উখিয়ায় বিশ্ব এইডস দিবস পালন

উখিয়া প্রতিনিধি

4

আজ ১ ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবস। সারাদেশের ন্যায় উখিয়ায় ব্যতিক্রমভাবে পালিত হয়েছে এই দিবস। যেহেতু পুরুষের অংশ গ্রহণ ছিল খুবই কম, বলতে গেলে মহিলাদের তুলনায় মাত্র ১% উপস্থিতি ছিল পুরুষের। বিষয়টিকে পুরুষদের পক্ষ থেকে ভিন্নভাবে দেখেছেন অনেকে। অথচ সারাদেশে এইডস আক্রান্ত রোগীর মধ্যে বেশিরভাগ হচ্ছে পুরুষ। এবিষয়ে পুরুষদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি না করে রহস্যজনকভাবে মহিলাদের নিয়ে র‌্যালি ও সভা করে চলছে এনজিও লাইট হাউজ।
এখন অভিযোগ উঠেছে, এনজিও তাদের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য সব সময় ব্যতিক্রম কিছু করে থাকে, তৎমধ্যে এটি একটি। তাই পুরুষদের বাদ দিয়ে মহিলাদের নিয়ে এইডসের র‌্যালি, সভা করেছে।
এনজিও লাইট হাউজের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাইদুল আলম জানান, আমরা যেহেতু নারীদের নিয়ে কাজ করি, তাই এইডস দিবসও তাদের নিয়ে পালন করেছি। তাহলে পুরুষের অংশ গ্রহণ দরকার ছিলনা, সেখানে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরুষদেরও আমি আমন্ত্রন করেছিলাম কিন্তু আসেনি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে এইচআইভি সংক্রমিত রোগীর ৪২১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২০১৮ সালে ছিল ৩৫০ জন। নতুনভাবে চট্টগ্রামে নভেম্বর ২০১৮ থেকে অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে ৭১ জন। তার মধ্যে ২১৯ জন পুরুষ ও ১৬০ জন মহিলা। এছাড়াও শিশু ছেলে রয়েছে ২৬ জন ও মেয়েশিশু রয়েছে ১৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গ রয়েছে ২ জন।
২০১৮ সালের তথ্য মতে, বিশ্বে এইচআইভির সংক্রমণ কমছে, তবে বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর নতুন করে ৮৬৯ জন সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়েছে। আর এক বছরে মারা গেছে ১৪৮ জন। দেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। তারপর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৫৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। আর এ পর্যন্ত মারা গেছে ১ হাজার ২২ জন। দেশে এইচআইভি সংক্রমিত মানুষ আছে ১৩ হাজারের মতো। কিন্তু তাদের সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এখনো সাধারণ জনগণের মধ্যে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ০১ ভাগের নিচে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, সমকামী ও হিজড়াদের মধ্যে সংক্রমণের হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।এইডস একটি মরণব্যাধি। আবার একজন এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি অতি সহজেই অন্যকে সংক্রমিত করে না। তাই এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিকে আমাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাকে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে সহযোগিতা করতে হবে।