প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

ঈদের আগে মেঘনা-গোমতি সেতু যান চলাচলে উন্মুক্ত

12

ঈদের কথা শুনলে যেমন আনন্দে শিহরিত হয় শরীর, মন তেমনি অজানা এক আশংকাও মনের কোণে দোলা দেয় এই ভেবে যে, ঘরমুখো মানুষগুলো আদৌ সঠিক সময়ে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে পৌঁছতে পারছে কিনা। বিশেষ করে, সড়ক ও নৌপথের যাত্রীদের আকাশছোঁয়া আনন্দের মধ্যেও এ শংকা থেকেই যায়। এ অবস্থায় সরকারের সড়ক ও সেতু বিভাগসহ ট্রাফিক পুলিশ , হাইওয়ে পুলিশ বিভাগ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও যানজটের নাকাল থেকে কাক্সিক্ষত মুক্তি মিলেনি যাত্রী সাধারণের। অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার সড়ক মেরামত ও যানজটের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি দিতে সরকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রধান দুটি সেতুসহ মোট চারটি সেতু, দুটি উড়াল সড়ক ও চারটি আন্ডাপাস যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবং ঢাকা-উত্তবঙ্গের মহাসড়কের চন্দ্রার মোড় এতদিন যে বিভীষিকাময় সঙ্কট তৈরি করেছে সেখানে উড়াল সেতু এবং আন্ডারপাসের নতুন কার্যক্রমে পথযাত্রীরা অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে নিঃসন্দেহে। গণমাধ্যমগুলো ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উদ্যোগকে জনগণের জন্য বিশেষ উপহার হিসাবে গণ্য করছে। আমরাও এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই।
আমরা লক্ষ্য করে আসছি, উন্নয়নের অগ্র যাত্রায় দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। বিরাট ও মহৎ কর্ম প্রকল্পগুলো একটি আধুনিক বাংলাদেশ উপহার দিতে প্রতিনিয়তই তার লক্ষ্যমাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। শুরু হওয়া উন্নয়নের মহাকর্মযোগের সুফল আজ জনগণের কল্যাণে তাদের নাগালে চলে আসছে। সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন উন্নয়ন ধারায়ও নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার যে অবিস্মরণীয় কর্মপ্রবাহ সবার সামনে স্পষ্ট হচ্ছে, তাতে বলাই যায় যাতায়াত ব্যবস্থায় এক অনন্য বিপ্লব সাধিত হচ্ছে। গত ২৫ মে শনিবার একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই চারটি সেতু, দুটি উড়াল সড়ক, চারটি আন্ডারপাস উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধন হওয়া এ প্রকল্পের মধ্যেই রয়েছে, মেঘনা-গোমতি সেতু। এ সেতু উন্মুক্ত হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে সুদূরপ্রসারী অবদান রাখবে। এমন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্টদের ঈদযাত্রা অনেকটা নির্বিঘ্ন এবং স্বস্তির হবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি সহযোগী পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশের অর্থনীতির ’লাইফলাইন’ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বহুল প্রতিক্ষিত দ্বিতীয মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতি সেতুতে যান চলাচল উদ্বোধন করার পর মাত্র চার থেকে সাড়ে চারঘণ্টার মধ্যে সড়ক পথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পৌঁছে যাচ্ছে যাত্রী। মাত্র কিছুদিন আগেই যেখানে সময় লাগত সাত থেকে আট ঘণ্টা। চার লেন বিশিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু তিনটি ছিল দুই লেনের। ফলে চার পাশে মাত্রাতিরিক্ত যানজটের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হতো গণপরিবহনের। জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকার সহায়তায় এসব সেতুর পাশে চারলেন বিশিষ্ট তিনটি সেতু তৈরি করায় সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তাতে ভোগান্তি কমবে, যাত্রাপথ নিরাপদ এবং স্বস্তির হবে। শুধু সেতু, উড়াল সড়ক কিংবা আন্ডারপাসই নয়, ঈদযাত্রায় আরও একটি পরম প্রাপ্তি ঢাকা-পঞ্চগড় পথে বিরতিহীন ট্রেনের যাত্রা শুরু। যা প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একই দিনে উদ্বোধন করেন। এককথায় এবার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, দেশের পুরো মহাসড়ক একেবারে অবাধ ও মুক্ত না হলেও অনেকটা স্বস্তি এবং আনন্দে যাত্রীদের শঙ্কামুক্ত অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছে দেবে বলে আশা করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ শুরু হওয়ার আগেই জনগণকে দেয়া এমন অভাবনীয় উপহার সত্যিই সম্ভাবনাময় স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার এক নতুন প্রত্যয়।
প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়িত এ প্রকল্পগুলো উদ্বোধনকালে দেশবাসীকে সড়ক পরিবহন আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহবান জানান। একই সঙ্গে বর্তমানে ঢাকাবাসীদের প্রতিদিনের যাত্রায় যানজটের যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে, সেটাও সহ্য করার আবেদন জানান। সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এমন কষ্ট আর জনগণকে ভোগ করতে হবে না বলেও সবাইকে আশ্বস্ত করেন তিনি। চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, শুরু হয়েছে হাইওয়ে এক্সপ্রেস, টানেল, রিংরোডসহ বাইপাস সড়কের কাজ। আগামী দুই বছরের মদ্যে এসব প্রকল্প দৃশ্যমান হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বিড়ম্বনা যাদুঘরেই ঠায় হবে-এমনটি প্রত্যাশা আমাদের। আমরা উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নিরবচ্ছিন্ন কর্মপ্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাক এমনটি কামনা করি।