উজ্জ্বল ক্যারিয়ার নিশ্চিতে সুইডেনে উচ্চশিক্ষা আইইএলটিএস ছাড়া এবং পরিবারসহ যাওয়ার সুযোগ

রীমা বড়–য়া

বিশ্বের প্রথম সারির অন্যতম ধনী, সুখী ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ সুইডেন। তাই উচ্চশিক্ষার্থে যারা বিদেশ যেতে আগ্রহী তাদের অনেকেই এখন সুইডেনে যেতে চান যেহেতু সুইডেনে রয়েছে বিশ্বের নামকরা সব সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল দেশ ইউরোপের সুইডেনে বর্তমানে আছে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীও। বাল্টিক সাগরের পশ্চিমে অবস্থিত উত্তর ইউরোপের এই দেশটি গবেষণাধর্মী কাজের জন্য সুপরিচিত এবং অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধশালী। তাই সুইডেনে পড়ালেখা করলে ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হবে এটা অনেকটাই নিশ্চিত।
সুইডেনে বছরে দু’টি সেমিস্টার, অটাম সেমিস্টার-আগস্ট ও জানুয়ারি এবং অন্যটি স্প্রিং সেমিস্টার-জানুয়ারি ও জুন। সেদেশে ব্যাচেলর প্রোগ্রামের মেয়াদ ৩ বছর আর মাস্টার্সের ১-২ বছর। তবে পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ বিশ^বিদ্যালয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাছাড়া সুইডেনে বিষয়ভিত্তিক প্রফেশনাল কোর্সও করা যায়।
উচ্চশিক্ষার বিষয় : সুইডেনে ইংরেজিতে পড়াশোনা করে শতাধিক বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করা যায়। বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড আইটি, বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স, মেডিসিন, জেনারেল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, লাইফ সায়েন্স, গণিত, আর্থ সায়েন্স, ক্রিয়েটিভ আর্টস এন্ড ডিজাইন, নার্সিং, আইন, অর্থনীতি, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মিডিয়া, রাজনীতি, সামাজিক বিজ্ঞান ইত্যাদি।
পড়ালেখার ভাষা : সুইডেনের প্রথম ও সর্বজনীন ভাষা সুইডিশ। তবে ইংরেজি সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। আর দেশটির বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে সুইডিশ ও ইংরেজি এ দুই মাধ্যমেই পড়ানো হয়ে থাকে। সুইডেনে পড়াশোনা করতে গেলে আইইএলটিএস সহ/ছাড়া আবেদন করা যায়। নোবেল পুরস্কারের দেশ সুইডেন বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ যেখানে অনেক নামকরা কোম্পানিও আছে। এগুলোর মধ্যে আছে এরিকসন, ভলভো, আইকেইএ, এইচএন্ডএম ইত্যাদি। সুইডেনে চাকরি পাওয়া সহজ তবে সুইডিশ ভাষা জানা থাকলে বেশি বেতনে ভালো চাকরি পাওয়া যায়।
আপনি সুইডেনে স্টুডেন্ট ভিসায় স্পাউস সহ আবেদন করতে পারবেন। আপনি চাইলে আপনার স্বামী/স্ত্রী এবং বাচ্চাদেরকে একইসাথে নিয়ে যেতে পারবেন। নিতে পারবেন ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানকেও। এ কারণে বিবাহিত যারা উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে যেতে চান তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে সুইডেন। সুইডেন মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেয়। নির্দিষ্ট ভিসার মেয়াদের মধ্যে আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যতবার খুশি ততবার দেশে আসতে পারবেন এমনকি চাইলে পরিবারের সবাই মিলে ঘুরে আসতে পারবেন ইউরোপের যেকোনো দেশে।
উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো : সুইডেনের প্রায় সবগুলো কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ই বিশ^বিখ্যাত। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্টকহম ইউনিভার্সিটি, জনকোপিং ইউনিভার্সিটি, আপসালা ইউনিভার্সিটি, লুলেয়া ইউনিভার্সিটি, হ্যামস্ট্যাড ইউনিভার্সিটি, লুন্ড ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইন্সটিটিউট অভ টেকনোলজি, লিনকোপিং ইউনিভার্সিটি, ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউট, ইউনিভার্সিটি অভ গোটেবার্গ, কার্লস্ট্যাড ইউনিভার্সিটি, লিনেয়াস ইউনিভার্সিটি, সুইডিশ ইউনিভার্সিটি অভ এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস, মালমো ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি।
দেশের অন্যতম প্রাচীন ইমিগ্রেশন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী ‘কাজী ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন’ এ পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য সুইডেন পাঠিয়েছে সফলভাবে। কাজী ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন ও ল্যাঙ্গুয়েজ ভার্সিটি-এর চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ইমিগ্রেশন এক্সপার্ট কাজী মো. আবদুর রহমান স্যার বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার্থে সুইডেন যাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক রেজাল্ট ও ভাষাগত যোগ্যতা দু’টোই ভালো হওয়া প্রয়োজন। তবে অনেক বিশ^বিদ্যালয়ে পিটিই, টোয়েফল, আইইএলটিএস ছাড়াই এখনও আবেদন করা যায় যা সহসাই বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি জানান, সুইডেনে নিজ খরচে পড়ালেখা করার পাশাপাশি বৃত্তি নিয়েও পড়াশোনা করা যায়। সুইডেনে উল্লেখযোগ্য বৃত্তিগুলোর মধ্যে আছে সুইডিশ ইন্সটিটিউট গেস্ট স্কলারশিপ, দি সুইডিশ ইন্সটিটিউট স্টাডি স্কলারশিপ, ইউনেস্কো ফেলোশিপ ইত্যাদি। তাছাড়া সেদেশে লেখাপড়া চলাকালীন চাকরি করা যায় অন্য সকল দেশের চেয়ে বেশী এবং লেখাপড়া শেষে চাকরি খোঁজার জন্য পাওয়া যায় ৬ মাস সময়। সুইডেন সহ অন্য যেকোনো উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন- কাজী ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন, ভিআইপি টাওয়ার, লেভেল-১, কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম। ফোন- ০১৭২৭২৮৬১১১। ওয়েবসাইট : kaziimmigration.com.bd.
ই-মেইল: [email protected] ফেসবুক:www.facebook.com/kaziimmigration লেখক : প্রবন্ধিক