উখিয়ার কাঁচাবাজার রোহিঙ্গাদের দখলে

অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীরা

শফিক আজাদ, উখিয়া

3

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দখলে চলে গেছে উখিয়ার কুতুপালং এলাকার তরি-তরকারি ও নিত্যপণ্যের বাজার। স্থানীয় লোকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও রোহিঙ্গাদের বৈষম্যমূলক আচারণের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে তারা। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রোহিঙ্গারা একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্য করে যাচ্ছে।
সরেজমিন কুতুপালং ১নং ও ২নং ক্যাম্প বাজার ঘুরে দেখা যায়, কুতুপালং বাজারের কাঁচা তরি-তরকারি দোকান গুলোর মালিক অধিকাংশই রোহিঙ্গা। পাশ্ববর্তী লম্বাশিয়া এলাকায় হাজার খানেক দোকান রয়েছে। এসব দোকানের ৯৯ শতাংশ মালিকও রোহিঙ্গা নাগরিক। বাকি ১ শতাংশ স্থানীয় লোকজনের দোকান-পাট থাকলেও রোহিঙ্গাদের বৈষম্যমূলক আচারণের কারণে বেচাকেনা একেবারেই বন্ধ হয়ে পড়েছে। পণ্য বিক্রি না হওয়ায় দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা।
লম্বাশিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, রোহিঙ্গা আশার পর পর সে একটি দা-ছুরির দোকান দিয়েছিল। কিছু দিন চলতে না চলতে তার পাশে কয়েকটি দোকান গড়ে তুলে রোহিঙ্গারা। এরপর থেকে বেচাকেনা কমে যায়। এমনকি এক পর্যায়ে দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সে।
সবজি ব্যবসায়ী ছৈয়দ আলম বলেন, লম্বাশিয়ায় প্রথমে রোহিঙ্গা আসার পর তার একটি মাত্র তরি-তরকারির দোকান ছিল। দৈনিক ১০ হাজার টাকার উপরে কাঁচা মালামাল বিক্রি হত। রোহিঙ্গারা এখানে কয়েকশত দোকান গড়ে তুলেছে। যার ফলে এখন দৈনিক ১ হাজার টাকারও বেচাকেনা হয়না।
সূত্র মতে, আশি দশকের পর থেকে একের পর এক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে উখিয়ার স্থানীয় লোকেরা নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি বাবা-দাদার সময়ে দখলে থাকা জায়গা-জমি ও বসতভিটা ছেড়ে দিয়ে পথে বসতে হয়েছে অনেককে। সরকারের মানবিক মনোভাবের কারণে স্থানীয় লোকজন রোহিঙ্গাদের প্রতি সহনশীল আচরণ করে আসছে। অথচ রোহিঙ্গারা কথায় কথায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় যে সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা কর্তৃক পরিচালিত ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর ভ‚মিকা রাখবে।