন তারা।
দেড়শ’ বছরের পুরনো সোমনাথ শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করতে ভান্ডারা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক দশক আগে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়। গণেশ, শিব দুর্গা, হনুমান, অন্নপূর্ণার মতো হিন্দু দেবতাদের মূর্তিগুলো মন্দিরটিতে স্থাপন করা হয়েছে। আর জামে মসজিদের অবস্থান মীরাট জেলার মহল্লা চাহশোর অঞ্চলে। শিব ভান্ডারার প্রস্তুতি নিতে জায়গা দেওয়ার জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চান মন্দির কর্তৃপক্ষ। হিন্দুস্তানে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মসজিদের প্রধান ধর্মীয় চিন্তাবিদ (শেহের কাজী) জাইন উস সাজিদিন তার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়কে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের দিন জামে মসজিদ ভোর বেলাতেই খুলে দেওয়া হয়। মসজিদ প্রাঙ্গণে ভান্ডারা রান্নার জন্য বড় স্টোভ, শাকসবজি, কাঁচা খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। মুসল্লিদের ওজুর পানি শাকসবজি ধোঁয়ার কাজে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন তারা। সৌরভ ভুনিয়া নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ভারতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভালো সংবাদ এটি। মুসলিম-হিন্দু ভ্রাতৃত্ব পুনর্জাগরিত ও দৃঢ় হওয়ার চিহ্ন এটি। কাজী ও পন্ডিতের প্রতি আমার আন্তরিক প্রণাম ও সালাম। এমন ভালো কাজ চালিয়ে যান।’ মঞ্জুর আহমেদ নামে একজন টুইটারে লিখেছেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য শিব ভান্ডারা আয়োজনের ব্যবস্থা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মীরাটের জামে মসজিদ।

নিজেদের প্রাঙ্গণে খাবার তৈরি করার জন্য জায়গা দিয়েছেন তারা।’ খুশবু নামের আরেক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, উত্তর প্রদেশের মীরাটের জামে মসজিদ শিব ভান্ডারার জন্য গেট খুলে দিয়েছে। এটিই ভারতের ঐক্যের সত্যিকারের প্রমাণ।’ কিছু দিন আগে অযোধ্যার শ্রী সীতারাম মন্দির প্রাঙ্গণেও সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির নজির দেখা গিয়েছিল। আয়োজন করা হয়েছিল ইফতার পার্টির। আর সেখানে বিভিন্ন স¤প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেছেন।