ঈদে যাত্রী পরিবহন নিয়ে রেলে দুশ্চিন্তা

রাহুল দাশ নয়ন

25

করোনাকালীন লকডাউনের কারনে ঈদুল ফিতরে চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। এবার লকডাউন প্রত্যাহার হওয়ায় সীমিত আকারে ট্রেন চলাচল করছে। তবে ঈদুল আযহায় সীমিত আকারে যাত্রীবাহি ট্রেন চলবে নাকি আবারো ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হবে সে বিষয়ে এখনো সুষ্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি মন্ত্রণালয়। যে কারনে ঈদে রেল চলাচল নিয়ে সিদ্ধান্ত জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সামাজিক দুরুত্ব মেনে রেল চালানো নিয়ে এখনো রেল প্রশাসন দ্বিধায় আছে বলে জানিয়েছেন রেল সংশ্লিস্টরা।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সরদার সাহাদাত আলী পূর্বদেশকে বলেন, ‘ঈদে ট্রেন চলাচল নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি। কোন সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনাও তেমন একটা দেখছি না। এখন যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে আশা করছি।’
জানা যায়, গত ঈদুল ফিতরে করোনাকালীন লকডাউন থাকায় রেল চলাচল একেবারে বন্ধ রাখা হয়। এসময় বাস চলাচলও বন্ধ থাকায় দূরদূরান্তের মানুষ পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ পালন থেকে বিরত থাকে। এরপরেও কাছাকাছি বাড়ি এমন মানুষদের ঘরমুখো ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। লকডাউন প্রত্যাহার হলে সীমিত আকারে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। সামাজিক দূরত্ব মেনে এক সিটে দুইজন করে যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করছে। আসন্ন ঈদুল আযহায় ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হলেও যাত্রীদের উপচেপড়া চাপ সামাল দিতে মারাত্মক হিমশিম খেতে হবে রেল প্রশাসনকে। সরকার লকডাউন নিয়ে আগামীতে কেমন সিদ্ধান্ত নেয় কিংবা করোনা পরিস্থিতি কেমন অগ্রগতি হচ্ছে তার উপরই ট্রেন চলাচল নির্ভর করছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম পূর্বদেশকে বলেন, ‘ঈদে ট্রেন চলাচলে সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। আমরা পর্যবেক্ষণে আছি। সরকারের সিদ্ধান্তের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি কিভাবে ঈদ যাত্রায় ট্রেন চালানো যায়।’ রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে সুবর্ণ, চট্টলা, মহানগর, মহানগর গোধুলী, মেঘনা, পাহাড়িকা, উদয়ন, ঢাকা মেইল, তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করতো। করোনাকালীন লকডাউন সময়ে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পরে লকডাউন প্রত্যাহার হলে চট্টগ্রাম থেকে তিনটি ট্রেন ঢাকা, সিলেট ও চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরমধ্যে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশ্যে সকাল ৭টায়, বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে মেঘনা এক্সপ্রেস ও রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়। এ তিনটি ট্রেন চলাচল করলেও সব টিকিট বিক্রি হয় অনলাইনে। কাউন্টারে এখনো টিকিট বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দুই সিট মিলিয়ে একজন যাত্রী ট্রেনে চেপে গন্তব্যে যাচ্ছে। এরমধ্যে মেঘনা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হলেও সুবর্ণ এক্সপ্রেসের সব টিকিট বিক্রি হচ্ছে না।
পরিবহন বিভাগের দুইজন কর্মকর্তা বলেন, ঈদে ট্রেন চালু রাখলে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা কঠিন হবে। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে রেল কর্তৃপক্ষ। কারণ যে তিনটি ট্রেন চালু আছে সেগুলো ঈদের সময় চালু রাখতে চাইলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে। কারণ এবারের ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকবে বেশি। ঈদুল ফিতরে যারাই বাড়ি যায়নি তারা এবার বিপুল উৎসাহে বাড়ি যেতে তৎপরতা আছে। ট্রেন কম চললেও প্রচন্ড ভিড়ে বাদুরঝোলা হয়েই বাড়ি ফিরতে চাইবে যাত্রীরা। এতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। যে কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে নাকি সীমিত আকারে চালু থাকবে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপাকে আছে রেল কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘ঈদে যে তিনটা ট্রেন চলছে তা বাতিল করবে নাকি নতুন করে আরো ট্রেন দেয়া হবে কোন নির্দেশনা আসেনি। ঈদের সময় বাদুরঝোলা হয়ে যাত্রী যাবে। যে কারণে ট্রেন চলাচল একেবারে বন্ধও করে দিতে পারে। আবার ঈদের সময় যদি অতিরিক্ত কোচ ও অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হয় তাহলে প্রত্যেক ট্রেনে অসম্ভব ভিড় হতে পারে। এভাবে ট্রেন চালালে সামাজিক দুরুত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে। এরপরেও যেভাবে নির্দেশনা আসবে আমরা সেভাবেই ট্রেন চালাতে প্রস্তুত আছি।’